Latest News

মহারাষ্ট্রে রাজ্যপালের কোন কথায় ‘আহত’ মারাঠিরা, মুখ লুকোতে ব্যস্ত বিজেপি, শিন্ডে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বিতর্কে জড়িয়েছেন মহারাষ্ট্রের (maharashtra) রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি (Bhagat Singh Koshyari)। তাঁর একটি মন্তব্যের জেরে মুখ লুকোতে ব্যস্ত বিজেপি এবং মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে (Eknath Shinde) ও তাঁর শিবসেনা (Shivsena) সতীর্থরা। অন্যদিকে, সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছেন রাজ্যপালের কথার জবাব দেবেন বলে।

ওদিকে, সমাজমাধ্যমে আছড়ে পড়ছে সমালোচনার ঢেউ। দাবি উঠেছে রাজ্যপালকে অবিলম্বে মহারাষ্ট্র ছেড়ে চলে যেতে হবে। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার পাশাপাশি প্রতিবাদে সরব হয়েছে কংগ্রেস, এনসিপি। মুখ খুলেছেন নাগরিক সমাজের একাংশ।

ফলে মহা বিপাকে পড়েছে বিজেপি এবং মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা। রাজ্যপাল তাঁদের ঘরের লোক বলে পরিচিত। ফলে রাজ্যপালের বিরক্তিকর মন্তব্য তাঁরা না পারছে গিলতে, না পারছে ওগরাতে। পরিস্থিতির চাপে মুখ বন্ধ রাখাই শ্রেয় মনে করছেন তাঁরা। অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরে রাজ্যপালের মন্তব্যকে ‘লুজ বল’ ধরে নিয়ে চার-ছয় মারতে ময়দানে নেমে পড়েছেন। শিবসেনার উদ্ধব শিবির মনে করছে, রাজ্যপালের মন্তব্য শিবসেনার রাজনীতির শিকড় ধরে টান মেরেছে। এই সুযোগে বালাসাহেব ঠাকরের রাজনীতি, আবেগ ইত্যাদি হাতিয়ার করে শিন্ডেকে চাপে ফেলা যাবে।

রাজ্যপাল কোশিয়ারি গতকাল রাতে আন্ধেরিতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘মুম্বইকে দেশের অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হয়। কিন্তু এই শিরোপা হাতছাড়া হয়ে যাবে যদি গুজরাতি ও রাজস্থানীরা এই শহর ছেড়ে চলে যান।’ রাজ্যপাল আরও বলেন, গুজরাতি, রাজস্থানী ব্যবসায়ীদের কারবারের জোরেই মুম্বই বাণিজ্যনগরীর তকমা ধরে রাখতে পেরেছে।’

রাজ্যপাল কেন হঠাৎ এমন মন্তব্য করেছেন তা কেউ বুঝে উঠতে পারছেন না। কারণ, মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্যে তামিল এবং তেলুগু ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের অবদানও কম নয়।

রাজ্যপালের এই মন্তব্য মারাঠিদের চরম অবমাননা বলে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা প্রচারে নামে শিবসেনার উদ্ধব গোষ্ঠী। একে একে মুখ খোলে কংগ্রেস, এনসিপি। বালাসাহেব ঠাকরের শিবসেনা গঠনের মূল ছিল মারাঠি জাতীয়তাবাদ। ‘মহারাষ্ট্র মারাঠিদের’, এমন দাবিও বিভিন্ন সময় তুলেছে শিবসেনা। এছাড়া, তাদের মহারাষ্ট্র, বিশেষ করে মুম্বই থেকে উত্তর ভারতীয় খেদাও আন্দোলন একটা সময় তুমুল শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। রাজ্যপাল কোশিয়ারি উত্তরাখণ্ডের মানুষ। সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। শিবসেনার উত্তর ভারতীয় বিরোধী আন্দোলনের ধাক্কা উত্তরাখণ্ডের মানুষের উপরও পড়েছিল। হতে পারে রাজ্যপালের মনে এ নিয়ে খেদ ছিল। তবে দেশের অন্য কোনও প্রান্তের মানুষকে নিয়ে শিবসেনা মুখ খোলেনি তখন।

তবে এটাও সত্যি যে মুম্বই তো বটেই, পুণে, ঠাণে, নাগপুর, নাসিকের মতো মহারাষ্ট্রের বড় শহরগুলিকে ঘিরে যে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠেছে তার পিছনে তামিলনাডু, রাজস্থান, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং গুজরাতের ব্যবসায়ীদের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু রাজ্যপাল কোশিয়ারি যেভাবে পুরো কৃত্বিত্ব গুজরাতি ও রাজস্থানী ব্যবসায়ীদের দিয়েছেন, তাতেই গোল বেঁধেছে।

শিবসেনার সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদির বক্তব্য, রাজ্যপালের মন্তব্য রক্ত জল করে বেঁচে থাকা মারাঠিদের জন্য চরম অপমানজনক। তাঁকে ক্ষমা চেয়ে এই মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে, অথবা তিনি এ রাজ্য ছেড়ে চলে যান।

কংগ্রেস নেতা শচীন সাওয়ান্ত বলেন, ‘এটা ভয়ানক ঘটনা যে একটি রাজ্যের রাজ্যপাল সেই রাজ্যেরই জনগণের মানহানি করছেন।’ তিনি আরও বলেন, এই রাজ্যপালের সময়ে মহারাষ্ট্রের পদে পদে অসম্মান হচ্ছে।’

কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শিবসেনার প্রভাবশালী নেতা সঞ্জয় রাউত। শিন্ডের নাম না করে বলেছেন, বিজেপির অনুগত মানুষ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মহারাষ্ট্রের অবমাননা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: সিবিআই তদন্তের মুখে মদ-নীতি বাতিল, পিছু হঠলেন কেজরিওয়াল

You might also like