Latest News

ইতিহাসের পাতায় মধ্যপ্রদেশ! ২৩ বছর আগের দেখা স্বপ্ন আজ পূরণ করলেন ‘দ্রোণাচার্য’ চন্দ্রকান্ত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। সালটা ১৯৯৮-৯৯। প্রথমবার রঞ্জি ফাইনালে উঠেছিল মধ্যপ্রদেশ। রাজ্যজুড়ে ছিল খুশির হাওয়া। চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত, রাজ্যবাসীকে প্রথমবারের জন্য রঞ্জি জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি, কর্নাটকের বিরুদ্ধে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল চন্দ্রকান্তদের (Chandrakant Pandit)। বিষন্ন মুখে ড্রেসিং রুমের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

ঠিক ২৩ বছর পর, চিত্রটা ঘুরে গেল পুরো ১৮০ ডিগ্রি। অধিনায়ক হিসেবে যা করতে পারেননি, কোচ হিসেবে সেটাই করে দেখালেন তিনি (Ranji Trophy 2022)। যেখান থেকে শেষ করেছিলেন সেখান থেকেই নতুন করে শুরু করলেন চন্দ্রকান্ত। সেই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম (Chinnaswamy Stadium)। এদিন বিষন্ন মুখে নয়, দলের খেলোয়াড়দের কাঁধে চেপে মাঠ ঘুরলেন তিনি। ৪১ বারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বইকে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় ঢুকে পড়ল মধ্যপ্রদেশ, ঢুকে পড়লেন চন্দ্রকান্ত।

Image - ইতিহাসের পাতায় মধ্যপ্রদেশ! ২৩ বছর আগের দেখা স্বপ্ন আজ পূরণ করলেন 'দ্রোণাচার্য' চন্দ্রকান্ত

চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত, ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের দ্রোণাচার্য। আজ যে মুম্বইকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল মধ্য প্রদেশ, সেই মুম্বই দলের কোচ অমল মজুমদারও একসময় চন্দ্রকান্তের কোচিংয়ে খেলেছেন। তখন তিনি মুম্বইয়ের কোচ ছিলেন। আজ তিনি মধ্যপ্রদেশের (Madyapradesh)। দ্রোণাচার্য ও একলব্যের লড়াইয়ে মহাভারতের মত এদিনও জয় হল দ্রোণাচার্যেরই।

২০০৩ ও ২০০৪, মুম্বই রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে হাত ছিল এই দুইজনেরই। নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। চন্দ্রকান্ত ভারতের হয়ে পাঁচটি টেস্ট এবং ৩৬টি এক দিনের ম্যাচ খেলা পণ্ডিতের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩৮টি ম্যাচে রয়েছে ৮২০৯ রান। মুম্বই, মধ্যপ্রদেশ ছাড়াও তিনি খেলেছেন অসমের হয়ে।

কুড়ি বছরের বেশি সময়ের কোচিং অভিজ্ঞতা রয়েছে পণ্ডিতের। মুম্বই ছাড়াও বিদর্ভকে পর পর দু’বছর ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে রঞ্জি জিতিয়েছিলেন। তাঁর দল মানেই শৃঙ্খলা পরায়ন। যে শৃঙ্খলা পণ্ডিত পেয়েছেন রমাকান্ত আচরেকরের থেকে, অশোক মাঁকড়ের থেকে, সেই শৃঙ্খলাই তিনি উজাড় করে দেন তাঁর দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে।

তবে যে দলের হয়েই তিনি কোচিং করুক না, সেই দল চ্যাম্পিয়ন হোক না কেন, এদিনের জয় যে সবকিছুকে ছাপিয়ে যাবে তা বলার অবকাশ রাখে না। কারণ ২৩ বছর আগে যে স্বপ্ন ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছিল এই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামেই। সেই স্টেডিয়ামেই আজ জয়ের আনন্দ।

স্বভাবতই চোখের কোলে আটকে থাকা জল অঝোরে ঝরে পড়ে চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের দুই গাল বেয়ে। ম্যাচ শেষে বলে গেলেন, ২৩ বছর আগের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ায় আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েছেন। বললেন, “অধিনায়ক হিসেবে যা পারিনি কোচ হিসেবে সেটাই পারলাম।”

চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত সারা ভারতে পরিচিত তাঁর সনাতনী কোচিংয়ের জন্য। এক মন্ত্রেই কাত করেন বিপক্ষে। তা হল আঁটোসাঁটো ফিল্ডিংয়ের জন্য। তাঁর কোচিং ম্যানুয়ালের মধ্যেই পড়ে ক্লোজড ফিল্ডিং সেট করা। শুধু তাই নয়, বোলারকে স্বাধীনতা দেওয়া ফিল্ডিং সেট করার। এই মন্ত্রেই সেমিফাইনালে বাংলাকে বধ করেছিল মধ্যপ্রদেশ, এবার মুম্বই।

মুম্বইকে হারিয়ে ইতিহাস লিখল মধ্যপ্রদেশ! রঞ্জিতে নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল ভারত

You might also like