Latest News

ছুটি বেশি, ক্লাস কম, সিলেবাস কি কমবে? অবিলম্বে ঘোষণা চায় শিক্ষা মহল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়ের আগেই গরমের ছুটির ঘোষণা করেছে শিক্ষা দফতর। অতিরিক্ত গরমের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটির ঘণ্টা বেজে গেছে রাজ্যের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও। ফলে স্কুলগুলো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পুরো সিলেবাস (Madhyamik-HS Syllabus) শেষ করার সময় পাবে না মনে করছেন শিক্ষাবিদদের অনেকেই। তাঁদের মতে, দেড় মাস স্কুল ছুটি থাকার ফলে সিলেবাস শেষ করতে বেশ বেগ পেতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের।

তাঁদের এও মত হল, এই অবস্থায় সিলেবাস নিয়ে ভাবা উচিত পর্ষদ বা বোর্ডের। সিলেবাস কমানো নিয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। যদি সত্যিই সিলেবাস কমাতে হয় তবে সে ব্যাপারে যত দ্রুত সম্ভব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ততই ভাল বলে মনে করছেন তাঁরা।

সিলেবাস কমানো নিয়ে কী বলছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা? (Madhyamik-HS Syllabus)

তিলজলা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অভিনন্দা ঘোষ দস্তিদার জানান, “সিলেবাস কমানোর সিদ্ধান্ত নিলে তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিয়ে নেওয়া উচিত। কারণ বাচ্চাদের তাতে সুবিধা হবে। এমনিতেই সময় কমে গেছে অনেকটা। সেটা মেক-আপ করার জন্য ভাবতে হবে। যদি মনে হয় আগেরবারের মত সিলেবাস কমানো হবে, তা হলে তাই হোক, কিন্তু তাড়াতাড়ি হোক। তাতে সবার জন্য ভাল হবে।”

সিলেবাস কমানো হবে কি হবে না সেটা পুরোটাই পর্ষদ ও সংসদের সিদ্ধান্ত। যাই সিদ্ধান্ত আসুক না কেন তা মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে পড়ুয়াদের, এমনই মনে করেন মর্ডানল্যান্ড গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অনন্যা রায়চৌধুরী।

মিল্কিওয়ের মধ্যিখানে প্রকাণ্ড ব্ল্যাকহোল! এই প্রথম প্রকাশ্যে তার ছবি, নাম কী জানেন

তিনি বলেন, “ভবিষতে কী হবে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আমার মনে হয় যদি পড়ুয়ারা সিনসিয়ার হয় তবে তারা যাই সিলেবাস থাকুক না কেন সেটা শেষ করতে পারবে”। তিনি আরও বলেন, “একেবারেই যে অসুবিধা হবে না সেটা নয়। যেমন বিজ্ঞান বিভাগ ধরুন, তাদের স্কুলের ক্লাসটা বেশি জরুরি। তাদের অসুবিধা হবে। যদিও সিলেবাস কী হবে তা নিয়ে এখনই বলা সম্ভব নয়।” পাশাপাশি তিনি এও মনে করেন যে, সিলেবাস নিয়ে যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন সেটা তাড়াতাড়ি জানালে সবার জন্যই ভাল হবে।

সিলেবাস যদি কমানো হয়, তাহলে যেন তা খুব ভাবনাচিন্তা করে করা হয় বলে মনে করছেন যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের সহ প্রধান শিক্ষিক উত্তম মণ্ডল। তাঁর কথায়, “দু’বছর করোনার জন্য পড়াশুনার অবস্থা কী হয়েছে তা কারও অজানা নয়। স্কুল খোলার পরেই এতদিন ছুটি পড়ে গেল সেটা কীভাবে মেক-আপ করা যায় সেটা ভাবতে হবে। আর যদি বোর্ড বা সংসদ সিলেবাস কমানোর কথা ভাবে তবে সেটা যেমন তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত তেমনই মাথায় রাখতে হবে, যে সিলেবাসই কাটছাঁট করে তৈরি করা হোক না কেন সেটা যেন পড়ুয়াদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কথা মাথায় রেখেই করা হয়। এমন কিছু বাদ দিতে হবে যেগুলো পরবর্তী ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের খুব একটা অসুবিধায় ফেলবে না।”

সিলেবাস কমানো হোক বা না হোক, মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সময়ের যে ঘাটতি হচ্ছে তা নিয়ে ভাবা উচিত বলে মনে করেন কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি। অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেড মাস্টার্স এন্ড হেড মিস্ট্রেসের রাজ্য সম্পাদক চন্দনবাবুর কথায়, “এমনিতেই যারা মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে সময় একটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। খুব কম সময়ের মধ্যে বড় সিলেবাস শেষ করতে হয়। এবার সেই সময়ও প্রায় আড়াই মাস কমে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের সিলেবাস কমানো হবে কিনা তা অবিলম্বে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শিক্ষা দফতর, সরকার, বোর্ড ও সংসদকে। কীভাবে অ্যাকাডেমিক প্ল্যান করছে তাও জানাতে হবে। যা পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।”

পড়ুয়া বা অভিভাবকরা কী বলেছেন? (Madhyamik-HS Syllabus)

কমলা চ্যাটার্জি গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী অঙ্কিতা ঘোষ বলে, “আমাদের তো এখনও দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুই হয়নি। স্কুল খুললে রেজাল্ট বেরোলে তারপর শুরু হবে। প্রাইভেট টিউটরের কাছে যতটুকু পড়া হচ্ছে। এমনিতেই আমাদের অনেক বড় সিলেবাস তা শেষ করতে হবে। যদি সিলেবাস কমানো হয় তাহলে ভালই হয়।”

উচ্চমাধ্যমিকের পর অনেক পড়ুয়াই নানান প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসে। সেক্ষেত্রে তাদের সিলেবাস কাটছাঁট হলে পরে অসুবিধায় পরতে হয়। সিলেবাস কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেই কথা যেন ভাবা হয় বলে মনে করছে হলি চাইল্ড স্কুলের ছাত্রী উন্মিষা কাহালি।

তার কথায়, “সিলেবাস কমানো হলে ভাল হবে তবে আমাদের তো বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসতে হয়। সেক্ষেত্রে যদি উচ্চ মাধ্যমিক বা এইসব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সিলেবাস আলাদা হয়ে যায় তাহলে খুব অসুবিধা হবে। সেটাও মাথায় রেখে সিলেবাস করলে খুব ভাল হয়।”

চিন্তিত অভিভাবকরাও। কারণ স্কুল বন্ধ হয়ে যায় পড়াশুনাতে যে গতি এসেছিল তা আবার থমকে গেছে। যতই প্রাইভেট টিউটর থাকুক স্কুলের পড়াশুনার গুরুত্ব বেশি বলে মনে করছেন তাঁরা। সেক্ষেত্রে বড় ক্ষতি হচ্ছে পড়ুয়াদের। সিলেবাস শেষ করার বিষয়েও সময়ের ঘাটতি পড়বে বলে মনে করছেন অভিভাবক মহল।

মেয়ে রাসমণি বালিকা বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছে। বাড়িতে উচ্চমাধ্যমিকের জন্য প্রস্তুতি শুরু করলেও ক্লাস দেরিতে শুরু হওয়ায় চিন্তিত সুদেষ্ণা রায়। তিনি বলেন, “স্কুলে গিয়ে পড়াশুনা করাটা সব সময়ের জন্যই ভাল। এমনিতেই দু’বছর পড়াশুনাতে অনেক ঘাটতি পড়েছে। এমনকি মাধ্যমিক পরীক্ষাও দেওয়া হয়নি। সেখানে দাঁড়িয়ে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক আমার মেয়ের মত ছেলেমেয়েদের কাছে খুবই কঠিন। সেখানে সময় কম হয়ে যাওয়া এত বড় সিলেবাস কীভাবে শেষ করবে সেটাই ভাবছি।”

সুদেষ্ণাদেবীর কথারই সমর্থন করলেন আরেক অভিভাবক প্রতিমা মণ্ডল। তাঁর ছেলে এবার মাধ্যমিক দেবে। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসতে চলেছে বলে এমনিতেই চিন্তায় আছে। দু’বছর স্কুলে না যাওয়ায় যে অনভ্যাস তৈরি হয়েছে তা পড়াশুনার ওপর পড়েছে বলে মত প্রতিমাদেবীর। তিনি জানান, ” স্কুলে পড়াশুনা হওয়াটা খুবই প্রয়োজন। এতগুলো বিষয় এত সিলেবাস সেটা শেষ করার জন্য প্রতিটা বাচ্চাকেই নির্দিষ্ট সময় দেওয়া উচিত। ছুটি পড়ে যাওয়ায় সেই সময় আরও কমে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সিলেবাস নিয়ে বোর্ডের ভাবা উচিত।” গতবারের মত এবারও কি কাঁচি চলবে সিলেবাসে? যদিও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এখনও এই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না জানালেও শিক্ষা মহলে সিলেবাস নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে গেছে।

গরমে নিজেকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

You might also like