Latest News

রানাঘাটের বৃদ্ধাশ্রমে লাভ থ্রিলার, প্রপোজ-রিফিউজ-বিয়ে, যেন সিনেমা!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নচিকেতা চক্রবর্তী দু’দশক আগে যখন বৃদ্ধাশ্রম (Old age Home) গানটা তৈরি করেছিলেন, তার কথা-সুর ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল বাঙালিকে। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা যে আসলে মূল্যবোধের অবক্ষয় তা নচিকেতা তুলে ধরেছিলেন তাঁর গানের প্রতিটি লাইনে। কিন্তু এ এক অন্য বৃদ্ধাশ্রমের খোঁজ মিলল। যেখানে রয়েছে দুই বৃদ্ধ-বৃদ্ধার প্রেমের রোমাঞ্চ (Love story of Old Couple)।

বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিক বৃদ্ধাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন সেখানকারই আবাসিক বৃদ্ধ। শুরুতে তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বৃদ্ধা। কিন্তু প্রেমের কাছে সব কিছু হার মানে। বয়স হারল। রেজিস্ট্রি করে বিয়ে সেরে সংসার পাতলেন ৭০ বছরের সুব্রত সেনগুপ্ত এবং ৬৫ বছরের অপর্ণা চক্রবর্তী।

ওঁদের বৃদ্ধাশ্রমের জীবন

নদিয়ার চাকদহ লালপুরের বাসিন্দা সুব্রত সেনগুপ্ত। তিনি রাজ্য পরিবহণ দফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। তাঁর পরিবারে মা, দুই ভাই ও তাঁদের স্ত্রী- সন্তানরা রয়েছেন। তিনি এতদিন অবিবাহিত ছিলেন। পারিবারিক সমস্যার কারণে ২০১৯ সালের শুরুতে রাণাঘাটের পূর্ণনগর জগদীশ মেমোরিয়াল বৃদ্ধাশ্রমে চলে আসেন। ইচ্ছে ছিল, বাকি জীবনটা এখানেই কাটিয়ে দেবেন।

অপর্ণা দেবীর বাড়ি রাণাঘাটের আইসতলায়। তিনিও অবিবাহিতা ছিলেন। প্রায় ৩০ বছর কলকাতার বেলেঘাটায় একজন অধ্যাপকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেছেন তিনি। শেষ জীবনে বাপের বাড়ির দরজা তাঁর জন্য বন্ধ হয়ে যায়। তিনিও থাকা শুরু করেন এই বৃদ্ধাশ্রমেই।

দেখা হল দু’জনার

দু’জনের প্রথম দেখা বৃদ্ধাশ্রমেই। কেউ কাউকে চিনতেন না। বৃদ্ধাশ্রমে যেমনটা হয়। থাকতে থাকতে আত্মজন হয়ে ওঠেন। পরিবার বিচ্ছিন্ন মানুষ পরিবার ভেবেই আঁকড়ে ধরেন শেষ জীবনের বন্ধুদলকে।

বৃদ্ধের প্রপোজ বৃদ্ধাকে

শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধা অপর্ণাদেবীকে প্রেম নিবেদন করেন বৃদ্ধ সুব্রত সেনগুপ্ত। কিন্তু এখানেই টুইস্ট। সোজাসুজি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বৃদ্ধা।

প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার অভিমান!

এরপর ২০২০ সালের মার্চ মাসে বৃদ্ধাশ্রম ছেড়ে ওই এলাকাতেই ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন সুব্রতবাবু। কারণ মানসিকভাবে হয়তো অপর্ণার মুখোমুখি হওয়া তাঁর সম্ভব হচ্ছিল না।

তারপরই ক্লাইমেক্স

দিন ১০-১২ আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন সুব্রতবাবু। খবর পান অপর্ণা। তাঁকে দেখভালের জন্য এগিয়ে যান তিনি। তারপরই সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করবেন তাঁরা। মননে হয়তো বেজে ওঠে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী গান, ‘এই তো হেথায়, কুঞ্জ ছায়ায়….!’ এই জীবনে যেকটি দিন পাবেন, হেসে-খেলে কাটিয়ে দেবেন দুজন।

অভিভাবক হিসেবে তাঁরা বৃদ্ধাশ্রমের কর্ণধার গৌরহরি সরকারকে বিষয়টি জানান। তারপর রেজিস্ট্রার ডেকে চার হাত এক হয়। এখন সংসার করছেন ৭০-এর সুব্রত আর ৬৫-র অপর্ণা।

অ্যাপ ক্যাবের লাগামহীন ভাড়া, নিয়ন্ত্রণে বিল আনছে রাজ্য সরকার

You might also like