Latest News

উচ্চশিক্ষাই সার, মুর্শিদাবাদের তন্ময় এখন ‘এমএ পাশ লটারিওয়ালা’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লটারির এক টিকিটেই ভাগ্য বদল হয় ক্রেতাদের। লাগলে তুক, না লাগলে তাক। একটা মাত্র টিকিট কেটে কারও না কারও ভাগ্যের শিকে ছিঁড়বেই। কিন্তু বিক্রেতা (Lottery Seller)! তার কী হয়? সেই খোঁজ কেউ রাখে না।

ঠিক যেমন মুর্শিদাবাদের (Mursidabad) নওদার বাসিন্দা তন্ময় চুনারী। স্থানীয় আমতলা বাজারে ছোট্ট টেবিল পেতে লটারির টিকিট বিক্রি করেন তিনি। চোখ টানে সেই টেবিলে লেখা কয়েকটা শব্দ। গোটা গোটা হরফে লেখা “এমএ পাশ লটারিওয়ালা তন্ময়” (MA Pass)।

এমন নামকরণের কারণ জানতে চাইলে তন্ময়ের তখন চোখ ছলছল। বুকে কান্না চেপে বললেন, “এমএ পাশ করার পরেও লটারি বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই অনেক দুঃখেই নামটা লিখেছি।” জানালেন, “সারাদিনে চারশ টিকিট বিক্রি করতে পারলে মেরেকেটে ১৬০ টাকা কমিশন পাই। এই দিয়ে তো আর সংসার চলে না। তাই টিউশনও পড়াই। এই ভাবেই দিন চলছে।”

সম্প্রতি মৃত্যু হয়েছে দাদার। বাড়িতে অসুস্থ মা। দাদার মৃত্যুতে কার্যত মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তন্ময়ের পরিবারে। বাড়িতে হাজারো সমস্যার মধ্যেও চোয়াল শক্ত করে লড়াই চালাচ্ছেন তন্ময়। তিনি বললেন, প্রতিদিন ভোর সাড়ে তিনটেই উঠে হাইস্কুল মাঠে দৌড়াতে যান তিনি। তারপর সকাল ৬টা থেকে টিউশন পড়ান। নিজেও পড়াশোনা করেন। তারপর আটটায় লটারির দোকান খুলতে হয়।

ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন বাবা ছেড়ে যায় তাঁদের। কষ্ট করে বিএ, এমএ পাশ করেছেন। আশা ছিল পুলিশ বা সেনাবাহিনীতে চাকরি করে সংসারের হাল ধরবেন। কিন্তু চাকরি মেলেনি। তাই জীবন সংগ্রামের লড়াইয়ে লটারি বিক্রিকেই বেছে নিয়েছেন তন্ময়। যেখানে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে অনেকেই লটারির টিকিট কিনছেন, সেখানে বসে নিজের ভাগ্য গড়ার লড়াই চালাচ্ছেন নওদার তন্ময়।

You might also like