Latest News

হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীদের ওপরে নজর দেওয়া হয়নি, তাই কেরলে বেড়েছে কোভিড

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কেরলে কীভাবে কোভিড সংক্রমণ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, তা জানার জন সেখানে গিয়েছিল কেন্দ্রের ছয় সদস্যের এক বিশেষজ্ঞ দল। তাঁরা সিদ্ধান্তে এসেছেন, করোনায় আক্রান্ত যে ব্যক্তিরা নিজেদের বাড়িতেই আইসোলেশনে ছিলেন, তাঁদের দিকে সরকার ঠিকমতো নজর দিতে পারেনি। সম্ভবত দেড় বছর ধরে অতিমহামারীর মোকাবিলা করে সরকারি কর্মীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাই নজরদারিতে গাফিলতি হয়েছিল। একটি মহল থেকে প্রচার করা হয়, ইদের পরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই ধারণা ভুল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

দেশ জুড়ে কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভ স্তিমিত হয়ে এলেও কেরলে সংক্রমণ কমেনি। এর কারণ জানার জন্য গত ২৯ জুলাই দক্ষিণের ওই রাজ্যে ছয় বিশেষজ্ঞকে পাঠায় কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি সূত্রে খবর, যে জেলাগুলিতে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে, তাঁরা সেখানে সফর করেছেন। শীঘ্রই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে বিশেষজ্ঞদের টিম।

প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা হয়েছে, যে রোগীরা হোম আইসোলেশনে ছিলেন, তাঁরা অবাধে এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তাঁদের থেকে ছড়িয়েছে কোভিড।

এর মধ্যে জানা যায়, সম্ভবত অক্টোবরেই শীর্ষে উঠবে তৃতীয় ঢেউ। একটি গাণিতিক মডেলে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। মডেলটি তৈরি করেছেন আইআইটি হায়দরাবাদের মাথুকুমাল্লি বিদ্যাসাগর ও আইআইটি কানপুরের মণীন্দ্র আগরওয়াল। ব্লুমবার্গকে ই-মেলে বিদ্যাসাগর জানিয়েছেন, কেরল ও মহারাষ্ট্রের মতো যে রাজ্যগুলিতে কোভিড সংক্রমণ বেশি, সেখানে তৃতীয় ঢেউ আরও তীব্র হতে পারে।

একইসঙ্গে আশার কথাও শুনিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, তৃতীয় ঢেউ অন্তত দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো মারাত্মক হবে না। গত ৭ মে দ্বিতীয় ঢেউ উঠেছিল তুঙ্গে। সেদিন চার লক্ষের বেশি মানুষ সংক্রমিত হন। এবার ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের মাধ্যমেই তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। গত অক্টোবরে ভারতে ওই স্ট্রেনের হদিশ মেলে।

দিল্লি এইমসের প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, দেশে যেভাবে কোভিডের আর ভ্যালু বাড়ছে, তা চিন্তার কারণ। সংবাদমাধ্যমের কাছে গুলেরিয়া জানিয়েছেন, ভারতের আর ভ্যালু কিন্তু দিন দিন বাড়ছে। কঠোর ভাবে কোভিড বিধি মানার ব্যবস্থা না করলে আগামী দিনে বড় বিপদ আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গুলেরিয়া।

এইমস প্রধান এদিন বলেছেন, কোভিড আক্রান্ত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেড়ে চলেছে। যেসব জায়গায় দৈনিক সংক্রমণ বেশি হচ্ছে সেখানে অবিলম্বে বিধিনিষেধ আরোপ করা দরকার। দরকার ‘টেস্ট, ট্রাক, ট্রিট’ (পরীক্ষা, শনাক্তকরণ, চিকিৎসা) পদ্ধতি অনুসরণ। তবেই ভাইরাসের শৃঙ্খল ভাঙা সম্ভব হবে।

You might also like