Latest News

সরকারি বৈঠকে লালুর বড় জামাই, নীতীশের অস্বস্তি বেড়েই চলেছে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অষ্টমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) অস্বস্তি বেড়েই চলেছে। এবার অস্বস্তির কারণ বন ও পরিবেশমন্ত্রী তেজপ্রতাপ যাদব (Tejpratap Yadav)। তিনি আরজেডি সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদবের (Lalu Prasad Yadav) বড় ছেলে। ছোট ছেলে তেজস্বী বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী। তেজপ্রতাপ পদাধিকার বলে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান। নতুন মন্ত্রী হিসাবে পর্ষদের অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে সারাক্ষণ উপস্থিত ছিলেন শৈলেশ কুমার রানা (Sailesh Kumar Rana)।

তিনি লালুপ্রসাদের বড় মেয়ে মিসা ভারতীর স্বামী অর্থাৎ তেজপ্রতাপের জামাইবাবু (Son in Law)। শ্যালক মন্ত্রীর সঙ্গে এক গাড়িতে বৈঠকে যোগ দিতে যান জামাইবাবু। অফিসারেরা তাঁকে গাড়ি থেকে নামতে দেখে গেস্ট রুমে বসার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু শ্যালক তেজপ্রতাপ জামাইবাবুকে সঙ্গে নিয়ে কনফারেন্স রুমে ঢোকেন। অফিসারদের সঙ্গে বসে শৈলেশকেও আলোচনায় অংশ নিতে দেখা যায়।

নীতীশ কুমারকে ইতিমধ্যেই তাঁর আইন ও শিক্ষামন্ত্রীরা অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছেন। আইনমন্ত্রী একটি অপহরণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত। আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যাওয়ার দিনেই তিনি রাজভবনে গিয়ে শপথ নেন। তিনি আত্মসমর্পণ না করলে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবে। অন্যদিকে, চাল চুরির অভিযোগ রয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে।

নতুন তৃণমূল দেখতে কেমন হবে?

তেজপ্রতাপের বৈঠকের ঘটনা জানাজানি হতে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে বিহারে। প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি বৈঠকে কীভাবে লালুপ্রসাদের জামাই উপস্থিত থাকতে পারেন? শৈলেশ আবার আরজেডি’র সোশ্যাল মিডিয়া সেলের দায়িত্বে। এই সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান তাঁর স্ত্রী রাজ্যসভার সাংসদ মিসা। তথ্যপ্রযুক্তির ইঞ্জিনিয়ার শৈলেশ একটা সময় মাইক্রোসফটের বড় পদে চাকরি করতেন। বিয়ের কিছুদিন পর চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন।

তেজপ্রতাপের জামাইবাবুকে খাতির করে সরকারি বৈঠকে নিয়ে হাজির করার মধ্যে অনেকে লালুপ্রসাদ-রাবড়ি দেবীর সংসারের ঘরোনা বিবাদের গন্ধ পাচ্ছে। ছোটভাই তেজস্বীর উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়া এবং তাঁকেই দলে লালুপ্রসাদের উত্তরসুরি বেছে নেওয়ার ভাবনাচিন্তা নিয়ে গৃহ অশান্তি চরমে উঠেছে। লালুপ্রসাদের মুখে একটা সময় ঘন ঘন প্রথম সন্তান মিসার কথা শোনা যেত। লালুপ্রসাদের চিকিৎসার তদারকি, শুশ্রূষা মিসাই করছেন।

কিন্তু রাজ্যসভার সদস্য করা ছাড়া দলে তাঁকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, ছোটভাই তেজপ্রতাপের সঙ্গে তেজস্বীর বাক্যালাপ নেই বললে চলে। তেজস্বীকে উপমুখ্যমন্ত্রী করায় কার্যত ভাইয়ের নেতৃত্ব মেনে নিতে হয়েছে তেজপ্রতাপকে। পারিবারিক বিবাদের কারণে একাধিকবার দল ছাড়ার ঘোষণা করেন লালুর বড় ছেলে। কারও কারও মতে, লালু-রাবড়ির বড় মেয়ে ও বড় ছেলে ছোট ভাই তেজস্বীর বিরুদ্ধে হাত মিলিয়েছেন। তাই জামাইবাবুকে খাতির করে সরকারি বৈঠকে নিয়ে গিয়েছিলেন তেজপ্রতাপ।

বিজেপি সরকারি বৈঠকে শৈলেশের উপস্থিতি নিয়ে নীতীশ কুমারের মুণ্ডপাত করতে ছাড়ছে না। নীতীশের উদ্দেশে বিজেপির কটাক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী বরং শৈলেশকে মন্ত্রিসভায় নিলে ভাল করতেন। তাতে মন্ত্রিসভায় একটা শিক্ষিত মানুষ অন্তত জায়গা পেত।

You might also like