Latest News

ঘরে লক্ষ্মীর ছড়াছড়ি, তবু পেট চলছে না পটশিল্পীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরে লক্ষ্মীর (Lakshmi) ছড়াছড়ি। তারই মাঝে বসে আছেন শিল্পী। হাতেও তাঁর লক্ষ্মীর পট। মাটির সরার ওপর যত্ন করে তুলি বুলিয়ে লক্ষ্মী প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন নিরন্তর। তবে ঘরে আজও লক্ষ্মী এল না। সংসারে চরম অভাব। করোনা আবহে এবছর কেনা দামেই ছেড়ে দিতে হচ্ছে লক্ষ্মীর পট। সামান্য লাভটুকুও থাকছে না। দেবী লক্ষ্মীর আগমনের আগে সেই দুঃখ দুর্দশার কথাই শোনালেন নদিয়ার পটশিল্পীরা।

বলিউডে শিলাজিৎ, এবার নেটফ্লিক্সের পর্দা কাঁপাতে তৈরি বাংলা গানের ‘অ্যান্টিসোশ্যাল’

শারদীয়ার ধুমধাম শেষে উমা বিদায় নিতেই সাময়িক বিষাদ। তারপর আবার ঘর আলো করে পায়ের ছাপ ফেলেন লক্ষ্মীদেবী। কোজাগরী পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপুজো ঘিরে আবারও মেতে ওঠে বাঙালি। তবে তার আগে থেকেই শিল্পীমহলে শুরু হয়ে যায় ব্যস্ততা। রাশি রাশি মূর্তি বানানো, পট আঁকা অনেক পরিশ্রমের ব্যাপার। পুজোর কয়েক মাস আগে থেকে শুরু না করলে চলে না।

গ্রামবাংলায় মূলত দুভাবে লক্ষ্মীর আরাধনা হয়। চিরাচরিত প্রথায় মূর্তি স্থাপন করা ছাড়াও সরার ওপর পটচিত্র এঁকে তাতে পুজো করা হয়। সাধারণত বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষরাই পটে আঁকা লক্ষীর আরাধনা করে থাকেন। সেই ছবি আজও দেখা যায় বাংলার ঘরে ঘরে।

নদিয়ার আরংঘাটা আর তাহেরপুর এলাকায় লক্ষ্মীর পট তৈরি হয়। মাটির সরার ওপর পটচিত্র এঁকে বিক্রি করেন শিল্পীরা। বছরের অন্য সময় নানানরকম মাটির জিনিস বানান তাঁরা, কিন্তু পুজোর তিন-চার মাস আগে থেকেই মূর্তি আর সরা তৈরির ব্যস্ততা পড়ে যায়।

মাটি চটকে ছাঁচে ফেলে তাকে সরার আকৃতি দেওয়া হয়। তারপর শুকিয়ে নিয়ে দেবীর ছবি আঁকা হয় সেই পটে। তবে আজকাল আর লক্ষ্মীর পট গড়ে কোনও লাভ হচ্ছে না বলেই জানান শিল্পীরা। ঘরেই এত লক্ষী তবু হতাশার সুর ভেসে এল আরংহাটা আর তাহেরপুর এলাকায়। মহামারি শেষে আগামী বছর কি সহায় হবেন লক্ষ্মী? নাহলে যে সংসার বাঁচাতে অন্য পেশায় চলে যেতে হবে!

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like