Latest News

Kunal Ghosh: কুণালের স্পর্ধার উৎস কী, কার আলোয় আলোকিত, কৌতূহল তৃণমূলে!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) যেন তৃণমূলের আন্দ্রেঁ রাসেল!

এমনিতে বরাবরই বেপরোয়া তিনি। আর এবার হঠাৎ যে ঝোড়ো ইনিংস খেলা শুরু করেছেন কুণাল তাতে শাসক দল (TMC) তো বটেই, বিরোধীরাও অনেকে বুঝে উঠতে পারছেন না ব্যাপারটা কী!

শাসক দলের মধ্যে বিড়ম্বনা এই যে কার আলোয় আলোকিত কুণাল (Kunal Ghosh)? কোথা থেকে এত স্পর্ধা হচ্ছে, যাতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রীকে ঘাড় ধরে জেলে ঢোকানোর কথা বলছেন! আর বিরোধীরা দেখছেন, একি কুণাল তো আমাদেরই কথা বলে দিচ্ছে, তা হলে আমরা কী বলব! ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শুভেন্দু অধিকারী আর কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া হুবহু মিলে যাচ্ছে। যেমন, অনুব্রত প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেছেন, এসএসকেএমের উডবার্ন তৈরি হয়েছিল ভিভিআইপি পেশেন্টদের জন্য। আর এখন দাগী অপরাধীদের গা ঢাকা দেওয়ার জায়গায় হয়েছে উডবার্ন। আর কুণাল সোমবার আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছেন, উডবার্ন তো কয়েদীদের শেল্টার হয়ে উঠেছে!

আরও পড়ুন: হাঁসখালি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ‘প্রেগন্যান্ট, লাভ অ্যাফেয়ার’ মন্তব্য, যা বললেন বুদ্ধিজীবীরা

সারদা কাণ্ডে সাড়ে তিন বছর জেলে থাকার পর কুণাল তৃণমূলে অলিখিতভাবেই নির্বাসনে ছিলেন। মুখোমুখি দেখা হলেও দলের অনেকে কুণালকে এড়িয়ে চলতেন, পাছে নম্বর কাটা যায়। তৃণমূলে সেই কুণালের রি-এন্ট্রি হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। এমনকি শাসক দল ও রাজ্য রাজনীতির একটা বড় অংশের ধারণা হল, তাঁকে রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র করার নেপথ্যে রয়েছেন অভিষেকই।

স্কুল সার্ভিস নিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে সিবিআই তদন্তকে ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতি সরগরম। এই পরিস্থিতিতে কুণাল গত শুক্রবার বলেছিলেন, ওই কেলেঙ্কারি বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সময়ে হয়নি। এ ব্যাপারে যা বলার বুঝিয়ে বলতে পারবেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

কুণালের এই মন্তব্য নিয়ে আন্দোলিত হয়ে ওঠে তৃণমূল। কারণ, অনেকেই ধারণা করেন যে কেলেঙ্কারির দায় পার্থর ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছেন কুণাল। এবং তখনই প্রশ্ন ওঠে, কুণালকে দিয়ে কি এটা বলানো হল? পরদিন কুণালের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ববি বলেন, কুণাল মন্ত্রিসভার কেউ না। কোনও কেলেঙ্কারি হয়নি। প্রক্রিয়াগত ত্রুটি হলে তার তদন্ত হবে। এর জন্য পার্থদাকে একা দায়ী করা ঠিক হবে না। কোনও ত্রুটি হয়ে থাকলে গোটা মন্ত্রিসভা সে জন্য দায়ী।

ববির সেই প্রতিক্রিয়া হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ফের মুখ খোলেন কুণাল। তিনি বলেন, ভাড়াটে সৈন্যদের নামানো হয়েছে দেখছি! আর সোমবার একেবারে স্টেপ আউট করে বলেছেন, “আইকোর মডেলকে যিনি তুলে ধরেছিলেন, আইকোরের মঞ্চে উঠে বক্তৃতা করেছিলেন তিনি আজ মন্ত্রী। তিনিই তখন আমাকে পাগল বলেছিলেন। তিনি এখন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁকে ঘাড় ধরে জেলে ঢোকানো উচিত”। সেই সঙ্গে কুণাল এও বলেন, “এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ড এখন কয়েদীদের জায়গা।”

কুণালের এদিনের মন্তব্য শব্দবোমার মতো যেন আছড়ে পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তিনি এ কথা যখন বলেছেন, তার কিছু পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায় শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। সেই অনুষ্ঠানের পর পার্থবাবুকে কুণালের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, “আমি কিচ্ছু বলব না, কিচ্ছু না”।

তবে পার্থবাবু কিছু না বললেও, দলের অনেকে মনে করছেন কদিন আগে দলের মধ্যে নবীন-প্রবীনের সংঘাত তৈরি হয়েছিল, কুণালের এই মন্তব্যের নেপথ্যে আসলে সেই রসায়নই রয়েছে। এবং সম্ভবত সেই কারণেই কুণালের এহেন মন্তব্যের প্রতিবাদে ফের এককাট্টা হচ্ছেন প্রবীণরা।

You might also like