Latest News

ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় জনজোয়ার, মাস্ক-দূরত্বের বালাই নেই, থিকথিকে ভিড়ে করোনা নিয়ে চিন্তা চরমে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাইকোর্টের নির্দেশ কতটা মানা হচ্ছে সে নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। রাজ্য সরকারের গাইডলাইন, পুলিশের কড়াকড়ি সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শহরের রাজপথে মানুষের ঢল নেমেছে পঞ্চমীর সন্ধ্যা (Durga Puja) থেকেই। ষষ্ঠীর বিকেলে শহরের পথে জনজোয়ার দেখে চমকে উঠেছেন পুলিশ কর্তারাও। কাতারে কাতারে মানুষ বেরিয়ে পড়েছেন ঠাকুর দেখতে। ছোট বাচ্চাদের নিয়েই ভিড়ে গুঁতোগুঁতি করছেন মা-বাবারা। অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং মানার তো বালাই নেই। একে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের চিন্তা, তার ওপর এমন থিকথিকে ভিড় দেখে চিন্তা চরমে উঠেছে প্রশাসনের।

শ্রীভূমিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে। উত্তর কলকাতা থেকে দক্ষিণ, বেশিরভাগ পুজো মণ্ডপের বাইরেই গাদাগাদি ভিড়। দর্শনার্থীরদের নিয়ম ভাঙতে যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনি বেশিরভাগ পুজো কমিটিও নিয়ম-বিধির তোয়াক্কা করছেন না। মণ্ডপের বাইরে সেই ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাক্কি চলছেই। পুলিশ দেখলে মুখে মাস্কটুকু রাখছেন অনেকে, ফাঁক বুঝলেই মাস্ক নেমে যাচ্ছে থুতনির নীচে।

চিন্তা বাড়ছে শিশুদের নিয়ে। একদম ছোট বাচ্চাদের নিয়েও পুজো মণ্ডপে আসতে দেখা গেছে অভিভাবকদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাকরণ এখনও শুরু হয়নি। এমনিতেও কোভিডের তৃতীয় ঢেউতে বাচ্চাদের নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। কোমর্বিডিটি রয়েছে অনেক শিশুর। তার ওপরে রাজ্যজুড়ে ভাইরাল নিউমোনিয়া-রেসপিরেটারি ভাইরাসের উপদ্রবও বেড়েছে। এসবের মধ্যে শিশুদের ভিড়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাবা-মায়েরা যা রীতিমতো উদ্বেগের কারণ।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল আগেই সংক্রমণ বৃদ্ধির ৯টি কারণ চিহ্নিত করেছিলেন, যেগুলির মধ্যে রয়েছে গোষ্ঠী সংক্রমণ, কোভিড বিধি লঙ্ঘন, বয়স্কদের সংক্রমণের হার, অসংক্রামক রোগ তথা কোমর্বিডিটির কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধি, ডেল্টা স্ট্রেনের প্রকোপ, উৎসব-অনুষ্ঠানে ভিড় ইত্যাদি। আমাদের পশ্চিমবঙ্গেও এইসব কারণেই সংক্রমণ ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছিল দ্বিতীয় ওয়েভে। কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আসন্ন। আমাদের রাজ্যেও ঠিক সেই কারণে ফের সংক্রমণের কার্ভ শীর্ষে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। গত কয়েকমাসে সংক্রমণের হার যেভাবে নেমেছিল, এখন তা ফের ঊর্ধ্বমুখী। অনুষ্ঠানবিধিতে নিয়ম মানার নির্দেশ দিলেও, মানুষজন বেপরোয়া। পুজোর ভিড় সংক্রমণের হার আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক আগেই হিসেব দেখিয়েছিল, কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার বৃদ্ধিতে গোয়া ও পুদুচেরীর পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মে মাসেই সংক্রমণের হার ছিল ৩৪ শতাংশের বেশি। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে রাজ্যে। কারণ কোভিড টেস্ট সমস্ত জেলায় সমানভাবে হচ্ছে না। তাছাড়া মাস্ক-বিধিও মানা হচ্ছে না সব জায়গায়। মাস্ক না পরার হার যেমন বেশি, তেমনি ঠিক মতো মাস্ক পরছেন না এমন লোকজনের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বেশিরভাগেরই মাস্ক কান থেকে ঝুলছে বা থুতনির নীচে নামানো। নাক-মুখ ঢাকেনি পুরোপুরি। সমীক্ষা বলছে, শহরগুলিতে মাস্ক পরছেন না এমন মানুষজনের সংখ্যা ৪৩ শতাংশের মতো, ঠিকমতো মাস্ক পরছেন না এমন মানুষজন ১৯ শতাংশ। পুজোর এই সময় মাস্ক না পরে রাস্তায় ঘোরাঘুরি আরও বেড়ে গেছে। তাই সবমিলিয়ে সিঁদুরে মেঘই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like