Latest News

২৯ অবধি অনশন, বিচারপতিরা বোঝানোর পরও অনড় আরজি করের আন্দোলনকারী মেডিকেল পড়ুয়ারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করে (R G Kar) স্বাস্থ্য পরিষেবা স্বাভাবিক করতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। সোমবার দুপুর ২টো নাগাদ এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্তের ডিভিশন বেঞ্চে। আজকের শুনানির জন্য আরজি করে বিক্ষোভকারী জুনিয়র ডাক্তার ও ইন্টার্নদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন বিচারপতিরা। ভরা এজলাসে পড়ুয়াদের সমস্ত অভিযোগ, দাবিদাওয়া শোনেন দুই বিচারপতি। আন্দোলন তুলে নেওয়ার অনুরোধও করেন।

কিন্তু তাতে চিড়ে ভেজেনি। আগামী ২৯ তারিখ অবধি অনশন-আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা।

এদিন আদালত কক্ষে পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন দুই বিচারতি। এই প্রথমবার আদালতের এজলাসে বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে দেখা গেল ভারপ্রাপ্ত বিচারপতিদের।

পড়ুয়াদের মুখেই তাঁদের সমস্ত অভিযোগ শোনেন বিচারপতিরা। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। সব দাবি মানা হবে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও লাভ হয়নি। উল্টে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। তাই যতক্ষণ না দাবি পূরণ হচ্ছে তাঁরা আন্দোলনের পথ থেকে সরবেন না।

অভিযোগকারী পড়ুয়াদের বক্তব্য শোনার পরে বিচারপতিরা বলেন, আপনারা চিকিৎসক, সেটা ভুলে গেলে চলবে না। আন্দোলনের পরিপন্থী কেউ নয়, কিন্তু হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা সচল রাখাও দরকার। আন্দোলন তুলে নেওয়ার কথা বলে ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু রাজি হয়নি পড়ুয়ারা। আরও তিনদিন টানা অনশন চলবে বলে জানানো হয়েছে। ২ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

২৯ তারিখ বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করবেন রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। জানা গেছে, ওই দিন সকাল ১১টা নাগাদ স্বাস্থ্যভবনে ছাত্রছাত্রীদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনামা বুঝিয়ে অনশন তোলার কথা বলা হবে পড়ুয়াদের। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা সচল রাখতেই হবে। হাসপাতাল চত্বরে মাইকিং করা যাবে না। কোনওরকম মিটিং বা মিছিল করতে পারবেন না পড়ুয়ারা। সঙ্কটাপন্ন রোগীদের ফেরানো যাবে না কোনওভাবেই। আউটডোরে রোগী এলেও চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হবে। আন্দোলনকারীরা যাতে প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত না দেয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like