Latest News

বড়দিন উপলক্ষে কেকের চাহিদা নিউ মার্কেটে, জেনে নিন বিখ্যাত কেকের দোকানের নাম ও দাম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়দিন মানেই কেক, আর কেক মানেই ভেসে ওঠে কলকাতার নিউ মার্কেট চত্বরের কিছু কেকের দোকানের কথা। সারা বছরই এখানে কেক, পেস্ট্রি, ক্রিম রোলের চাহিদা থাকে। কিন্তু বড়দিন হলে কেকের চাহিদা বাড়ে এইসব দোকানে।

তাই বড়দিনের মরসুমে নতুন কিছু কেকের সম্ভার নিয়ে পসার সাজায় তাঁরা। নিউ মার্কেটের ভেতরে শতাব্দী প্রাচীন নাহুম’স ঘুরলে চোখে পড়বে বড়দিনের আগে মানুষের কেকের চাহিদা। লোকের চাহিদা পূরণ করতে করতে নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় নেই কর্মচারীদের।

প্রতিবছরের মত বড়দিন উপলক্ষ্যে বাজারে এসেছে নাহুমসের স্পেশাল ফ্রুট কেক, রিচ ফ্রুট কেক, লাইট প্লাম কেক। এছাড়াও দেদার বিকোচ্ছে নাহুমসের বিখ্যাত হার্ট কেক। ৩৫ টাকা পিসের এই কেক যেন গরম কচুরির মত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় এবারও কিছুটা দাম বেড়েছে কেকের। যেমন স্পেশাল ফ্রুট কেক হাফ কিলোর দাম ৫৫০ টাকা, রিচ ফ্রুট কেক ৪০০ গ্রামের দাম ৩৮০। আর বিখ্যাত লাইট প্লাম কেকের দাম ৪০০ গ্রামের দাম ৩২০ টাকা।

১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দোকানের এক কর্মচারী অতনু চ্যাটার্জির কথায়, ‘এই দোকানে সারা বছরেই কেকের চাহিদা থাকে। তবে আগের বছর অনেকেই আসেনি। বড়দিনের সময় ভিড়টা বাড়ে। ২০ তারিখের পর থেকে লম্বা লাইন পড়ে দোকানের বাইরে।’

নাহুমস-এর সঙ্গেই কলকাতায় প্রাচীন আমলের আরও দুটি কেকের দোকানের নাম উঠে আসে। মল্লিক কনফেকশনার্স আর ইম্পিরিয়্যাল বেকার্স অ্যান্ড কনফেকশনার্স। নাহুমের পাশাপাশি এই দুটি দোকানও পুরনো কলকাতার আমল থেকে সুনামের সঙ্গে কেকের ব্যবসা করে আসছে। বড়দিনের সময় ভিড় বাড়ে এই দোকানগুলোতেও।

ইম্পিরিয়্যাল বেকার্স অ্যান্ড কনফেকশনার্সও বয়েসে দেড়শোর কাছাকাছি। কেকের জন্যই বিখ্যাত নিউ মার্কেটের এই দোকানটি। বড়দিন উপলক্ষ্যে নানান ধরণের কেক এসেছে দোকানে। যেমন ডান্ডি কেক, স্পেশাল ফ্রুট কেক, প্লাম কেক, রিচ বাটার ফ্রুট কেক, রয়্যাল কেক। এছাড়াও আছে আমন্ড, ব্যানানা, ওয়ালনাট ও জাম্বো কেক।

দামও খুব একটা বেশি নয়। তবে আগের বছরের তুলনায় একটু দাম বেড়েছে কেকের এই শতাব্দী প্রাচীন দোকানে। বিখ্যাত ডান্ডি কেক ৪০০ গ্রামের দাম ৩৮০ টাকা। বাকি কেক সবই তিনশো গ্রামের দাম ২০০ থেকে ২৫০-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। দোকানের কর্মী শেখ জাহাঙ্গীর রহমান জানান, ‘আমাদের সব পুরোনো খদ্দেরই বেশি। দাম একটু বাড়লেও তাঁরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কোয়ালিটি ঠিক রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেটাই করে যাওয়া হয়।’

শতাব্দী প্রাচীন মল্লিক কনফেকশনার্স দোকানে এবারও কেকের চাহিদা তুঙ্গে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর এখনও পর্যন্ত তেমন চাহিদা না থাকলেও আগামী কয়দিনে ভিড় বাড়বে বলে আশাবাদী দোকানের কর্মী লক্ষ্মী মল্লিক।

জিনিসের দাম বাড়ায় কিছুটা কেকের দাম বেড়েছে এখানেও। তবে সেটা খুব বেশি নয় বলেই জানান লক্ষ্মীবাবু। তাঁর কথায়, ‘ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে কোয়ালিটির সঙ্গে আপোষ না করে খুবই সামান্য দাম বেড়েছে কেকের।’ এই দোকানেও ক্রিসমাস স্পেশাল ফ্রুট কেক। পাউন্ড প্রতি কেকের দাম ২৫০ টাকা। বিভিন্ন দামের এই ফ্রুট কেক আছে দোকানে। সবচেয়ে স্পেশাল কেকের দাম ৩৫০ টাকা রাখা হয়েছে এবার।

জিনিসের দামের সঙ্গে সঙ্গে কেকের দাম একটু বাড়ায় খুব একটা অখুশি নন ক্রেতারা। বেশি না হলেও অল্প করেই নিউ মার্কেট চত্বরের কেকের স্বাদ নিতেই ভিড় জমাচ্ছেন। এমনই এক ক্রেতা মৌসুমি সেন জানান, ‘প্রতিবছরই এই সময়ে নিউমার্কেটে এসে কেক কিনে নিয়ে যাই। আমার বাড়ির সবাই এখানকার কেক ভালোবাসে।’

তাই বড়দিনের আগে কেকের স্বাদ নিতে ঢুঁ মারতেই হবে নিউ মার্কেট চত্বরে। শতাব্দী প্রাচীন দোকানগুলোর কেকের স্বাদ যদি এখনও না নিয়ে থাকেন তবে জলদি পৌঁছে যান। কিনে নিন নিজের পছন্দের কেক।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like