Latest News

বিস্ফোরক অভিযোগ আরজি করে, বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে বেশি টাকা দিয়ে করতে হচ্ছে পরীক্ষা, চলছে দেদার অনিয়ম  

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি হাসপাতালের ল্যাবরেটরিগুলোকে সাহায্য করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কিছু বেসরকারি সংস্থাকে। অথচ রোগীর পরিবারদের অভিযোগ, ওই সংস্থাগুলি তাঁদের বাধ্য করছে বেশি টাকা দিয়ে সেখান থেকে পরীক্ষা করানোর। রোগীর বেড থেকে নমুনা সরাসরি চলে যাচ্ছে সেইসব বেসরকারি সংস্থার ল্যাবরেটরিতে। এই কাজে নাকি যুক্ত রয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরাই। এই বিষয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ আসছে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে বেসরকারি সংস্থা ‘প্রোব’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন রোগীর পরিবার।

সরকারি হাসপাতালের নিয়ম, ডাক্তার কোনও পরীক্ষা করানোর কথা লিখে দিলে রোগীর কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পাঠানো হয় ল্যাবরেটরিতে। সেখানে পরীক্ষার পর রিপোর্ট পৌঁছে দেওয়া হয় রোগীর পরিবারের হাতে। তারপর তা দেখেন ডাক্তারবাবুরা। কিন্তু কোনও পরীক্ষা যদি হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে না হয়, তাহলে তা পাঠানো হয় সেই হাসপাতালে থাকা বেসরকারি সংস্থার ল্যাবরেটরিতে। যদিও সেই পরীক্ষার জন্য রোগীর পরিবারকে কোনও টাকা দিতে হয় না। টাকা দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই।

কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে সেই ছবিতে বদল এসেছে। কী রকম?

আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বারাসাতের বাসিন্দা মাসুদা বিবি। অন্তঃসত্ত্বা মাসুদার জ্বর হয়েছে। বারাসাত জেলা হাসপাতাল থেকে রেফার করার পর ২ ডিসেম্বর থেকে আরজি কর হাসপাতালের ফিমেল ওয়ার্ডের ৩ নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছেন তিনি। তাঁকে টাইফয়েড, আইজিএম, স্ক্রাব টাইফাস, ইউরিন কালচার, রক্তের সিআরপি প্রভৃতি পরীক্ষার নির্দেশ দেন ডাক্তার। মাসুদার স্বামী শাকিব আলির অভিযোগ, নার্স রক্ত নেওয়ার পরেই হাসপাতালের এক কর্মী তাঁকে বলেন তাঁর সঙ্গে টাকা নিয়ে নীচে গিয়ে তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করিয়ে নিতে। তাঁকে হাসপাতালের গ্রাউন্ড ফ্লোরে ‘প্রোব’-এর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

শাকিবের অভিযোগ, তাঁকে বলা হয় রক্ত পরীক্ষার জন্য ১৩০০ টাকা লাগবে। টাকা না থাকায় শাকিব সেদিন পরীক্ষা করাতে পারেননি। পরের দিন তাঁর কাছে একই পরীক্ষার জন্য ১৬৯০ টাকা চাওয়া হয়। বাধ্য হয়ে আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে টাকা দেন তিনি। বুধবার রক্তের সিআরপি পরীক্ষার জন্য ফের ৪০০ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না থাকায় তিনি হাসপাতালের সুপার মানস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

একই অভিযোগ হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরও কিছু রোগীর পরিবারের। তাঁরা জানিয়েছেন, যেসব পরীক্ষা হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতেই হয় সেইসব পরীক্ষার জন্য তাঁদের ১০০০, ১২০০, ২৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। কোনও পরীক্ষার কথা লিখে দিলেই সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ে হাসপাতালের কর্মীরা চলে যাচ্ছেন ‘প্রোব’-এর অফিসে। রোগীর পরিবারকে হাসপাতালের ল্যাবরেটরির ধারেকাছেও ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। এসব হচ্ছে হাসপাতাল কর্মীদের প্রত্যক্ষ মদতেই। প্রতিদিন রোগীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার জালিয়াতি করছে এই সংস্থা।

এই অভিযোগের পর সুপার মানস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি খতিয়ে দেখবে এই কাজে কেউ যুক্ত আছে কিনা। আরজি কর হাসপাতালের অধ্যক্ষ শুদ্ধোদন বটব্যাল জানিয়েছেন, “বিষয়টি বেশ গুরুতর। এই বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি। এভাবে চলতে পারে না। অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই অভিযোগের ব্যাপারে ‘প্রোব’-এর ম্যানেজার অমিতাভ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করা হলে ফোনে পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে কথা হলে সেই বক্তব্য প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।

You might also like