Latest News

মুখগহ্বরে বিপজ্জনক টিউমার, কাটাছেঁড়া না করেই সার্জারি করল কলকাতার নারায়ণ হাসপাতাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখের মধ্যে তালুতে অসম্ভব যন্ত্রণা ছিল প্রৌঢ়ার। বছর ৬৩ বয়স। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছিল মুখের ভিতরে ঠোঁটের নীচে রয়েছে মাঝারি মাপের একটা টিউমার। কোভিডের সময় টিউমার সার্জারি করার ঝুঁকি নিতে চায়নি অনেক হাসপাতালই। তার ওপর প্রৌঢ়ার নানা রকম কোমর্বিডিটিও ছিল। কিন্তু চমৎকার করে কলকাতার নারায়ণ মেমোরিয়াল হাসপাতাল। মুখের ভিতর থেকে টিউমার বের করে আনে কোনও রকম জটিল অস্ত্রোপচার বা কাটাছেঁড়া ছাড়াই।

নারায়ণ হাসপাতালে এই সার্জারি করেছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (ডক্টর), সিনিয়র কনসালট্যান্ট ওরাল-ডেন্টাল সার্জন, স্টোমাটোলজিস্ট ও লেজার সার্জন ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায়। ডাক্তারবাবু বলেছেন, লেজার সার্জারির সাহায্যে টিউমারটি অপারেশন করেন তিনি। সেটির আয়তন ছিল ১.৫*১.২ সেন্টিমিটার।

লেজার সার্জারি এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানে যথেষ্ট উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করতে হলে আগে থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার পড়ে না। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, অনেক কম সময় ও সহজে অস্ত্রোপচার করা যায়। কাটাছেঁড়া করা, রক্তপাতের ভয় থাকে না। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, সার্জারির পরেই রোগীকে ছেড়ে দেওয়া যায়। পোস্ট-সার্জারি বা অস্ত্রোপচার পরবর্তী সময় কোনও শারীরিক সমস্যা তেমন হয় না। রোগী খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে।

এই মহিলার টিউমারটি মুখের ভিতরে ছিল। ডাক্তাররা বলছেন, টিউমার আরও বাড়লে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারত। আর এই প্রৌঢ়ার এতরকম কোমর্বিডিটি রয়েছে যে কাটাছেঁড়া করে অস্ত্রোপচার রোগীর পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হত। তাই লেজার সার্জারিতেই টিউমার বের করার কথা ভাবেন ডাক্তাররা। ডাঃ ইন্দ্রনীল বলছেন, ওই মহিলার উচ্চ রক্তচাপ ছিল, ভীষণ হাইপারটেনশন ছিল। টিউমারের কারণে তালুতে ব্যথা, রক্তপাতও হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে নর্মাল সার্জারি করলে আরও বেশি রক্তপাত হতে পারত। সেদিক থেকে লেজার সার্জারি অনেক কম ঝুঁকি নিয়েই করা গেছে। ডাক্তারবাবু বলছেন, লেজার সার্জারিতে কোনওরকম রক্তপাত হয়নি, অ্যানাস্থেসিয়ারও দরকার পড়েনি। সার্জারির পরেই রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁর শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল।

You might also like