Latest News

করাচি-ঢাকা-বহরমপুর-কলকাতা, ১২ বছর আগে পাক জঙ্গিকে ধরেছিল এসটিএফ! সাজা হল আজ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১২ বছর আগে কলকাতা থেকে ধরা পড়েছিল এক সন্দেহভাজন জঙ্গি। এসটিএফের অভিযানে ধৃত সেই পাক নাগরিকের বিচার হল এত দিনে। ১২ বছর পরে আদালতে সাজা ঘোষণা হল যাবজ্জীবন সশ্রম কারাবাসের।

২০০৯ সালের ১৯ মার্চ। দুপুর দুটো নাগাদ কলকাতার ফেয়ারলি প্লেস থেকে শাহবাজ ইসমাইলকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। শ্রীনগর যাওয়ার টিকিট কাটছিল সে। গোয়েন্দাদের কাছে বিশ্বস্ত সূত্রে আগাম খবর ছিল, আল বাদল জঙ্গি সংগঠনের এক সদস্য, পাক নাগরিক কলকাতা থেকে শ্রীনগর যাওয়ার ছক করছে। আন্দাজ মিলিয়ে হাতেনাতে ২৭ বছরের শাহবাজ ইসমাইলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তদন্তে জানা যায়, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির ভুয়ো ঠিকানায় মহম্মদ জামাল নামে ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়েছে সে। জেরার মুখে সে ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদের কথাও স্বীকার করে। ভুয়ো ভোটার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বাংলাদেশি সিমকার্ড মেলে তার কাছ থেকে। উদ্ধার হয় কিছু বিস্ফোরকও। একটি ডায়েরিতে লেখা ছিল একাধিক পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি ব্যক্তির নাম ও ফোন নম্বর। এমনকি কিছু নোটও উদ্ধার হয়, যাতে লেখা ছিল বিস্ফোরক কীভাবে বানাতে হয়।

হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয় তার বিরুদ্ধে। এসটিএফের তৎকালীন অফিসার অসিতবরণ শীল দায়ের করেন অভিযোগ।

তদন্ত চলাকালীন জানা যায়, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও পেট্রোলিয়াম হাইড্রোকার্বন জাতীয় বিস্ফোরকও রয়েছে তার কাছে। আরও কিছু ধারা যোগ হয় মামলায়। ৯০ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।

জানা যায়, পাকিস্তানের দেরা গাজি খান জেলার সুমালি মহল্লার বাসিন্দা ইসমাইল। পেশায় সে ছিল পাকিস্তান পুলিশের হাবিলদার। ২০০৭ সালে মুজফ্ফরবাদে হরকত-উল-মুজাহিদিন দলের হয়ে একটি ট্রেনিং নেয় সে। আল বাদর জঙ্গিদলের নেতা ইউসুফ বালুচের নেতৃত্বে ওই ট্রেনিংটি নেওয়ার পরেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে আল বাদরে যোগ দেয় সে।

আটমাকান এলাকার পার্বত্য অঞ্চলে কয়েক বছর ধরে আরও কড়া ট্রেনিং নেয়। এক ৪৭ সিরিজের সমস্ত রকম রাইফেল চালনায় পারদর্শী হয়ে ওঠে। পিস্তল, রকেট লঞ্চার, হ্যান্ড গ্রেনেডেও দক্ষ হয়ে ওঠে সে। বানাতে শেখে আরডিএক্স, টিএনটি-র মতো বিস্ফোরক। ট্রেনিং শেষে সে আস্তানা গাড়ে আটমাকান এলাকারই একটি গ্রামে।

সেই সময়ই জম্মু-কাশ্মীর সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করতে থাকে ইসমাইল। সফল হয়নি তার উদ্দেশ্য। এর পরে রাওয়ালপিন্ডিতে আল বাদরের অফিসের দায়িত্ব নেয় সে। সেখান থেকে করাচি গিয়ে পাকিস্তানি পাসপোর্ট বানায় এবং বাংলাদেশের ভিসা তৈরি করে ইসমাইল। সময়টা ২০০৮ সালের মার্চ মাস।

এর পরে ২০০৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর করাচি থেকে বিমানে করে ঢাকা এসে পৌঁছয় ইসমাইল। সেখানে আল বাদর সদস্য মুস্তাফা তাকে সিমকার্ড করিয়ে দেয়। রাজশাহীতে নিয়ে গিয়ে বানিয়ে দেয় জলঙ্গির ঠিকানার নকল পরিচয় পত্রও। তা দিয়ে ফের ভারতে যাওয়ার আবেদন করে সে। অবশেষে ২০০৯ সালের ১৮ মার্চ মুর্শিদাবাদের সীমান্ত দিয়ে ঢুকে বহরমপুরে এসে পৌঁছয় ইসমাইল।

এর পরে বাকিটা তার জন্য বিশেষ কঠিন ছিল না। ১৯ মার্চ সকালে বহরমপুর থেকে লালগোলা প্যাসেঞ্জার ধরে শিয়ালদা স্টেশনে পৌঁছে যায় ইসমাইল। ফেয়ারলি প্লেসে গিয়ে টিকিট কাটার পরিকল্পনা ছিল শ্রীনগরের। এই টিকিটটি কেটে ট্রেনে চেপে পড়তে পারলেই গন্তব্যের দিকে রওনা হওয়া হতো তার।

কিন্তু সফল হল না শেষমেশ। টিকিট কাটার সময়েই সে হাতেনাতে ধরা পড়ে এসটিএফ অফিসারদের কাছে।

মামলা দায়ের হওয়ার পরে একের পর এক শুনানি চলতে থাকে। অবশেষে ১২ বছর পরে, আজ সোমবার সাজা ঘোষণা হল তার অপরাধের। এসটিএফের সাফল্যের কাহিনিটা যেন আজ পূর্ণতা পেল পুরোপুরি।

You might also like