Latest News

Kolkata Metro: প্রথম মেট্রো তৈরির সময়ও বাড়িতে ফাটল ধরেছিল, তবে ঘরছাড়া হতে হয়নি কাউকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেট্রোর টানেল তৈরি করতে গিয়ে বিপর্যয় বউবাজারে। অথচ চল্লিশ বছর আগে তৈরি কলকাতার আদি মেট্রোর টানেল (Kolkata Metro) তৈরির সময় এরকম কোনও বিপর্যয় হয়নি বলে জানালেন মেট্রোর টানেল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। স্মৃতি হাতড়ে অনেকেরই বলছেন, তখন অনেক সমস্যা হয়েছে যাতায়াতে। দীর্ঘদিন দোকানপাট বসতে পারেনি বিভিন্ন এলাকায়। তবে বড় কোনও বিপর্যয় হয়নি। এখনকার প্রযুক্তি আরও আধুনিক। তা সত্ত্বেও বউবাজারের ঘটনায় অবাক হচ্ছেন তাঁরা।

আদি মেট্রোর টানেল (Kolkata Metro) গেছে রাস্তা বরাবর। যার ওপরে তখন বাড়ি ছিলনা। তবে ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রো কিছু জনবহুল এলাক ঘেঁষে যাচ্ছে। নতুন করে বউবাজারের বিপর্যয়ের পর টানেল সংলগ্ন এলাকার অক্ষত বাড়ির বাসিন্দারাও আশঙ্কায় রয়েছেন। অনেকেই বাড়ি মেরামত করার কথা ভাবছেন। কিন্তু প্রথম যখন মেট্রোর টানেল তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল শহরে, তখন কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল বাসিন্দাদের?‌

গিরিশপার্ক মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন নন্দ মল্লিক লেনের একটি বহু পুরনো বাড়ির বাসিন্দা অনাথবন্ধু মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘‌তখন আমাদের অনেক অসুবিধা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কারও কোনও ক্ষতি হয়নি। আমরা প্রথমে ভয় পাচ্ছিলাম। কিন্তু মেট্রোর টানেল গেছে রাস্তা বরাবর। পাশাপাশি মেট্রোর তরফে আমাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।’‌

বলরাম দে স্ট্রিটের একটি পুরনো বাড়ির বাসিন্দা শিউচরণ প্রসাদ বললেন, ‘‌বহুদিন ধরে কাজ হয়েছে। টানেল খুঁড়তে গিয়ে কারও বাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলে মনে পড়ে না। আমরা ভেবেছিলাম, বাড়ির পাশের পাতাল দিয়ে ট্রেন চললে, বাড়ি কাঁপবে। রাতে ঘুম হবে না। কিন্তু সেসব কিছুই হয়নি। মেট্রোর লোকজন আমাদের নিশ্চিন্তে থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা ভয়ে ছিলাম।’

তবে সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের আশেপাশের ক’‌য়েকটি বাড়িতে সেইসময় লোহার ক্লাম্প লাগানো হয়েছিল। ফাটল ধরেছিল অনেক বাড়িতে, জানালেন এলাকার লোকজন। বিষয়টিতে শিয়ালদহ মেট্রোর কাজের দায়িত্বে থাকা এক ইঞ্জিনিয়র বললেন, ‘‌টানেল খোঁড়ার সময় আশপাশে পুরনো বাড়ি থাকলে সমস্যা হয়। কারণ ওই বাড়িগুলি ইটের ভিতে তৈরি। তাই পাশে খোঁড়া হলে বাড়ি সামান্য হেলে পড়ার সম্ভবনা থেকেই যায়। বউবাজারে যেখানে মেট্রোর টানেল হচ্ছে, সেখানে মাটি খুবই নরম। গ্রাউটিং, অর্থাৎ ইনজেকশনের মতো করে মাটির তলায় বালি ও অন্য রাসায়নিক দিয়ে মাটি শক্ত রাখার কাজ চলছে। তাছাড়া ওই বাড়িগুলি বহুদিনের পুরনো। বহু বাড়ির ইটের ভিত এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাই একটুও পরিবর্তন সহ্য করতে পারেনি।’‌

এমজি রোড মেট্রো স্টেশনটিও বহু পুরনো বাড়ি ঘেরা এলাকায়। সেখানে একটি দর্জির দোকানের বয়স্ক মালিক জানালেন, ‘‌অনেকদিন আগের কথা। একটি দিক দিয়ে ওরা মাটি খোঁড়া শুরু করেছিল। তখন চারিদিকে এত দোকান ছিল না। ফাঁকা ফাঁকা ছিল। অনেক জায়গা জুড়ে কাজ চলেছে। তাই কারও বাড়ির ভিতের ক্ষতি হওয়ার কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে আমার মনে পড়েনা। খুব পুরনো বাড়িতে কাঠ এবং ইস্পাতের খুঁটি লাগানো হয়েছিল। সুড়ঙ্গ খননের কম্পনের জেরে যাতে বাড়ির কোনও অংশে চাপ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।’‌

কিন্তু এখন এত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও বউবাজারে ওই বিপর্যয় কেন?‌ নির্মাণ বিশেষজ্ঞ চন্দ্রচূর ভট্টাচার্য বললেন, ‘‌ওই এলাকায় আগে প্রচুর বড় বড় খাল ছিল। মাটির নীচে প্রচুর ওয়াটার বডি আছে। যেকারণেই এই বিপত্তি হয়েছে। বাড়িগুলিও অনেক পুরোনো। সব জিনিসেরই একটা লাইফ থাকে। তবে ডিজাইনের সমস্যা বা মাটি পরীক্ষায় রয়েছে কী না, তা মেট্রোর তরফে খতিয়ে দেখা হলেই বোঝা যাবে।’‌

কাদম্বিনীর বাড়ি ভেঙে তৈরি হবে বহুতল, ছাড়পত্র দিয়েছে হেরিটেজ কমিশন

You might also like