Latest News

৬ দিন আগে মারা গেছেন বৃদ্ধ, পরিবার জানতে পারল আজ! ফের কাঠগড়ায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড উপসর্গ নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের আইসোলেশন ওযার্ডে ভর্তি ছিলেন ক্যানসার আক্রান্ত বৃদ্ধ। দেখতে যাওয়ার উপায় ছিল না পরিবারের সদস্যদের, তাই ফোন করে বা বাইরে থেকেই খোঁজ নিতেন তাঁরা। গত কয়েক দিন ধরেই হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে তাঁরা বারবারই শুনেছেন, রোগী ভালো আছেন, খাচ্ছেন, ঘুমোচ্ছেন। উন্নতি হচ্ছে শারীরিক পরিস্থিতির। এভাবেই ৬ দিন কাটার পরে জানা গেল, বৃদ্ধ ওই ব্যক্তি মারা গেছেন বৃহস্পতিবার। জানতে পর্যন্ত পারেনি পরিবার। শুধু মৃত্যুসংবাদ জানতে না পারা নয়, উল্টে প্রতিদিন শুনে গেছেন রোগী ভাল আছেন!

হাওড়ার শলপ এলাকার বাসিন্দা ৬৮ বছরের করোনা আক্রান্ত অজয় মান্না ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। অস্ত্রোপচারের জন্য গত সপ্তাহে এসএসকেএম হাসপাতালে আনা হয় তাঁকে। শরীরে সামান্য জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ থাকার কারণে সেখানে চিকিৎসকরা এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ট্রান্সফার করেন। বেড নেই বলে সেখান থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয় তাঁকে।

সেখানেই বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ বাবাকে ভর্তি করেন তাঁর ছেলে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তাঁকে। প্রাথমিক ভাবে এই ওয়ার্ডে রেখেই করোনা টেস্ট করা হয়। পজিটিভ হলে তবে ভর্তি করা হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কোভিড ওয়ার্ডে।

পরিবারের দাবি, সে দিন থেকে যতবারই হাসপাতালে খোঁজ নেওয়া হয়েছে, বলা হয়েছে বাবা ভাল আছেন। সেরে উঠছেন। কিন্তু আজ, মঙ্গলবার সাধারণের ক্ষেত্রে ঢোকার নিষেধাজ্ঞা থাকা করোনা ওয়ার্ডে এক রকম জোর করে ঢুকে পড়ে রোগীর পরিবার আবিষ্কার করলেন ভর্তি করে যাওয়ার নির্দিষ্ট বেডে তাঁদের বাবা নেই।

খুঁজতে খুঁজতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের একাধিক দফতর ঘুরতে ঘুরতে শেষে তাঁরা পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে সব জানান। এবং সেখান থেকেই জানতে পারেন, বৃহস্পতিবার দিন ভর্তির পরেই দুপুর তিনটে তাঁদের বাবার মৃত্যু হয়েছে। অথচ রোগী পরিষেবার হেল্পলাইন, চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করে রোগীর খবর নেওয়া এবং হাসপাতালের ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীর খোঁজ নেওয়া– এই সব ক’টি ক্ষেত্রেই এই ৬ দিন ধরে বলা হয়েছে রোগী বেঁচে আছেন।

অজয়ের ছেলের অভিযোগ, “আমাদের যে নম্বর দেওয়া হয়েছিল তাতে ফোন করলে প্রত্যেকবারই বলা হয় রোগী ভাল আছেন। আজ আমাদের সন্দেহ হয়, একটু জোর করে ওয়ার্ডের ভেতরে বেডে পৌঁছে দেখি বাবা নেই। বিস্তর খোঁজখবর করে বেলায় আড়াইটার সময় আমরা জানতে পারি, গত বৃহস্পতিবার দিন ভর্তির পরপরই বাবার মৃত্যু হয়েছে।”

প্রশ্ন উঠছে বৃহস্পতিবার মৃত্যুর পর কেন তাঁর পরিবারকে কিছু জানানো হল না? কেন বারবার বলা হল তিনি ভাল আছেন? এই ঘটনায় ফের প্রকাশ্যে এল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের গাফিলতি।

You might also like