Latest News

চলছে অবাধ ঘোরাঘুরি-কেনাকাটা, মাস্ক নিয়ে এখনও উদাসীন কলকাতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষই সচেতন নয়। করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রত্যেক দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্তু হুঁশ নেই শহরবাসীর। কেনাকাটা-খাওয়াদাওয়া, ঘোরাঘুরি চলছেই। এখনও জনে জনে বলতে হচ্ছে, ‘মাস্ক পরুন’। মাইকে প্রচার চলছে। কিন্তু কান দিচ্ছে না কেউ। কারও মাস্ক ঝুলছে এক কানে। কারও থুতনিতে।

ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড, নিউমার্কেট চত্বরে গিজগিজ করছে ভিড়। বেশিরভাগ বিক্রেতারই মুখে মাস্ক নেই। ক’য়েকদিন আগেই কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন, মাস্ক না পরলে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। বাজার কমিটিকে বিষয়টি দেখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হকারদের কোনও হেলদোল নেই। ক্রেতারাও সচেতন নয়। বহু মানুষ এখনও মাস্ক নিয়ে চূড়ান্ত উদাসীন।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আগামী ১৫ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাতে গ্লাভস পরুন। গ্লাভস না থাকলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। ছেলেরা যদি বাজারে বা কোথাও বেরোন তাহলে টুপি পরুন, মেয়েরা কাপড় দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন। আর অবশ্যই মাস্ক পরুন।’ কিন্তু কেউ শুনছে কী?

নিউমার্কেটে ঢেলে শীতপোশাক বিক্রি করছেন রমিজ। বললেন, ‘সারাদিন মাস্ক পরে কাজ করা খুব কষ্টকর। আরামের হলে আর খুলতাম না। কিন্তু কেউ বোঝে না।’

নাসির বললেন, ‘আমরাই এখন ক্রেতাদের মাস্ক পরতে বলছি। সবাই মাস্ক পরছেন। মাস্কই একমাত্র আমাদের বাঁচাতে পারে।’

চিকিৎসকরা বলছেন পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং মাস্ক বা বাহারি ডিজাইনার মাস্ক নয়, পরুন সার্জিক্যাল মাস্ক। কিন্তু এখনও বিক্রি বেশি সুতির মাস্কের, বললেন হগ মার্কেটের এক মাস্ক বিক্রেতা নিজের মাস্ক নাকের ওপর টেনে তুলতে তুলতে বললেন, ‘সার্জিক্যাল মাস্ক নয় বেশি বিক্রি সুন্দর ডিজাইনের মাস্ক। সেগুলো কতটা নিরাপদ, তা বলতে পারব না।’

কলকাতা পুরসভার সামনেই পসরা সাজিয়ে বসে পড়েছেন হকাররা। সেখানে ব্যাপক ভিড়। জুতোর দোকানি সিতেন্দ্র কুমার জালি মাস্ক থুতনিতে নামিয়ে রেখেছিলেন। কথা বলতে যাওয়ায় মাস্ক মুখে লাগিয়ে বললেন, ‘আমি সারাদিন মাস্ক পরেই থাকি। সব হকার পরে না। তবে যার যার দায়িত্ব আছে, তাঁরা পড়ছে। সবাই দায়িত্ববান নয়।’

You might also like