Latest News

ক্রমশ চেনা ছন্দে ভোটের কলকাতা, বোমাবাজি-মারামারি-লুঠ, হুমকির অভিযোগ শাসকের বিরুদ্ধে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল ন’টা থেকেই অভিযোগ আসা শুরু হয়েছিল। ১১টা নাগাদ দেখা যাচ্ছে শাসকদলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সম্মিলিত অভিযোগ কোনও নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে আটকে নেই। খান্না থেকে কসবা, ঠাকুরপুকুর থেকে ধর্মতলা—সর্বত্র অশান্তির ঘটনা ঘটছে।

রবিবার কলকাতায় সকাল থেকেই উত্তুরে হাওয়ার দাপট। কনকনে শীত যাকে বলে তেমনটাই। ফলে এপ্রিল-মে মাসে ভোট হলে যেমন গরমের জন্য সকাল সকাল লম্বা লাইন পড়ে যায় বুথে এদিন কম্বল সরিয়ে ভোটের কলকাতার উঠতেও বেলা হয়েছে। আর বেলা যত বাড়ছে তত বাড়ছে গণ্ডগোল।

বেলেঘাটার খান্না হাইস্কুলের চাঞ্চল্যকর ছবি সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে এক ব্যক্তি সাদা কাগজ দিয়ে সিসিটিভি ঢেকে দিচ্ছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও শাসকদল তা অস্বীকার করেছে। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ওই এলাকায় বোমাবাজির ঘটনাও ঘটেছে। ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রার্থী সন্তোষ পাঠক অভিযোগ করেছেন, বাইরে থেকে লোক ঢুকিয়ে বুথ দখলের চেষ্টা করছে তৃণমূল।

ব্যাপক ভোট লুঠের অভিযোগ করেছেন, ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম প্রার্থী শিখা পূজারী। তাঁর বক্তব্য, কোনও বুথে সিপিএম এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি। জোর করে তুলে দেওয়া হয়েছে। শিখাদেবী আরও বলেন, “এখানে মৃত মানুষের ভোট পড়ে যাচ্ছে। পুরুষের ভোট মহিলারা দিচ্ছে, ঠাকুমার ভোট নাতনি দিচ্ছে। এ ভোটের কোনও মানে নেই।” নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবি তাঁর।

কসবার ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক সিপিএম এজেন্টের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মেটিয়াবুরুজে দেদার ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শিয়ালদহে কংগ্রেসের অভিযোগ, তৃণমূল তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়েছে একাধিক বুথ থেকে। প্রবীণ বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র মীনাদেবী পুরোহিতের পোশাক ছেঁড়ার ঘটনা ঘটেছে জোড়াসাঁকো এলাকায়। তৃণমূলের মুখপাত্র পার্থ ভৌমিক সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, সকালের দিকে কিছু ঘটনা ঘটেছে বিক্ষিপ্ত ভাবে। দল বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেছে।

তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পইপই করে বলে দিয়েছিল, এবার ভোটে কোনও গণ্ডগোল করা যাবে না। প্রচারের শেষ দিনেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের সভা থেকে বলেছিলেন, যে তৃণমূলের নাম করে দাদাগিরি করবে তাকে দল বহিষ্কার করবে। সে যত বড় নেতার ছত্রচ্ছায়ায় থাকুক না কেন। কিন্তু এদিন প্রথম চার ঘণ্টার ভোটে শহরের উত্তর-দক্ষিণে যে ছবি ধরা পড়েছে তা কম নয় বলেই মনে করছেন অনেকে। পর্যবেক্ষকদের অনেকের বক্তব্য, পাড়া, মহল্লা নিয়ন্ত্রণে রাখার ভোটে শাসকদলের নিচুতলার নেতারা দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশকেও গ্রাহ্য করছে না। ফলে প্রবল ঠান্ডার মধ্যেও ভোটের আঁচে তপ্ত কলকাতা।

You might also like