Latest News

দশ বছরে ঘুরেছেন ১১টি দেশ! মুদি দোকান চালিয়েই স্বপ্নপূরণ প্রৌঢ়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই ছোট্ট থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়ানোর। কিন্তু অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে খাওয়া পরা, লেখাপড়ার খরচ বাঁচিয়ে বেড়াতে যাওয়ার সামর্থ ছিল না বাড়ির লোকজনের। বিয়ের পরেও অবস্থার বদল হয়নি কিছু। কিন্তু মনের ভিতর লালন করা স্বপ্নকে মরে যেতে দেননি মলিদেবী। সামান্য মুদি দোকানের আয় থেকে একটু একটু করে টাকা জমিয়ে ইতিমধ্যেই পৃথিবীর ১১টি দেশ (countries) ঘুরে ফেলেছেন (Travelled) কেরলের (Kerala) ৬১ বছরের মলিদেবী।

ইচ্ছা থাকলে উপায় যে সত্যিই হয়, তার প্রমান কেরলের ইরমপন্নমের বাসিন্দা এই প্রৌঢ়া। জন্ম তিরুবনন্তপুরমে। বাপের বাড়িতে তেমন আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য দেখেননি। ফলে ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গিয়েছিল। বিয়ের পরেও অভাবের সংসার। পেট চালাতে স্বামীর সঙ্গে মুদি দোকান খুলে বসেন মলি। কিন্তু দোকানের যৎসামান্য রোজগারে সংসার চালানোই দুষ্কর, সেখানে ঘুরতে যাওয়ায় স্বপ্ন তো বিলাসিতা!

দোকান চালু হওয়ার বছর আটেক পরেই মারা গেলেন স্বামী। পুরো সংসারের জোয়াল তখন মলির একার কাঁধে, হিমশিম অবস্থা। কিন্তু তার মধ্যেই আস্তে আস্তে মাথাচাড়া দিতে শুরু করল শৈশবের সেই স্বপ্ন। টাকা পয়সা যা আসে ঘরে,তা কি শুধুই খেয়ে পরে কোনওমতে বাঁচার জন্য? মানতে রাজি নন মলি। একটু একটু করে সংসার খরচ বাঁচিয়ে বেড়াতে যাওয়ার জন্যও টাকা জমাতে শুরু করলেন। শুরুটা হল নিজের রাজ্য দিয়েই। একে একে ঘুরে ফেললেন উটি, কোদাইকানাল, মাইসোর, পালানি ইত্যাদি জায়গা।

তারপর আর থামা হল না। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার ঠিক করলেন বাইরে যাবেন। সন্তানরা স্বাবলম্বী হতেই পাসপোর্ট করিয়ে ফেললেন। ২০১২ সালে প্রথম ইউরোপ যাত্রা। ১০ দিনের সেই সফরের স্মৃতি আজও একইরকম টাটকা মলিদেবীর মনে। তারপর গত দশ বছরে ঘুরে ফেলেছেন ১০টি দেশ। নিজের চোখে দেখে এসেছেন বিখ্যাত নায়াগ্রা জলপ্রপাত। বেড়ানোর জন্য এখনও পর্যন্ত খরচ হয়ে গেছে ১০ লক্ষ টাকারও বেশি। বছরের শুরুতেই ছকে ফেলেন গোটা বছরের ঘোরার প্ল্যান। ন্যূন্যতম খরচে কীভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরা যায়, সেসবের পরিকল্পনা করতে তিনি সিদ্ধহস্ত।

মলিদেবীর ইচ্ছা, মহাবিশ্বের প্রতিটি দেশে পা রাখার। শরীর যতদিন সঙ্গ দেবে, ততদিন ক্রমশই পূর্ণ হতে থাকবে তাঁর অভিজ্ঞতার ভাঁড়ার।

দু’জন ছাত্রের জন্য দুই শিক্ষক, তা নিয়েই চলছে পশ্চিমবঙ্গের এই স্কুল

You might also like