Latest News

নজরুল যে জাতীয় কবি, বিজ্ঞপ্তি কই? মামলা ঢাকার আদালতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম। সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁকে জাতীয় কবি বলে উল্লেখ করেই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়। বহু সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামের গোড়াতেও ‘জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম লেখা। কিন্তু তাঁকে জাতীয় কবি ঘোষণা করে কোনও প্রজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। কেন হয়নি, সরকার কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করবে কি না, এই সব বিষয় উল্লেখ করে বাংলাদেশের হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলামকে (Kazi Nazrul Islam) আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় কবি ঘোষণায় গেজেট প্রকাশ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালতের তরফে নোটিস জারির নির্দেশ দিয়েছেন সেখানকার হাইকোর্টের দুই বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ডিভিশন বেঞ্চ।

বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও নজরুল ইনস্টিটিউটের কার্যনির্বাহী পরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে হলফনামার মাধ্যমে সরকারের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে। এই ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের দশ আইনজীবী গতমাসে হাইকোর্টে মামলা করেন। তাঁদের একজন মহম্মদ আসাদউদ্দিনের বক্তব্য, দেশের আপামর জনগণ জানে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (Kazi NazruI Islam)। কিন্তু বাস্তবে এই মর্মে কোনও দলিল নেই। মৌখিকভাবে তিনি জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত হলেও লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

ভারতের নজরুল কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হলেন?

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ জন্ম নেওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমান ভারত সরকারের কাছে আর্জি জানান, কবি নজরুল ইসলামকে তাঁরা সে দেশে নিয়ে যেতে চান। কবি পরিবারের সম্মতি নিয়ে সবুজ সংকেত দেয় ভারত সরকার। ১৯৭২-এর ২৪ মে কবি সপরিবারে বাংলাদেশ যান। তেজগাঁও বিমান বন্দরের বাইরে সেদিন তিল ধারনের জায়গা ছিল না। স্বাধীনতার লড়াইয়ে যে কবির গান, কবিতা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা জুগিয়েছে, তাঁকে পেয়ে সদ্য স্বাধীন দেশের জনতা আবেগ, উচ্ছ্বাসে ভেসে যায় সেদিন। সেদিনই রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে কবিকে দেখতে যান। নজরুলকে (Kazi NazruI Islam) জাতীয় কবি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী মুজিবুর।
বাংলাদেশে কেমন ছিল কবির জীবন?

ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকায় কবির জন্য বরাদ্দ হয় সরকারি বাড়ি। মুজিবুর বাড়িটির নাম দেন ‘কবি ভবন’। নজরুলকে জাতীয় কবি ঘোষণাতেই থেমে থাকেনি সরকারি আয়োজন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নজরুলের (Kazi NazruI Islam) দেখভালের ব্যবস্থা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের মতো ওই বাড়িতেও প্রতিদিন জাতীয় পতাকা উড়ত। পরে তাঁকে নাগরিকত্ব এবং বাংলাদেশের অসামরিক সম্মান ‘একুশে পদক’ দিয়ে সম্মান জানায় সে দেশের সরকার। কিন্তু জাতীয় কবি ঘোষণা সংক্রান্ত কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি নেই।

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান’, এই মর্মে কোনও বিজ্ঞপ্তি আছে কি?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার কাণ্ডারি শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর দেশ জাতির পিতা মর্যাদা দিয়েছে। এই ব্যাপারেও বহু বছর সরকারি বিজ্ঞপ্তি ছিল না। মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানেই ‘জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান’ লাইনটি যুক্ত করেছেন। ফলে শেখ মুজিবরের ক্ষেত্রে আলাদা করে আর সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারির প্রয়োজন নেই।

ভারতে জাতির জনক কে?

সুভাষচন্দ্র বসু আদাজ হিন্দু বাহিনী গঠনের পর এক রেডিও ভাষণে প্রথম মহাত্মা গান্ধীকে ‘জাতির জনক’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেই থেকে ভারতবাসী গান্ধীকেই রাষ্ট্র পিতা বলে জানে, সম্মান করে। কিন্তু এই ঘোষণারও কোনও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। ভারত সরকার একাধিকবার জানিয়েছে, ব্যক্তি বিশেষ নিয়ে এমন ঘোষণা বা স্বীকৃতির কোনও বিধান ভারতের সংবিধানে নেই। ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনে জাতীয় ছুটি থাকে। ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে।

নজরুলকে নিয়ে কী বলছে বাংলাদেশ সরকার?

বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নজরুলকে জাতীয় কবি ঘোষণার গেজেট নোটিফিকেশন, প্রজ্ঞাপন বা অনুরূপ কোনও সরকারি আদেশ নেই। তবে সরকারি অনেক দলিলে তাঁকে জাতীয় কবি (Kazi NazruI Islam) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নামের আগে জাতীয় কবি শব্দ দুটি যুক্ত করে একটি আইনও আছে বাংলাদেশে। সেটি হল ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬।’

‘কবি নজরুল ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৮’-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে ‘কবি’ অর্থ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। একই ভাবে বিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ে, অন্যান্য বইপুস্তকে, গবেষণাকর্মে, পত্রপত্রিকায়, সভাসমাবেশে সবখানেই কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি বলেই উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এসবই পরোক্ষ স্বীকৃতি।

এ প্রসঙ্গে কবি নজরুলের নাতনি খিলখিল কাজী সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এ বিষয়ে কবি পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে। এটা ঠিক, দেশের মানুষ জাতীয় কবি হিসেবে তাঁকে সম্মান জানিয়ে আসছে। কিন্তু এটা সরকারি আদেশ হিসেবে আসাটা জরুরি। কারণ আমরা থাকব না, কিন্তু বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে। আগামী প্রজন্ম একদিন হয়তো না-ও জানতে পারে যে, আমাদের জাতীয় কবির নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধিদের জন্যই কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি হিসেবে গেজেট প্রকাশ করাটা উচিত হবে।’

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মহম্মদ আবুল মনসুর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কবি নজরুল ইনস্টিটিউট আইনে কবি নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরে আর কোনো গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। আমি জেনেছি যে, হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। তার কপি পাইনি। এখন হাইকোর্ট যদি গেজেট করতে বলে, তাহলে অবশ্যই করা হবে।

পার্থর জামাইয়ের মামার বাড়িতে আয়কর হানা, এদিকে নাকতলায় ইডি

You might also like