Latest News

‘ফ্রি ফায়ার’ গেমে ডুবে থাকত ছেলে, বকাবকি করায় অভিমানে আত্মঘাতী কাটোয়ায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা বাড়ি বসে অনলাইন ক্লাস করুক। তাই সবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা হাতে পেতেই ফল হল অন্য। দেখা যাচ্ছে পড়াশুনো ছেড়ে ঘরে ঘরে স্মার্ট ফোনে মজে আছে ছেলেমেয়েরা। কেউ গেমে আসক্ত কেউ বা সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সেরকমই দিনরাত মোবাইলে ফ্রি ফায়ার গেম খেলে চলছিল কাটোয়ার মঙ্গলকোটের ছাত্র চন্দ্রকান্ত দাস। পড়াশোনার বালাই নেই, খাওয়া-দাওয়া ভুলে দিনরাত সে মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকত বলেই জানা যায়। বাবা-মা সে নিয়ে বকাবকি করতেই চরম সিদ্ধান্ত নিল ছেলে। রবিবার সন্ধেয় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল চন্দ্রকান্ত। কাটোয়ার মঙ্গলকোটের জাগেশ্বরদিহি গ্রামের সেই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

বছর আঠারোর সেই ছাত্রের দেহ উদ্ধার করে কাটোয়া হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, চন্দ্রকান্ত দাস স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। বাবা পেশায় দিনমজুর। নুন আনতে পান্তা ফুরনো সংসারে ছেলের প্রতি আস্থা রাখতে চাইতেন বাবা মা। দামী মোবাইল কেনার সামর্থ্য না থাকলেও পড়াশোনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া ১০,০০০ টাকায় ছেলেকে ফোন কিনে দিয়েছিলেন বাবা।

কিন্তু তারপর থেকেই সমস্যা শুরু হয়। সারাদিন ফোনে কথা বলে যেত ছেলে, নয়তো গেম খেলত। গত এক বছর ধরে ছেলের হাবভাব বদলে যেতে দেখে বাবা চন্দ্র দাস ছেলের মোবাইলের সিম খুলে নেওয়ার কথা বলেন। সেই শুনেই নাকি ফোন ছুড়ে ভেঙে দেয় চন্দ্রকান্ত। এর পরই সন্ধ্যা নাগাদ বাড়িতে বাবা-মা না থাকার সুযোগে ঘরের মধ্যেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় সে।

You might also like