Latest News

Kapil Sibbal: সনিয়া, রাহুলদের নেতৃত্ব ছাড়তে বলে ‘ঘরেই একঘরে’ সিব্বল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীদের কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলে দলে প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল (Kapil Sibbal)। কংগ্রেসের প্রথমসারির কোনও নেতার তাঁর কথায় সায় দেওয়া দূরে থাক, কেউ কেউ এমনকী তাঁকে দল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। জি-২৩ নামে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতাদের যে গোষ্ঠীর তিনিও সদস্য তাঁদেরও কেউ সিব্বলের পাশে দাঁড়াননি। ওই গ্রুপের দুই বর্ষীয়ান সদস্য গুলাম নবি আজাদ ও আনন্দ শর্মার বক্তব্য, রবিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁদের ভিন্ন কোনও অবস্থান নেই। কার্যত দলেই একঘরে হয়ে পড়েছেন এই প্রবীণ আইনজীবী নেতা (Kapil Sibbal)।

সিব্বল (Kapil Sibbal) একটি ইংরিজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি এবং লাগাতার নির্বাচনী বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে দাবি তুলেছেন, এবার কংগ্রেসের শীর্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়ান সনিয়া, রাহুলরা। নতুনদের দায়িত্ব দিন। আর সেটা হলেই কংগ্রেস আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তাঁর কথায়, একের পর এক নির্বাচনে ব্যর্থ নেতা শীর্ষ পদ আঁকড়ে থাকলে দল ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। কংগ্রেস নেতৃত্ব কল্পলোকে বাস করছে বলেও মন্তব্য করেছেন এই আইনজীবী নেতা (Kapil Sibbal)।

রবিবারই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সর্বসম্মতভাবে সনিয়া গান্ধীকেই কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যেতে অনুরোধ করেছে। সেই বৈঠকেই রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট রাহুল গান্ধীকে ফের কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন। ফলে পাঁচ রাজ্যে ভোটে বিপর্যয়ের পরও ওয়ার্কিং কমিটি কংগ্রেসের শীর্ষ পদের জন্য গান্ধী পরিবারের উপরই আস্থা ব্যক্ত করেছে।

কী বলেছেন কপিল সিব্বল (Kapil Sibbal)?

কিন্তু একটি ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কপিল সিব্বলের বক্তব্য, কংগ্রেসের মতো একটি সর্ব ভারতীয় পুরনো দলের নেতৃত্ব কে দেবেন সে ব্যাপারে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির গুটিকয় সদস্যকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কে দিল? তারা হলেন, এআইসিসি বা অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির প্রতিনিধি। নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এআইসিসি। ওয়ার্কিং কমিটির মত কখনও গোটা কংগ্রেসের মত হতে পারে না। তাঁর সাফ কথা, ‘ঘর কি কংগ্রেস’ চাই না। চাই ‘সব কি কংগ্রেস।’ সাফ জানিয়ে দেন, এই তাঁর এই বক্তব্যের পরিণতি যাই হোক না কেন, ‘সব কি কংগ্রেস’-এর জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং আমৃত্যু একজন কংগ্রেসি থাকবেন।

সিব্বলের এই বক্তব্য খণ্ডন করে সংবাদমাধ্যমে কড়া বিবৃতি দিয়েছেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা তথা পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, গান্ধী ফ্যামিলি নিছকই একটি পরিবার নয়, ওই পরিবার হল কংগ্রেসের পরিচিতি স্বত্ত্বা। সেই কারণে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা ওই পরিবারকে টার্গেট করেছেন। তাঁরা জানেন গান্ধী পরিবার কংগ্রেসের নেতৃত্ব থেকে সরে গেলে দলটাকে মুছে দেওয়া সহজ হবে। তাই সনিয়া-রাহুল-প্রিয়াঙ্কা ওঁদের আক্রমণের শিকার। অধীর বলেন, সিব্বলের মতো মানুষ এই পরিবারের হাত ধরেই রাজনীতির প্রথমসারিতে এসে এখন মোদী-শাহ’র রাস্তার হাঁটছেন। এঁরা সুবিধাবাদী, বেইমান।

সনিয়া, রাহুলদের নেতৃত্ব ছাড়তে বলার বিষয়ে কংগ্রেসের প্রবীণ আইনজীবী নেতা সিব্বল বলেন, কোনও উন্নত গণতন্ত্রে বারে বারে ব্যর্থ নেতার পদ আঁকড়ে থাকার নজির নেই। ব্রিটেনে একবার ব্যর্থ হলেই পদ থেকে সরে দাঁড়ান নেতা। পদ আঁকড়ে থাকার একটি নজিরও নেই। ইউরোপেও ছবিটা একই।

সিব্বলের এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তামিলনাড়ুর কংগ্রেস নবীন সাংসদ মনিক্কম টেগরও। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি-আরএসএস গান্ধী পরিবারকে টার্গেট করেছে কারণ ওই পরিবার আছে বলেই কংগ্রেস এখনও জনতা পার্টি হয়ে মুছে যায়নি। হিন্দুত্ববাদীরা প্রথমে কংগ্রেসকে শেষ করতে চায়। তারপর তারা নিশানা করবে দেশকে। বদলে দেবে ভারতবর্ষের মহান ঐতিহ্যকে। সিব্বলের মতো মানুষেরা তা জেনেও আরএসএসের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের উচিত প্রকৃত পার্টি দরদিদের সমাদর করা এবং সিব্বলের মতো স্বভাব বিক্ষুব্ধদের দল থেকে বের করে দেওয়া। সিব্বলকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলার পাশাপাশি কারও কারও প্রস্তাব দিল্লি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি তাঁর বক্তব্যের নিন্দা করে প্রস্তাব গ্রহণ করুক।

কংগ্রেসের অন্দরের খবর, সিব্বলের বক্তব্যের সঙ্গে দলের অনেকেই সহমত পোষণ করেন। শশী থারুর, মনীশ তিওয়ারির মতো নেতারা এখনও সিব্বলের বিরোধিতায় মুখ খোলেননি। কিন্তু একান্তে অনেকেই মানছেন সিব্বল আসলে ভুল সময় বেছে নিয়েছেন। সদ্য ওয়ার্কিং কমিটি সনিয়া-রাহুলের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করেছে। এখনই গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে মুখ খোলা সুবিধাজনক সময় বলে মনে করছেন না তাঁরা। তাছাড়া, এই পরিস্থিতিতে নেতৃত্বের বিরোধিতার জেরে বিজেপির হাত শক্ত করার অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিক।

সিব্বলের বিরোধিতা করে কড়া বিবৃতি দিয়েছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভুপেশ বাঘেল। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস বরাবর ‘সব কি পার্টি’। কখনই এই দল ‘ঘর কি পার্টি’ নয়। বরং কিছু লোক (পড়ুন সিব্বল) কংগ্রেসকে ডিনার পার্টি, বাংলো পার্টি বানাতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে। সিব্বলের বক্তব্য খণ্ডন করে তিনি বলেন, উনি আসলে ঘরে বসে ঢিল মারছেন। উত্তরপ্রদেশে ভোটের লড়াই কত কঠিন ছিল তা বুঝলে দলের সমালোচনা করতেন না।

শুধু ব্যর্থতার দায়ে নয়, সিব্বল সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সফল ব্যক্তিকেও অন্যকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়, এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম। এই প্রসঙ্গে তিন ক্রিকেটারের নাম নিয়েছেন কপিল। তাঁর বক্তব্য, সুনীল গাভাসকার, সচিন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলিদের নাম ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কিন্তু তাঁরাও নেতত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নতুনদের সুযোগ দিয়েছেন। যদি এই মহান, নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটাররা এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন, তাহলে একটি গণতান্ত্রিক দলে কেন নেতৃত্ব বদল হবে না? সনিয়া, রাহুলদের অপসারণ চেয়ে তাঁর অভিমত, স্বচ্ছ, অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সভাপতি বেছে নেওয়া হোক। নতুন সভাপতিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হোক।

সিব্বলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি নেতা হিসাবে রাহুল গান্ধীকে অযোগ্য মনে করেন? সিব্বল সরাসরি ‘হ্যাঁ’ না বলে কার্যত সেটাই বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, আমি ব্যক্তি বিশেষের সমালোচনা করতে চাই না। আমি আসলে কংগ্রেসের উজ্জ্বল অতীত নিয়ে ভাবিত। সেই গৌরবজ্জ্বল দিনে দলকে ফেরাতে না পারলে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বর্তমান কংগ্রেসের জায়গা হবে ফুটনোটে। আমি তা চাই না।

সাক্ষাৎকারে আরও প্রশ্ন করা হয়েছিল, অনেকেই মনে করেন কংগ্রেস গান্ধী পরিবারের হাতেই সুরক্ষিত। অন্য কেউ দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবে না। কপিলের জবাব, অন্যরা পারবে কি না, তা কখনও খতিয়ে দেখা হয়েছে কি? তাঁর বক্তব্য, গুলাম নবি আজাদ, আনন্দ শর্মা, পৃত্থীরাজ চবন, শশী থারুর, মনীশ তিওয়ারি, ভুপিন্দর হুডা, রাজব্বর—এঁরা সকলেই জাতীয় স্তরে প্রথমসারির কংগ্রেস নেতা। এঁদের মতামতের কোনও দাম নেই? কপিল বলেন, দলে পি চিদম্বরমের মতো মানুষ আছেন। তাঁকে তো কংগ্রেস ব্যবহারই করল না। লক্ষণীয় হল, জি-২৩’র কোনও সদস্য এখনও পর্যন্ত সিব্বলের কথায় গলা মেলাননি।

কয়লা পাচার কাণ্ডে বিনয় মিশ্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল সিবিআই

You might also like