Latest News

সিপিএমের বুক স্টল থেকে কমলেশ্বর গ্রেফতার, গর্জে উঠল টলিউড

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অষ্টমীর সন্ধ্যায় সিপিএমের (CPIM) কয়েকজন নেতার সঙ্গে পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় (Kamaleshwar Mukherjee) গ্রেফতার (arrest) হতেই গর্জে উঠল টলিউড (Tollywood)। যেভাবে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে প্রিজন ভ্যানে তুলেছে, তা দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে আবির চট্টোপাধ্যায়, জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, রানা সরকাররা। যদিও সোমবার রাতেই গ্রেফতার হওয়া সবাইকে লালবাজার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সপ্তমীর সন্ধেয়। দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী মোড়ের কাছে প্রতাপাদিত্য রোডে সিপিএমের বইয়ের স্টলে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। রীতিমতো ভেঙে, গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্টল। বেশ কিছু বইও নষ্ট হয়। অষ্টমীর বিকেলে তার প্রতিবাদে ওই জায়গাতেই সভা ডাকে সিপিএম। অভিযোগ, সেই সভা করার সময়ই তৃণমূলের সঙ্গে ফের বচসা বাধে। তারপরই পুলিশ এসে গ্রেফতার করে সিপিএম কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার, পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়-সহ আরও অনেককে। তাঁদের লালবাজার নিয়ে যাওয়া হয়।

সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে রাসবিহারীতে ধুন্ধুমার, গ্রেফতার পরিচালক কমলেশ্বর, অকুস্থলে সেলিম

এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে টলিউডের অলি-গলিতে। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি নিয়ে একেবারে ফুঁসে ওঠে টলিপাড়ার নামিদামি পরিচালক, অভিনেতা, প্রযোজকরা। শাসক-ঘনিষ্ঠ নয় এমন অনেকেই পুলিশ-প্রশাসনকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একহাত নেন সৃজিত-কৌশিকরা। সকলেরই বক্তব্যের মূল নির্যাস, বইয়ের স্টল ভাঙার প্রতিবাদ করায় গ্রেফতার! শেষ অবধি বইকেও ভয় পেতে হচ্ছে!

গতকাল সন্ধের পর সৃজিত মুখোপাধ্যায় ফেসবুকে লেখেন, ‘বইয়ের ভয়? বই? পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার হওয়া নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর ভাষা নেই। কমলদা, যে কোনও মূল্যে আমি তোমার সঙ্গে আছি।’

মুখ খুলেছেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ও। তিনি ফেসবুকে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘ডাক্তারবাবু, ক্ষতিটা কিন্তু তোমার হচ্ছে না।’ প্রযোজক রানা সরকার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ধান্দাবাজির এই গ্ল্যামার দুনিয়ার লোক হয়েও কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় নির্ভয় ও ব্যতিক্রমী… বুকস্টল চালানো অপরাধ নয়। গ্রেফতারির নিন্দা করছি।’

পিছিয়ে নেই টলিউডের ব্যোমকেশ কিংবা সোনাদা ওরফে আবির চট্টোপাধ্যায়ও। সিনেমার পর্দার মতো বাস্তবেও যে তিনি প্রতিবাদী গোছের, তা বেশ টের পাওয়া গেল অষ্টমীর রাতে। টুইটারে আবির লিখেছেন, ‘কমলদা আমরা সবাই তোমাকে ভালবাসি এবং তোমায় নিয়ে গর্বিত। সবসময় তোমার সঙ্গে আছি।’ মুখ খুলেছেন টলি ও টেলিজগতের অতিপরিচিত মুখ জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় গ্রেফতার হতেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, ‘গান্ধীকে অসুর বানালে চাপ নেই কিন্তু রাসবিহারী রোডে বুক স্টল করলে ভেঙে তুলে দেওয়া হবে এবং পরিচালক কমলেশ্বর-সহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হল বইয়ের দোকান করার অপরাধে। তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’ এছাড়াও এই গ্রেফতারি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীরাও।

দুর্গাপুজোর সময় মণ্ডপের কাছাকাছি কিংবা শহরের বড় বড় রাস্তার মোড়ে সিপিএমের বইয়ের স্টল অতিপরিচিত দৃশ্য। সপ্তমীর দিন রাসবিহারীর কাছে তেমনই একটি স্টলে ঝোলানো ছিল একটি ব্যানার, যাতে লেখা ছিল, ‘চোর ধরো জেল ভরো’। সিপিএমের অভিযোগ, এরপরই তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক এসে স্টলে ভাঙচুর চালায়। বই নষ্ট করে দেয়।

সিপিএমের এক নেতা বলেন, “ওরা প্রথমেই এসে সেই ব্যানার খুলতে বলে। কিন্তু আমরা খুলিনি। আমরা চোর ধরার কথা বলেছিলাম, সেটা ওদের গায়ে লাগছে কেন? তাহলে কি তৃণমূল দলটা সত্যিই নিজেদের চোর বলে করে? ব্যাপারটা এমন হল, ‘রটলো কথা হাটের মাঝে, যার কথা তার গায়ে বাজে’। ব্যানারে লেখা ওই স্লোগানটাও স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের গায়ে লেগেছে।”

You might also like