Latest News

কল্যাণের ছেলেকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল! কোর্টে আবেগতাড়িত তৃণমূল সাংসদ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংঘাতের আঁচ যখন কলকাতার রাস্তা থেকে হাইকোর্টের উঠোনে পড়ছে তখন গতকাল গোয়ায় বসে নীরবতা ভেঙেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে, তৃণমূলের সর্বভারতী সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলেছেন? উনি বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী, আমি আর কাউকে মানি না! ঠিকই তো বলেছেন। এতে তো কোনও বিতর্ক নেই। আমিও বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী, আমি আর কাউকে মানি না।”

তার চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই একটি মামলায় আদালতের মধ্যেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন আইনজীবী তৃণমূল সাংসদ। টানলেন ভিখারি পাসোয়ান মামলার সময়ে কী পরিমাণ আক্রমণের মুখে তাঁকে পড়তে হয়েছিল। এদিন দুয়ারে রেশন নিয়ে ডিলারদের মামলার শুনানিতে সওয়াল করছিলেন কল্যাণ। সেই শুনানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য কল্যাণবাবুকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি শারিরীক ও মানসিক ভাবে ঠিক আছেন?’

জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আপাতত তিনি শারিরীক ভাবে সুস্থ আর মানসিকভাবে অ্যালার্ট আছেন। স্মৃতির সরণি বেয়ে হেঁটে যান সিপিএম জমানায়। বলেন, জীবনে অনেক কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁকে পড়তে হয়েছিল। ভিখারি পাসোয়ান মামলায় তাঁর ছেলেকে অপহরণ করার হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু তিনি দমেননি। তার পরেও বিভিন্ন সময়ে সমস্যার মুখে পড়েছেন, কিন্তু অবিচল থেকেছেন।

সিপিএম জমানায় হুগলির ভদ্রেশ্বরের তেলিনিপাড়া জুটমিলের শ্রমিক ভিখারি পাসোয়ান অন্তর্ধান নিয়ে কম রাজনৈতিক চাপানউতর হয়নি। সেইসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইও ছিল দেখার মতো। হুগলি তথা রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছিল সেই সময়ে। সেই মামলা লড়েছিলেন কল্যাণ।

সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। শুধু বিক্ষোভ নয়, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে তাঁরা কল্যাণের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ করেন। এদিন সেই প্রসঙ্গ সরাসরি না টেনে কল্যাণবাবু বলেন, “আমার জুনিয়ররা প্রায় সকলে আজ বিচারপতি।” প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তের নাম না করে বলেন, “আমার একজন জুনিয়র অ্যাডভোকেট জেনারেল হয়েছিলেন। তাই সবার ভালোবাসায় আমি ভবিষ্যতেও এগিয়ে যাব।”

অনেকের মতে, কল্যাণ এদিন বোঝাতে চেয়েছেন, অনেক কাঠখড় পুড়িয়েই, শাসকের বিরুদ্ধে বিরোধী হিসেবে আন্দোলন করেই আজকে এই জায়গায় পৌঁছেছেন তিনি। সেইসঙ্গে এও বলতে চেয়েছেন, তিনি দুর্দমনীয়।

তবে কল্যাণের বিরুদ্ধে যে আইনজীবীরা চিঠি লিখেছিলেন, তাঁদের একজন শুভেন্দু সেনগুপ্ত আবার এদিন ব্যক্তিগত ভাবে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিকে। তাতে তিনি লিখেছেন, তাঁকে চিঠির বিষয়বস্তু যথাযথ ভাবে না বলে সই করানো হয়েছিল। পরে তিনি গোটা চিঠির বয়ান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হন। কিন্তু যে চিঠি পাঠানো হয়েছে তাঁর সঙ্গে তিনি একমত নন।

You might also like