Latest News

অভিষেক দলের ‘সম্মানীয়’ সাধারণ সম্পাদক, বললেন কল্যাণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক’দিন ধরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে ঝড় বয়ে গেছে তৃণমূলের অন্দরে তথা রাজ্যের রাজনীতিতে। এর সূত্রপাত হয় ডায়মন্ড হারবারের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পরে। সেই বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বলেছিলেন, তাঁর ব্যক্তিগত মত হল, বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে কোনও নির্বাচন না হওয়াই ভাল। বড়দিনের উৎসব, পুজো এ সব এড়িয়ে চললেই ভাল হয়।

এর পরেই কল্যাণ হঠাৎ মুখ খুলেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধাচরণ করছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক হয়ে কোনও ব্যক্তিগত মত দেওয়া যায় না, এটা ঠিক নয়। কল্যাণ এও বলেন যে উনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নেত্রী হিসেবে মানেন, আর কাউকে নেতা বলে মানেন না।

যদিও বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পরে তাঁকে ‘সম্মানীয়’ বলে উল্লেখ করে কল্যাণবাবু দ্য ওয়ালকে বলেন, “অভিষেক দলের সম্মানীয় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। আর দিদির কথা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছি। আগামীদিনেও দিদির কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাবো। এর বাইরে আর কোনও মন্তব্য করব না।”

আরও পড়ুন: কল্যাণ ব্যানার্জি ঠিকই বলেছেন: অভিষেক

দিন কয়েক আগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কল্যাণের মন্তব্য নিয়ে নানারকম ঝামেলায় জেরবার হয়ে পড়েছিল তৃণমূল। এমনকি আসরে নামতে হয়েছিল দলের শৃঙ্খলা কমিটিকেও। কমিটির প্রধান দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় পরিষ্কার বলে দিয়েছিলেন, কেউই কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করতে পারবেন না। করলে দল ব্যবস্থা নেবে।

তবে সেই ব্যবস্থা কী নেওয়া হবে না হবে তা পরের ব্যাপার। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বিতর্কে অনেকটাই রাশ টেনে দিয়েছেন। তিনি আজ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোয়ার পানাজিতে সাংবাদিক বৈঠকে এ বিষয়ে রাজনৈতিক উদারতা দেখিয়ে বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল কিছু বলেননি। দলের অবিসংবাদিত নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। এবং তৃণমূলে গণতন্ত্র রয়েছে বলেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা খোলাখুলিই ব্যক্তিগত মত জানাতে পারছেন।

অভিষেকের কথায়, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলেছেন? উনি বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী, আমি আর কাউকে মানি না! ঠিকই তো বলেছেন। এতে তো কোনও বিতর্ক নেই। আমিও বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী আমি আর কাউকে মানি না।” অভিষেক এখানে থামেননি। তিনি বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আমার বিরুদ্ধে কথা বলেন, তা হলে এটাই প্রমাণ হয় যে তৃণমূলে কংগ্রেসের মতো হাইকমান্ড সংস্কৃতি নেই। গণতন্ত্র থাকলে তো মানুষ কথা বলবে।”

You might also like