Latest News

কল্যাণ এপিসোড: টিকিট টেনশনে অনুগামীরা, বিরোধী গোষ্ঠীতে উচ্ছ্বাস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুদ্ধ ঘোষণা নিয়ে তৃণমূলে সমুদ্রমন্থন চলছে। এর মধ্যেই টিকিট টেনশন শুরু হয়ে গেল হুগলির সাত পুরসভায়। পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত কল্যাণ-বিরোধী গোষ্ঠী।

দুয়ারে পুরভোট। শ্রীরামপুর লোকসভার মধ্যে যে সাতটি পুরসভা পড়ে সেখানে কারা প্রার্থী হবেন, প্রার্থী ঠিক করার ব্যাপারে আদৌ আর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও মতামত ধর্তব্যের মধ্যে আনা হবে কি না তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে তৃণমূলে।

অন্যদিকে, চার বিধায়কের শিবির মনে করছে, প্রার্থীদের নাম সুপারিশের ক্ষেত্রে আর কল্যাণকে ছুঁইয়ে নেওয়ার ব্যাপার থাকবে না। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তাঁদের থেকেই তালিকা চাইবে। এক তৃণমূল নেতার কথায়, অন্য কোথায় কী হবে জানি না। তবে সাংসদ যে সংঘাতে জড়িয়েছেন তাতে শ্রীরামপুর লোকসভার মধ্যে থাকা সাত পুরসভায় টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে কালীঘাট টু এমএলএ সরাসরি যোগাযোগ হবে। মাঝে কেউ থাকবেন না।

শ্রীরামপুর লোকসভার মধ্যে যে সাতটি পুরসভা পড়ে সেগুলি হল- ডানকুনি, উত্তরপাড়া-কোতরং, কোন্নগর, রিষড়া, শ্রীরামপুর, বৈদ্যবাটি এবং চাঁপদানি। এই সাতটি পুরসভাকে যদি বিধানসভার সমীকরণে ফেলা যায় তাতে দেখা যাবে, কল্যাণ খুব একটা স্বস্তিদায়ক জায়গায় নেই।

কেন?

ডানকুনি পুরসভা পড়ে চণ্ডীতলা বিধানসভার মধ্যে। সেখানকার বিধায়ক স্বাতী খন্দকার। তৃণমূলের অনেকের বক্তব্য, স্বাতী খুব একটা সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন না ঠিকই কিন্তু তিনি সাংসদের বিরুদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবেই পরিচিত। অভিষেকের বিরুদ্ধে যখন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কল্যাণ তৃণমূলকে আন্দোলিত করে দিয়েছেন, শুক্রবার যখন কল্যাণ শ্রীজাতর কবিতা উদ্ধৃত করে শিরদাঁড়ার জোর প্রদর্শন করছেন তখন স্বাতী আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেকের নেতৃত্বের স্তুতি গেয়ে দিয়েছেন।

উত্তরপাড়ার বিধায়ক অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক। তাঁর বিরুদ্ধে সম্প্রতি কোন্নগর বইমেলায় দাঁড়িয়ে কল্যাণ যা নয় তাই বলেছিলেন। তাই কাঞ্চনও কল্যাণের বিরুদ্ধে বলেই দলের অনেকের বক্তব্য। উত্তরপাড়া বিধানসভার মধ্যে পড়ে দুটি পুরসভা। এক, উত্তরপাড়া-কোতরং এবং দুই কোন্নগর। অনেকের মতে বিধায়ক হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে কাঞ্চনের তেমন প্রভাব নেই। যাঁদের প্রভাব রয়েছে তাঁরাও কল্যাণের পক্ষের নন। যেমন দিলীপ যাদব, আচ্ছালাল যাদব। দিলীপ অনুগামীরা মনে করেন, দলের মধ্যে তাঁকে কোণঠাসা করার ক্ষেত্রে কলকাঠি নেড়েছেন কল্যাণই। ফলে তাঁরা এখন মুচকি হাসছেন।

সাংসদ অপরূপা পোদ্দারও কল্যাণের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তবে প্রশ্ন আসতে পারে, অপরূপা তো আরামবাগের সাংসদ। তাহলে শ্রীরামপুরের রাজনীতিতে তাঁর অসন্তোষে কী এল গেল? ঘটনা হচ্ছে, অপরূপার স্বামী আবার রিষড়া পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান। আবার শ্রীরামপুর বিধানসভার মধ্যে পড়ে এই পুরসভা। শ্রীরামপুরের বিধায়ক চিকিত্সক সুদীপ্ত রায়ের সঙ্গে সংসদের সংঘাত সর্বজনবিদিত।

চাঁপদানি বিধানসভার মধ্যে পড়ে বৈদ্যবাটি ও চাঁপদানি পুরসভা। এখানকার তরুণ বিধায়ক অরিন্দম গুঁইন আবার দলের মধ্যে অভিষেকের অত্যন্ত কাছের বলেই পরিচিত। তিনি বৈদ্যবাটির বিদায়ী চেয়ারম্যানও। ফলে এই দুই পুরসভাতেও প্রার্থী ঠিক করার ব্যাপারে কল্যাণের সেই অর্থে কোনও লোক নেই বলেই মত অনেকের।

সামগ্রিক পরিস্থতিতে পুর এলাকাগুলিতে যাঁরা কল্যাণ অনুগামী তাঁরা ব্যাপক ভাবে মুষড়ে পড়েছেন বলে তৃণমূলের অনেকের দাবি। পর্যবেক্ষকদের মতে, পুরসভা ও পঞ্চায়েতে দাপট নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরে প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য এর অন্যতম কারণ, অর্থ। সেদিক থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এই সাত পুর এলাকায় কল্যাণ বিরোধীরা মনে করছেন তাঁদের সামনে ফাঁকা মাঠ।

You might also like