Latest News

খুনের মামলায় অভিযুক্ত আমারও ক্ষতি করতে পারে, আশঙ্কা খোদ বিচারকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : খুনে অভিযুক্তের নাম গোবিন্দ সিং ঠাকুর। তিনি মধ্যপ্রদেশে এক বিএসপি বিধায়কের স্বামী। সেই মামলা শোনার সময় বিচারক প্রকাশ্যেই তাঁর আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অভিযুক্তরা উল্টে তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনতে পারে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে ‘অবাঞ্ছিত’ কিছু হওয়াও অসম্ভব নয়।

বিচারকের নাম আর পি সোনকর। তিনি দামো জেলার অতিরিক্ত দায়রা বিচারক। খুনে অভিযুক্ত গোবিন্দ সিং ঠাকুর বিধায়ক রামবাই ঠাকুরের স্বামী। বিচারকের ধারণা, অভিযুক্তদের সঙ্গে পুলিশের একাংশের যোগযোগ থাকতে পারে। অভিযুক্তের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা বেরিয়েছে। বিচারক বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে পারে। জেলা দায়রা বিচারককে চিঠি দিয়ে তিনি বলেছেন, মামলাটি তাঁর এজলাস থেকে অন্যত্র সরালে ভাল হয়।

বিচারক আর পি সোনকর বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার হেমন্ত চৌহানকে এসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ দামো জেলায় খুন হন কংগ্রেস নেতা দেবেন্দ্র চৌরাসিয়া। খুনে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে গোবিন্দ সিং ঠাকুর ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। এর আগে ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস নেতা রাজেন্দ্র পাঠককে খুনের অভিযোগ ওঠে বিধায়কের স্বামীর উদ্দেশে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দিয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে পরিচিত।

নিহত কংগ্রেস নেতার ছেলে অভিযোগ করেন, তাঁর বাবার দল খুনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। কারণ মধ্যপ্রদেশে কমলনাথ সরকারের টিকে থাকার জন্য বিএসপি-র সমর্থন প্রয়োজন ছিল। দামো জেলা পুলিশ একসময় গোবিন্দ সিং ঠাকুরের মাথার দাম ধার্য করেছিল ২৫ হাজার টাকা। পরে সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। রামবাই ঠাকুর বিধানসভায় বারবার বলেন, তাঁর স্বামীকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে।

এর আগে গত সোমবারই মধ্যপ্রদেশে আর একটি গুরুতর অপরাধের কথা শোনা যায়। অভিযোগ, ২০ বছরের এক তরুণীকে অপহরণ করে লাগাতার গণধর্ষণ করেছে এক বিজেপি নেতা সহ চারজন। টানা দু’দিন ধরে ওই তরুণীকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে শাহদোল জেলায়।

নির্যাতিতা তরুণীর পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সব্জি কিনতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরে অপহরণ করা হয় তাকে। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন তরুণী হয়তো কোনও আত্মীয়র বাড়ি গিয়েছেন। তাই তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হননি। কিন্তু দু’দিন ধরে খোঁজ না পেয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করেন তাঁরা। তার কিছুক্ষণ পরেই বাড়ির কাছে অচৈতন্য অবস্থায় তরুণীকে পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকেরা।

You might also like