Latest News

পুরসভার ঘড়ির ‘ব্যারাম’ সারাতে কাজ করছে যাদবপুর

দ্য ওয়াল ব্যুরো:‌ ‘‌স্পন্দন’‌ বন্ধ হয়েছে বহুবছর আগেই। তবুও ২৪ ঘণ্টায় দু’‌বার সঠিক সময় দেখায় লন্ডনের তৈরি ঘড়িটি। কাঁটা এসে থমকেছে ১টা ১৫ মিনিটে। এবং সেখানেই স্থবির!‌ হগ মার্কেটের গম্বুজ ঘড়ির মেরামতি নিয়ে কলকাতা পুরসভার তরফে বহুবার বিভিন্ন আশ্বাস দেওয়া হলেও, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

১৪৭ বছরের পুরোনা এই বাজার। ১৮৭৪ সালে কলকাতা পুলিশের তখনকার কমিশনার স্যার স্টুয়ার্ট হগ নিউ মার্কেটের উদ্বোধন করেন। তাঁর নামেই বাজারের নাম হয় ‘হগ মার্কেট’। পুরসভার নথি বলছে, তখনও বাজারের কাজ শেষ হয়নি। পরবর্তী কালে, এই বাজারটি বাড়ানোর একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। পরে তৈরি হয় আরও একটি বাড়ি, যে চত্বর নিউ মার্কেট বলে পরিচিত।

তখনই ব্রিটেন থেকে আনা চার মুখের একটি ঘড়ি লাগানো হয় নিউ মার্কেটের গম্বুজাকৃতি মূল ফটকের মাথায়। ব্রিটিশ সংস্থা ‘জিলেট অ্যান্ড জনস্টন’–এর কর্মীরা ঘড়িটি বসান। তখন থেকেই ঘড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন পুর–কর্তৃপক্ষ।

ঘড়িটির চারটি মুখ হলেও মূল যন্ত্র একটিই। ৫০ ফুট উঁচু এই ‘ক্লক টাওয়ার’–এ সাড়ে সাত ফুট ব্যাসের ঘড়ি। তার ঘণ্টা ও মিনিটের কাঁটা দু’টি সাড়ে তিন ফুটের। ঘড়িটির মোট পাঁচটি ঘণ্টা আছে। প্রতিটিতে ১৬ বার মিষ্টি আওয়াজ শোনা যেত। এ ছাড়া, পনেরো মিনিট অন্তর চার বার, ৩০ মিনিট অন্তর আট বার এবং ৪৫ মিনিট অন্তর ১২ বার ঘণ্টা বাজত ঘড়িতে। এবং ঘড়িটি চলত ‘‌ওয়েট প্রেশারে’‌।

পুরসভা সূত্রে খবর, ঘড়ি মেরামতির জন্য প্রথমে স্থানীয় এক কারিগরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গম্বুজ–সহ পুরো বাজারের স্থাপত্যটিরই এখন বেহাল অবস্থা। তাই বাজার–সহ গম্বুজটি আগে সারাতে হবে। তারপর ঘড়ির কথা ভাবা হবে।

পুরসভার বাজার বিভাগের মুখ্য বাস্তুকার দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘‌মূল সমস্যা কোথায়, তা বাতলে দিতে আমরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্সট্র‌্যাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছি। একটি দল গড়ে ওঁরা কাজ করছেন। কয়েকবার ঘুরে দেখেও গেছেন। ওঁরা যা বলবেন, আমরা সেটাই করব। যাদবপুর আসলে চিকিৎসকের কাজ করছে। ওঁরা রোগ নির্ণয় করে বলবে, আমরা বাকি ব্যবস্থা করব।’ তিনি জানান, যাদবপুরের ওই বিশেষজ্ঞরা আগামী চারমাসের মধ্যেই গম্বুজ ঠিক করার সঠিক উপায় বলবেন।

‘‌মূল বাজারটি ছেড়ে বহু অতিরিক্ত নির্মাণ ভেঙ্গে ফেলতে হবে’‌ বললেন যাদবপুরের কনস্ট্যাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ সোম। তিনি বলেন, ‘‌এই হেরিটেজ বিল্ডিংটি রেস্টোর করার কাজের দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হয়েছে। আগে ক্লক টাওয়ারটি সারাতে হবে। তারপর ঘড়ি। স্থাপত্যটিকে আগের অবস্থায় ফেরত আনাই আমাদের প্রাথমিক কাজ। তবে বাজার অনেক পুরোনো হলেও ঘড়িটি ১৯৩০ সালে বসানো হয়েছে। আমাদের দলে ২০ জন কাজ করছে। আমরা দু’‌মাসের মধ্যেই রিপোর্ট দিয়ে দিতে পারব। আশাকরি পুজোর আগেই কাজ শুরু করতে পারবে পুরসভা। তবে এই ঘড়ির যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হবে। ঘড়ির ঘরটি ভগ্নপ্রায়। ওটা সারানোই আমাদের মূল কাজ।’‌

কলকাতা পুরসভার বাজার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য আমিরুদ্দিন ববি বলেন, ‘‌বিকল ঘড়ির যন্ত্রাংশ এখানে পাওয়া যাচ্ছে না। আনাতে হবে ইংল্যান্ড থেকে। সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে দু’বার টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। তাতে অংশ নেয় একটিমাত্র সংস্থা। ফলে নিয়ম অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করে দিতে হয়। তবে যাদবপুরের বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে করোনা পরিস্থিতি, তাই কাজে দেরি হচ্ছে।’‌

You might also like