Latest News

নারী-পুরুষের সমানাধিকারের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চান জাভেদ আখতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশিষ্ট কবি, গীতিকার এবং চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার (Javed Akhtar) চান দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হোক। তাঁর বক্তব্য, সম্পত্তির উপর নারী ও পুরুষের সমানাধিকার (equal rights) অবশ্যই নিশ্চিত করা দরকার। একই সঙ্গে পুরুষের একাধিক বিয়ে নিয়ে আপত্তি তুলে তিনি বলেছেন, ‘যদি স্বামী দ্বিতীয়, তৃতীয় বিয়ে করতে পারেন, তাহলে স্ত্রী’কেও সেই অধিকার দিতে হবে।’

একটি সর্বভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া জাভেদের সাক্ষাৎকারের এই অংশটি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, এক দেশ-এক আইন নীতি কার্যকর করতে বিজেপি এবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার পথে এগোচ্ছে। গোয়া, গুজরাত, উত্তরাখণ্ড, হিমাচলপ্রদেশ-সহ হালে একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্য এই নীতি কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেছে। ওই নীতি কার্যকর হলে মুসলিম, খ্রিস্টান-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী তাদের ব্যক্তিগত বিশেষ আইনের সুবিধা হারাবেন।

এই পরিস্থিতিতে জাভেদ বলেছেন, ‘আমি অনেক দিন ধরেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার পক্ষে।’ তাঁর বক্তব্য, ‘এটা কোন সরকার করছে সেটা বড় কথা নয়। এতে দেশের মঙ্গল হবে। সরকারের থেকে দেশ বড়। আমি আমার ছেলে ও মেয়েকে সমান সুবিধাদি দিয়ে মানুষ করেছি। আমার সামান্য যেটুকু সম্পত্তি আছে তা সমান সমান ভাগ ওরা পারে।’

জাভেদের নিজের দুই বিয়ে। প্রথম স্ত্রী হানি ইরানির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর উর্দু কবি কাইফি আজমির মেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা আজমিকে বিয়ে করেন তিনি। জাভেদ ও শাবানা অযোধ্যায় মন্দির-মসজিদ বিবাদের নিষ্পত্তি করে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সমর্থন করেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিনের একটা বিবাদ মিটল। সর্বোচ্চ আদালতের রায় সকলের মেনে নেওয়া উচিত।’

তবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা কমন সিভিল কোডের বিষয়ে প্রবীণ জাভেদ নাম না করে বিজেপি নেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি জানতে চাই যে রাজনীতিকরা কমন সিভিল কোডের কথা বলছেন, তাঁরা কি তাদের বোন, মেয়েদের সম্পত্তিতে সমান অংশ দেন’।

তিনি আরও বলেন, ‘কমন সিভিল কোডের খসড়া প্রথমে প্রকাশ্যে আসা দরকার। ভারতের মতো বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় একটি দেশে কি একটি আইন থাকতে পারে কিনা সেটাও একটা বিতর্কের বিষয়। কারও ব্যক্তিগত আইন থাকলে তা হোক, কিন্তু ব্যক্তিগত আইন ও সংবিধানের মধ্যে যদি আমাকে বেছে নিতে হয়, আমি সংবিধানকে এগিয়ে রাখব।’

নাম না করেই গেরুয়াবাদীদেরও খোঁচা দিয়েছেন নামজাদা এই উর্দু কবি ও চিত্রনাট্যকার। ভারতে বিদ্বেষের পরিবেশ নিয়ে জাভেদ বলেন- ‘আমার মনে হয় সমাজে একটা অদ্ভুত উত্তেজনা আছে। এই উত্তেজনা সমাজের নিচুতলা থেকে তৈরি হচ্ছে না। এটি প্রস্তুত করা হয়েছে। মিডিয়াও এটি বজায় রাখতে সাহায্য করছে।’

৭৭ বছর বয়সি জাভেদের কথায়, ‘আপনি যদি কোনও ভারতীয়ের ডিএনএ পরীক্ষা করেন তবে আপনি জানতে পারবেন যে আট-দশ প্রজন্ম আগে, সমস্ত ভারতীয়দের পূর্বপুরুষ কৃষক ছিলেন। কৃষক সবসময় মধ্যপন্থী। তারা চরম অবস্থান নেয় না। যতই এদিক-ওদিক হোক সে মাঝখানেই থাকে। সাধারণ ভারতবাসী, বিভেদ, হিংসা, ঘৃণার বিরোধী।

‘দেশবিরোধী’, ‘শহুরে নকশাল’-এর মতো রূপকের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে মোদী সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই প্রবীণ কবি। জাভেদ বললেন- ‘সরকারের সমালোচনা করলেই আপনি দেশদ্রোহী? ২০১৪-র আগেও সরকার ছিল। সরকার আসে, সরকার যায়। বিরোধী দল সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে, এটাই তার কাজ।’

লালুপ্রসাদের কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট আজ, সকলের শুভেচ্ছা চাইলেন মেয়ে রোহিণী

You might also like