Latest News

শরীর ভেঙে পড়েছে, তাই ইস্তফা দিচ্ছি, আচমকাই ঘোষণা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর, শেয়ার বাজারে ধস

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত কয়েকদিনে দু’বার হাসপাতালে গিয়েছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। তখনই অনেকের সন্দেহ হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী কি অসুস্থ? কিন্তু সরকারিভাবে আবের অসুস্থতার কথা উড়িয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, তিনি রুটিন চেক আপের জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী নিজেই আচমকা ঘোষণা করলেন, তাঁর শরীর ভেঙে পড়েছে। তিনি আর প্রধানমন্ত্রীর কাজ চালাতে পারছেন না। তাই শীঘ্রই ইস্তফা দেবেন।

জাপানে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড করেছেন আবে। তিনি পদত্যাগ করছেন শুনে রাজনৈতিক মহলে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ তাঁর পরে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন এখনও ঠিক হয়নি। আবে পদত্যাগ করছেন শুনেই টোকিও-র শেয়ার বাজারে সূচক নেমেছে দুই শতাংশের বেশি।

একটি সূত্রে জানা যায়, জাপানের প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন আলসারেটিভ কোলাইটিসে ভুগছেন। ২০১২ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরে তিনি অবশ্য জানিয়েছিলেন, তাঁর রোগ নিয়ন্ত্রণে আছে।

গত শুক্রবার সকালে সরকারের মুখপাত্র ইয়োশিহিদে সুগা বলেন, “আবের স্বাস্থ্য যথেষ্ট ভাল আছে। তাঁর সঙ্গে আমার রোজই দেখা হয়। তাঁর শরীর খারাপের কোনও লক্ষণ দেখিনি।” বৃহস্পতিবার ব্লুমবার্গ নিউজকে সুগা বলেন, “২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আবের প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগে তিনি ইস্তফা দেবেন না।”

সাম্প্রতিককালে করোনা অতিমহামারীর মোকাবিলা নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন আবে। প্রথমদিকে সরকার মুখোশ পরা বা হ্যান্ড ওয়াশ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করেনি। অনেক পরে এ ব্যাপারে নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। আবের অর্থনৈতিক নীতি নিয়েও অনেকে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অতিমহামারী শুরুর আগেই জাপানে মন্দা দেখা গিয়েছিল।

আবের লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এখনও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেনি। যতদূর জানা গিয়েছে, দলের নেতারা এ ব্যাপারে একমত হতে পারছেন না। এদিকে জাপানের বিরোধী দলগুলিরও বেশি শক্তি নেই। ফলে তারা শাসক দলে সংকটের ফয়দা তুলতে ব্যর্থ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আবে যদি সত্যিই ইস্তফা দেন, তাহলে উপপ্রধানমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী তারো আসো আপাতত প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। অথবা সরকারের মুখপাত্র তথা মন্ত্রিসভার প্রধান সচিব ইয়োশিহিদে সুগাকেও অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে বলা হতে পারে। এরপরে লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে ভোট হবে। তার মাধ্যমে স্থির হবে, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন।

You might also like