Latest News

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপ্য যাচ্ছে ভূতের অ্যাকাউন্টে! ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল কর্মী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশেষভাবে সক্ষম এক মহিলার নামে বরাদ্দ হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়ে যাচ্ছেন অন্য কেউ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) পাহাড়পুর গ্রামপঞ্চায়েতে। ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েতের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু লাভ না হওয়ায় সংবাদ মাধ্যমের দ্বারস্থ হলেন অসহায় তৃণমুল (TMC) সমর্থক। সাংবাদিকদের মুখে ঘটনাটি শুনে তৃণমূল উপপ্রধানের মন্তব্য, ‘মহিলার মাথার ব্যামো আছে’।

জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) পাহাড়পুর গ্রামপঞ্চায়েতের বাসিন্দা বুলু দেবনাথ। তিনি ও তাঁর স্ত্রী জয়ন্তী দেবনাথ উভয়েই বিশেষভাবে সক্ষম। তাঁদের অভিযোগ, দুয়ারে সরকার প্রকল্প যখন শুরু হয় সেই সময় জয়ন্তী দেবনাথ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করেন। এরপর থেকে তাঁর মেয়েকে দিয়ে প্রায়শই মোবাইলে মেসেজ চেক করাতেন টাকা ঢোকার মেসেজ এসেছে কিনা। কিন্তু অন্যান্যরা টাকা পেলেও তিনি টাকা পাননি। শেষপর্যন্ত বিডিও অফিসে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন তার টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে। আর এতেই হতাশ হয়ে পড়েন তিনি।

এরপর তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক দফায় পঞ্চায়েতের কাছে যান। কিন্তু পঞ্চায়েতে তাঁকে পাত্তা না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। জয়ন্তী দেবনাথ বলেন, “আমি বিডিও অফিসে গেলে জানতে পারি আমার টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে। আমার গ্রামীণ ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট। অথচ যিনি টাকা পাচ্ছেন তার স্টেট ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আমার সন্দেহ এর মধ্যে বড় কোনও দুর্নীতি রয়েছে। আমি নিজেও তৃণমূল করি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের জন্য এত কিছু করছেন কিন্তু মাঝখানে পঞ্চায়েত আর কিছু মানুষের জন্য সব বৃথা যাচ্ছে।”

জয়ন্তীর স্বামী বুলু দেবনাথ বলেন, “আমার স্ত্রীর কাছ থেকে কাগজ নিয়ে পঞ্চায়েত কাগজ আটকে রেখেছিল। এখন দেখতে পাচ্ছি ওরা নিজেদের লোকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দিয়ে দিয়েছে। আমাদের গ্রামে শুধু আমরাই নই আরও অনেকেই এই দুর্নীতির শিকার হয়েছে। তাই তারাও টাকা পাচ্ছেন না। আমি বাসে বাসে বাদাম বিক্রি করি। দীর্ঘদিনের তৃণমূল কর্মী। এই পঞ্চায়েতকে জেতানোর জন্য প্রচুর খেটেছি। এখন জেতার পর আমাদের সঙ্গেই এরা প্রতারণা করছে।”

পাহাড়পুর গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান বেনুরঞ্জন সরকার বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে যিনি ফর্ম ফিলাপ করেন তিনি যে অ্যাকাউন্ট নম্বর দেন সেখানেই টাকা ঢোকে। এই ক্ষেত্রে কী হয়েছে তা তদন্ত না করে বলতে পারব না। তবে যিনি অভিযোগ করেছেন তাঁর মানসিক বিকৃতি আছে। সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা পান কিন্তু বলেন কিছুই পাননি।”

খেত থেকে উদ্ধার মস্ত পাইথন! কাবু করতে হিমশিম খেলেন বনকর্মীরা

You might also like