Latest News

ট্যাব পাওয়া পড়ুয়া মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দুটি পরামর্শ দিল, শুনল দ্য ওয়াল

আদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়

(যাদবপুর বিদ্যাপীঠের ছাত্র)


আজ রাজ্য সরকার (West Bengal Government) আরও নয় লাখ ছাত্রছাত্রীকে মাথাপিছু দশ হাজার টাকা দেবে যাতে তারা ট্যাবলেট কম্পিউটার বা স্মার্টফোন কিনে নিতে পারে। অনলাইন ক্লাসের জন্য গত বছর চালু হওয়া এই প্রকল্পের সুবিধা আমি পেয়েছি। বাড়ি বসে স্কুল, কোচিংসের ক্লাস করাই শুধু নয়, এই ট্যাব আমাদের জীবনে এক বিরাট পরিবর্তন এনে দিয়েছে। শুধু একজন ছাত্রের দৃষ্টিকোণ থেকেই যদি বলি তাহলে বলব, হাতের মুঠোয় যেন ন্যাশনাল লাইব্রেরি এসে হাজির হয়েছে। যারা সত্যি সত্যি পড়াশুনো চালাতে চায় তাদের জন্য এই ট্যাব এই অমূল্য সুবিধা, কোনও সন্দেহ নেই।

আমার সুবিধার কথাই আগে বলি। আমি এবছর যাদবপুর বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছি। গত বছর করোনা পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ, তখন মুখ্যমন্ত্রী দ্বাদশ শ্রেণির ছেলেমেয়েদের ট্যাব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। আমাদের প্রত্যেকের একাউন্টে দশ হাজার টাকা করে ঢুকেছিল। সেটা যে কত বড় সুবিধা ছিল ট্যাব হাতে পাওয়ার পর তা বুঝতে পেরেছিলাম।

আরও পড়ুনঃ বিজেপির চন্দনা আত্মসমর্পণ করলেন, ‘দ্বিতীয় স্বামী’ বিতর্কে জেরবার বিধায়ক

আমার ভাই এবছর একাদশ শ্রেণিতে উঠল। আর আমি কলেজে ভর্তি হব। ট্যাবটা পাওয়ার আগে আমাদের একমাত্র মোবাইলে অনলাইন ক্লাস করতে খুবই সমস্যা হত। মাস্টারমশাইদের অনুরোধ করতে হত ক্লাসের সময় বদলানোর জন্য। কারণ, প্রায়ই দুই ভাইয়ের একই সময় ক্লাস থাকত। স্কুলের পাশাপাশি কোচিং ক্লাসও হত অনলাইনে। ট্যাব হাতে আসার পর সে সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে।

শুধু অনলাইন ক্লাসই তো নয়, ইন্টারনেটের যুগে ট্যাব, স্মার্ট ফোনের মতো একটা যন্ত্র হাতে থাকলে গোটা বিশ্বকে হাতের মুঠোয় আনা সম্ভব। একটু একটু করে সেই সব সুবিধা পাচ্ছি ঘরে বসেই। এই যেমন গ্রাজুয়েশনে ভর্তির জন্য আমাকে কোথাও ছুটতে হল না। এমনকী পাড়ায় আই কাফেতেও যেতে হল না। ট্যাবে বিভিন্ন কলেজের ওয়েবসাইট খুলে খুলে দেখেছি কোথায় কী বিষয় পড়ানো হয়, কত নম্বর দরকার ইত্যাদি। অনলাইনে খোঁজ খবর নেওয়া, ভর্তি ইত্যাদি ব্যবস্থা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সেগুলির সুবিধা নিতে আমাদের ছুটতে হত আই কাফেতে। অথবা বন্ধুবান্ধবকে অনুরোধ করতে হত। এখন নিজের ট্যাব থেকে ঘরে বসে সেই কাজটা সারতে পারছি।

আর যে কথা আগে বলছিলাম, শুধু তো পড়াশোনা নয়, এরকম একটা যন্ত্র হাতে আসার পর পরিবারের বাকিদেরও অনেক সুবিধা হয়েছে। যেমন ব্যাঙ্কিংয়ের প্রায় পুরোটাই এখন ঘরে বসে করা যাচ্ছে। আগে আমাকে প্রায়ই ব্যাংকে ছুটতে হত। অনলাইন কেনাকাটা তো আছেই। তাছাড়া পছন্দের পড়াশুনো, পছন্দের বিষয় নিয়ে পৃথিবীর কোন প্রান্তে কী হচ্ছে ঘরে বসে জেনে নিতে পারছি।

আশাকরি করোনা একদিন চলে যাবে। কিন্তু অনলাইন ক্লাস থেকে যাবে বলেই আমার ধারণা। তাই ট্যাব একটা বিরাট বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এল আমরা যারা উচ্চশিক্ষার সুবিধা পেতে আগ্রহী। এ জন্য মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারকে অসংখ্য কৃতজ্ঞতা জানাই।

আরও পড়ুনঃ মুকুল রায় হাসপাতালে, স্মৃতিনাশ নিয়ে এসএসকেএমে তৃণমূল নেতা

সেই সঙ্গে আমার দুটি পরামর্শ দ্য ওয়াল-এর মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই। তা হল, যদি সম্ভব হয়, বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদেরও এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হোক। বিশেষ করে যাদের ট্যাব কেনার সামর্থ নেই। বেসরকারি স্কুলগুলিতেও অনেক সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। তাছাড়া, করোনা, লকডাউন ইত্যাদিতে সবাই কম-বেশি বিপন্ন। আমরা যখন ট্যাব কেনার জন্য টাকা পেলাম তখন প্রাইভেট স্কুলের বন্ধুদের মন খারাপ হয়েছিল।

আমার দ্বিতীয় প্ররামর্শ হল ট্যাব দেওয়া হোক একাদশ শ্রেণি থেকে। তাহলে দ্বাদশের প্রস্তুতিটা আরও ভাল করে নেওয়া যাবে। এক বছর আগেই উচ্চশিক্ষার গোটা বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট হয়ে যাবে। তাতে সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে যে, দ্বাদশের পর কী বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করব, কোন বিষয় নিয়ে পড়লে ভবিষ্যৎ কেমন, পছন্দের বিষয়গুলি কোথায় পড়ানো হয়, এসব নিয়ে চর্চা ঘরে বসেই শুরু করে দেওয়া যাবে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like