Latest News

আল্পসে আরোহণ, চিনের প্রাচীরে দৌড়নো শিলিগুড়ির দেবব্রতর অভিযান যেন রূপকথা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অদম্য ইচ্ছেশক্তি, দৃঢ়সংকল্প মন, মানসিক প্রত্যয়, সজাগ উপলব্ধি থাকলে মানুষের সব ইন্দ্রিয়গুলি আরও তরতাজা হয়ে ওঠে। সেইসময় দু’হাত মেলে আকাশে (Sky) উড়তে ইচ্ছে করে। ভাসতে ইচ্ছে করে সাগরের বুকে।

জল-স্থল-অন্তরিক্ষ, যে ক্রীড়াবিদের (Trail Runner) এই তিনক্ষেত্রেই অবাধ পদচারনা, তিনি আর সাধারণ কেউ নন। তাঁর ভাবনার সঙ্গে গড়পড়তার কৌশল মিলবে না। তিনি ভাবতে পারেন আরও বেশি, স্বপ্ন দেখার পরিধিটা আরও বিস্তারিত হয়ে ওঠে।

বিধ্বংসী শিবা, গেমসে বক্সিং রিংয়ে পাক বধ, উড়ে গেলেন সুলেমান

যেমন শিলিগুড়ির দেবব্রত ঘোষ (Debabrata Ghosh), যিনি প্রমাণ করেছেন, বয়স সত্যিই একটি সংখ্যামাত্র। তিনি এখনই ৪৮, কিন্তু তাঁর প্রাণশক্তি যেন বাইশের যৌবনকেও হার মানায়। তাঁর অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ বাকিদের থেকে বেশি, তাই তাঁর হিমোগ্লোবিনে হার বলে কোনও শব্দ নেই। তিনি জিততে পারেন, তিনি জয়ের দিশা দেখাতে পারেন।

তিনি প্রথমে ছিলেন পর্বতারোহী। বিশ্বের সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, যা পর্বতারোহণ জগতে ‘সপ্তশৃঙ্গ’ নামে পরিচিত, তার মধ্যে তিনটি শৃঙ্গ আরোহণ করেছেন দেবব্রত। সেগুলি হল ইউরোপের মাউন্ট এলব্রুস, আফ্রিকার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো ও দক্ষিণ আমেরিকার একোঙ্কাগুয়া। বাকি আর চারটি। সেগুলি হল উত্তর আমেরিকার দেনালি, আন্টার্কটিকার ভিনসন ম্যাসিফ, অস্ট্রেলিয়ার মাউন্ট কসিউজকো ও এশিয়ার মাউন্ট এভারেস্ট। কিন্তু তাঁর কাছে বড় সমস্যা হল স্পনসর পাওয়া, সেটাই তাঁর প্রতিটি অভিযানের আগে চিন্তার কারণ।

Image - আল্পসে আরোহণ, চিনের প্রাচীরে দৌড়নো শিলিগুড়ির দেবব্রতর অভিযান যেন রূপকথা
গভীর অরণ্যের মধ্যে দিয়ে দৌড়ে চলেছেন দেবব্রত।

তিনি ৫০-র দিকে এগিয়ে চলেছেন, তিনি যতই ফিট থাকুন না কেন, যারা বিনিয়োগ করবে, তারাও ঝুঁকি নিতে পারছেন না। তাই তিনি নিজের কৌশল বদলে হয়ে গিয়েছেন ট্রেল রানার। যে পথ বিপদসঙ্কুল, তিনি সেই পথেই দৌড়ে চলেছেন। অবিরাম, অনবরত ছন্দে তিনি এগিয়ে চলেছেন দূর্বার গতিতে। তাই তিনি আল্পসে আরোহন করেছেন, কিংবা চিনে গিয়েছিলেন ট্রেল রানের জন্য, সবেতেই তাঁর বাজিমাত।

দেবব্রতর নিজের কথা..

ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ব্যর্থতা রয়েছে, পড়াশোনা, প্রেম, ব্যবসা। ব্যর্থতা মানেই অনেক গল্প। আর আমি যেই ইভেন্ট গুলোর সাথে যুক্ত সেখানে রিস্ক ফ্যাক্টর রয়েছে।

বিশেষ করে পর্বতারোহণ, স্কিইং ও ট্রেল রানে সবচেয়ে বেশি। এই সব ইভেন্ট আপনাকে দ্বিতীয় সুযোগ দেবে না। পা হড়কালে বা স্পিড কন্ট্রোলে না থাকলে আপনি কোথায় গিয়ে পড়বেন সেটা কেউ জানে না। সব সময় আপনাকে ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিতে হবে।

ধরুন, আমি একটি ইভেন্টে যাচ্ছি সেটা বেঙ্গালুরু হোক বা বার্লিন। সেখানে যাবার আগে আমি প্রস্তুত হয়েই যাই, যাতে আমি সফল হতে পারি। ইভেন্টে দৌড়তে হবে হয়তো আমাকে ৪২ কিলোমিটার, কিন্তু তার আগে আমাকে ১০০০ কিলোমিটার দৌড়তে হয়েছে নিজেকে রেসে নামার উপযুক্ত করে তোলার জন্য।

পাহাড়কেও ভালবেসে আপন করেছেন এই ট্রেল রানার।

কোনও ইভেন্টে ৫০ ঘন্টা সাইকেল চালাতে হবে। মানে সারাদিন, সারারাত, সারাদিন। এর সময়ের মধ্যে খাবার খেতে হবে, বিশ্রাম নিতে হবে। সারাদিন সাইকেল চালানোর পর রাতে ঘুমিয়েছি এক ঘন্টা, তারপর আবার সারাদিন। এর জন্য তো আপনাকে আগে থেকেই শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনাকে পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে হবে। নতুবা আপনি ইভেন্টে নামবেন কি করে? লোকে তো সফলতাটা দেখছে। কিন্তু সফল হবার জন্য কতটা ঘাম ঝড়াতে হয়েছে, কত কিছু ত্যাগ করতে হয়েছে, কতগুলো জুতো নষ্ট হয়েছে তার হিসেবে ক’জন রাখে।

আমি প্রচুর ঝুঁকি নিয়েছি, তবে সমস্তটাই ক্যালকুলেটিভ রিস্ক। পর্বত আরোহন করা অপশনাল, কিন্তু নেমে আসাটা ম্যান্ডাটরি। পাহাড়ে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ার অভিজ্ঞতা আমার হয়নি। ব্যর্থ লোকের গল্প বেশি।

কিছু মানুষ আছেন যাদের কোনো যোগ্যতা নেই অথচ অন্যকে হেয় করাটাই তাদের কাজ। সেই সব ব্যক্তি আমাকে সফল হবার ইন্ধন জুগিয়েছে।

পর্বত আরোহন করতে গিয়ে দুই বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে ফিরে এসেছি। দুই বারই শৃঙ্গ আরোহন করে ফিরে আসার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলাম। সাইকেলে অনুশীলন করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পরে বুড়ো বয়সে একটা দাঁতও ভেঙেছে।

এছাড়া সাধারণ লোকের কাছে যেগুলো ঘটনা, সেগুলো আমার কাছে সাধারণ ব্যাপার। আমি সপ্তাহে ৫০ কিলোমিটার দৌড়ই। এটা আমার কাছে সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু সাধারণ লোকের কাছে এটাই একটা বড় ব্যাপার।

You might also like