Latest News

গ্রেফতার মিসাইল অপারেটর! ‘ভুল করে’ ইউক্রেন বিমান ধ্বংসের বিচারে তৎপর ইরান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহে ইরানের তেহরান বিমানবন্দর থেকে উড়ান নেওয়ার পরেই ভেঙে পড়ে ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান। ১৭৬ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভেঙে পড়েছে বিমানটি। কয়েক দিন আগে ‘ভুল স্বীকার’ করে নেয় ইরান। জানায়, শত্রুপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে ওই বিমানে মিসাইল ছুড়েছিল তারা। এই ঘটনায় গ্রেফতার হলেন ইরানের এক মিসাইল অপারেটর।

ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের এরোস্পেস কম্যান্ডর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলি হাজিজাদে জানিয়েছেন, একজন মিসাইল অপারেটর ভুল করে ওই যাত্রীবাহী প্লেনটিকে ক্ষেপণাস্ত্র বলে চিহ্নিত করেন। তার পরে নিজের সিদ্ধান্তেই সেই বিমানটিকে নিশানা করে মিসাইল হামলা চালান তিনি। গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে।

মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ইরানের বিচারবিভাগীয় মুখপাত্র গোলাম হোসেন ইসমাইলি এই গ্রেফতারির খবর ঘোষণা করেন।তবে ওই মিসাইল অপারেটর ছাড়া আর কত জন গ্রেফতার হয়েছেন, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তিনি বলেন, “ইউক্রেনের বিমানটি ভেঙে পড়ার ঘটনায় বিস্তারিত তদন্তের পরে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

আরও পড়ুন: ইরানে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, পাইলট, কর্মী, যাত্রী-সহ মৃত ১৭৬

গত বুধবার, অর্থাৎ ৮ তারিখে তেহরানের ইমাম খোমেইনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেক উড়ান শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমান। জানা যায়, বিমানটি ‘ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স’-এর। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় বিমানের ১৭৬ জন যাত্রীরই। তার পরেই ইরান তড়িঘড়ি জানিয়েছিল যে যান্ত্রিক গোলযোগের জন্যই দুর্ঘটনাগ্রস্থ হয়েছে বিমানটি। কিন্তু সেই দাবি নিয়ে দেখা দেয় সন্দেহ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছিল, উপগ্রহ, রাডার ও বৈদ্যুতিন যন্ত্রসমূহ থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে তা ইঙ্গিত করছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ওই বিমান দুর্ঘটনার কারণ হতেই পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমার মনে হয়, বিমানটি হয়তো কোনও স্পর্শকাতর এলাকায় ঢুকে পড়েছিল। তখনই কেউ ভুল করে কিছু করে ফেলেছে। প্রযুক্তিগত গন্ডগোল নয়, কোনও বড় ভুল হয়েছে বলে মনে হয় আমার।” এভাবেই নাম না করেও ইরানকে বিঁধেছেন ট্রাম্প।

আরও পড়ুন: ৫০০ দিনে ৫০০ মৃত্যু, দুর্ঘটনার রেকর্ড করে ফেলেছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০

একই সুরে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো-ও। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানই ওই বিমানটিতে হামলা চালিয়েছিল। একাধিক গোয়েন্দা সূত্র এমনই বলছে বলে দাবি তাঁর। বিমানটিতে ৬৩ জন কানাডার নাগরিক ছিলেন। গোয়েন্দা বিভাগের মতে, ইরান থেকে আকাশে ওড়া ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল বিমানটিকে। হয়তো ভুল করেই এমনটা ঘটে গেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও এমনই দাবি করেছিলেন। তবে এই হানা ইরান ভুল করে করেছে বলেও মনে করেন তিনি। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছিলেন বরিস জনসন।

দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের দ্বারস্থ হয় ইউক্রেনও। ইউক্রেনের ৪৫ সদস্যের একটি দল তেহরানে পৌঁছে যায়।

আরও পড়ুন: ইরানের ভুল হামলার জেরে তেহরানে ভেঙে পড়েছে বিমান! দাবি করল আমেরিকা, রাষ্ট্রসঙ্ঘের দ্বারস্থ ইউক্রেন

এই সমস্ত দাবি অবশ্য প্রাথমিক ভাবে উড়িয়ে দিয়েছিল ইরান। তাদের হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও জানিয়ে দিয়েছিল তারা। নির্দিষ্ট একটি বিমান তারা ভুল করে ধ্বংস করে দিয়েছে, এমনটা অবাস্তব ধারণা বলেই জোর গলায় দাবি করেছিল তারা। ইরানের মন্ত্রী আলি আবেদজাদেহ বলেছেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া ব্ল্যাকবক্স থেকে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বার করার চেষ্টা চলছে।

তদন্তের পরেই ভুল স্বীকার করে নেয় ইরান। শনিবার  ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের কথা স্বীকার করে তারা। ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে এই ঘটনার দায় নিয়ে ইরান সেনার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, মিসাইলের আঘাতেই ভেঙে পড়েছিল বিমান, তবে ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালানো হয়নি। ভুলবশত দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। ঘটনার দায় স্বীকার করে ক্ষমাও চান ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রৌহানি।

ইতিমধ্যে কিছু ছবিও সামনে এসেছে, যাতে স্পষ্ট দেখা গেছে একটি নয়, দু-দু’টি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘেতে ভেঙে পড়ে ইউক্রেনের বিমানটি।

আরও পড়ুন: ‘মানুষের ভুলে’ই গুলি, তাতেই ভেঙে পড়েছিল ইউক্রেনের বোয়িং, বলল ইরান

ইরান ‘ভুল’ মেনে নেওয়ার পরেই একের পর এক বিবৃতি দিয়ে শাস্তির দাবি তুলতে থাকে ইউক্রেন, কানাডা। ইউক্রেনিয়ান প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জ়িলেন্সকি ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করে লেখেন, “ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। আশা করব এমন ঘটনার জন্য ইরান অনুতপ্ত এবং নিজেদের ভুল মেনে নেবে। খুব দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। এতগুলো প্রাণহত্যার জন্য ক্ষতিপূরণও দিতে হবে ইরানকে।”

বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন ওঠে, ভুল স্বীকার করলেই কি এতগুলি মানুষকে মেরে ফেলার অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া যায়? দেখুন ভিডিও।

সাত খুন মাফ?

ইরান বলেছে, ভুল করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইউক্রেনের বিমানটি ধ্বংস করে ফেলেছে তারা। কিন্তু ভুল স্বীকার করলেই কি ১৭৬ জনের খুন মাফ হয়ে যায়?

The Wall এতে পোস্ট করেছেন সোমবার, 13 জানুয়ারি, 2020

যাদের ভুলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও। কানাডার তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বিমানটিতে ৬৩ জন কানাডার নাগরিক ছিলেন। এটা জাতীয় বিপর্যয়। মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ইরানকে।

আরও পড়ুন: শাস্তি চাই, ক্ষতিপূরণও! ইরান ‘ভুল’ স্বীকার করার পর গর্জে উঠল ইউক্রেন, কানাডা

মিসাইল অপারেটরের গ্রেফতার হওয়ার খবর সামনে আসার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট রৌহানিও বার্তা দিয়েছিলেন এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কোনও রকম ছাড় না দেওয়ার।

তবে কূটনীতিকদের মতে, প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই এই স্বীকারোক্তি ও গ্রেফতারির পদক্ষেপ করেছে ইরান। কারণ সামরিক বিধি বলছে, উপরতলার নির্দেশ ছাড়া মিসাইল অপারেটর কখনওই ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়তে পারে না। ফলে শীর্ষকর্তাদের আড়াল করতেই মিসাইল অপারেটরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

You might also like