Latest News

অবসাদ, আত্মহত্যার ঝুঁকি! ভারতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আবেদনের অনুমতি নীরবকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীকে মানসিক স্বাস্থ্য, মানবাধিকারের খাতিরে  ভারতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আবেদন জানানোর অনুমতি দিল ব্রিটেনের হাইকোর্ট।  পিএনবি আর্থিক জালিয়াতি মামলায় নীরবকে ভারতে বিচারের জন্য ব্রিটেন থেকে ফেরানোর  জোর চেষ্টা চলছে।  তার বিরুদ্ধে গত মাসে ভারতের জেলে বেহাল দশার উল্লেখ করে তাঁকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেওয়ার মতো মানসিক অবসাদের প্রবল ঝুঁকি রয়েছে বলে নতুন আবেদনের স্বপক্ষে সওয়াল করেন  তিনি। ফেব্রুয়ারি বিচারক স্যাম গুজি তাঁর প্রত্যর্পণের রায় দেন। তাতে এপ্রিলে সিলমোহর দেন ব্রিটিশ বিদেশসচিব প্রীতি পটেল। তার বিরুদ্ধে ২১ জুলাই নীরবের আবেদনের ওপর শুনানি করে রায় ঘোষণা স্থগিত রাখেন বিচারপতি মার্টিন চেম্বারলেইন।

মোদীর কৌঁসুলি সওয়াল করেছিলেন, ভারতে জেলে ডাক্তার সংখ্যায় কম, জেলগুলি ভিড়ে ঠাসা। তাই প্রয়োজনের সময় বন্দিদের হাসপাতালে নিতে দেরি হয়। ৮ বছর বয়সেই মা আত্মহত্যা  করেছিলেন, নিয়মমতো মনোবিদের পরামর্শও  নিতে পারেননি বলে উল্লেখ করে নীরবের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি ও আত্মহত্যার প্রবণতার কথাও বলেন তিনি। দাবি করেন, নীরবকে  প্রত্যর্পণ করা হলে তিনি আত্মহত্যা করে বসতে পারেন প্রবল মানসিক অবসাদের চাপে।  সেই  কারণেই তাঁকে প্রত্যর্পণ করা ঠিক হবে না।

ভারতের কারাগারে  নিজের পছন্দের কোনও সাইক্রিয়াটিস্টের সঙ্গে পরামর্শের অধিকার আছে বলে দাবি করে মোদী যুক্তি দেন, তাঁর কাছে যেতে হলে বিচারকের সম্মতি লাগবে। বিচারকের মর্জির অপেক্ষায় থাকতে  হবে। হয়তো অনুমতি পেতে দেরি হবে, যার জেরে তাঁর অবস্থার অবনতি হতে পারে।  আর ভিড়েঠাসা জেলে সাইক্রিয়াটিস্টকে নিয়ে আসা হলে কর্মীসংখ্যার অপ্রতুলতার ফলে তাঁকে ওষুধ দিতে দেরি হতে পারে। এমনই সওয়াল করেন মোদীর আইনজীবী।  আর্থার রোড জেলে কখনই প্রাইভেটে ডাক্তার দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয় না বলে উল্লেখ করে তিনি একটি কেসের উল্লেখও করেন যেখানে আদালত বন্দির মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনুমতি দেয়নি। করোনা মহামারীর জেরে কোভিড কবলিত জেলে সাইক্রিয়াটিস্ট নিয়ে আসাও কঠিন বলে জানান তিনি। বলেন, মহারাষ্ট্রে কোভিড ১৯ সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, চিকিত্সা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে।

তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তরফে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের ব্যারিস্টার হেলেন ম্যালকম পাল্টা বলেন,  নীরবের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষজ্ঞের মতের বিরোধিতা করা হয়নি, ভারত সরকারের তরফে পর্যাপ্ত চিকিত্সা পরিষেবার আশ্বাসও মিলেছে।

প্রসঙ্গত, মেহুল চোকসি ও তাঁর ভাগ্নে নীরব পিএনবি জালিয়াতি ফাঁস হয়ে ভারতীয় ব্যাঙ্ক ব্যবসায় কাঁপুনি ধরানোর কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারত ছেড়ে পালান। নীরব ধরা পড়েন লন্ডনে। আর মেহুল ২০১৭য় অ্যান্টিগা ও বারবুডার নাগরিকত্ব নেন।

You might also like