Latest News

মুখোমুখি চিন ও ভারতের বিদেশমন্ত্রী, লাদাখ নিয়ে ক্রমবর্ধমান অশান্তি দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট করছে, বললেন জয়শঙ্কর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ক্রমবর্ধমান অশান্তি দুই দেশের সম্পর্কে খারাপ প্রভাব ফেলছে। তাজাকিস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকে চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-কে এমনই বার্তা দিলেন ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সীমান্ত সহ একাধিক ইস্যুতে বুধবার এক ঘণ্টারও বেশি বৈঠক হয়েছে দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর। চিন ও ভারত সেনা আধিকারিকের মধ্যে বৈঠকেও সায় দিয়েছেন দুজনেই।

সামরিক স্তরে দফায় দফায় বৈঠকের পরেও সীমান্ত সমস্যার সমাধানে এসে পৌঁছতে পারেনি ভারত ও চিন দুই দেশই। বরং সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে শান্তি বজায় রাখার যে আলোচনা হয়েছিল দুই দেশের মধ্যে তার মর্যাদা ভেঙেছে চিনই। নতুন করে আগ্রাসনের চেষ্টা দেখিয়েছে তারা। যার কারণে রীতিমতো যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে লাদাখ সীমান্তে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলএসি-তে কীভাবে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনা যায় সেই নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর। সীমান্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ মীমাংসার জন্য আলোচনা চলছে দু’তরফেই। প্যাঙ্গং থেকে সেনা সরলেও পূর্ব লাদাখের সবকটি স্পর্শকাতর এলাকা থেকে চিন যে সেনা সরায়নি সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন জয়শঙ্কর। সেই সঙ্গেই তিনি সাফ জানিয়েছেন, দুই দেশই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে তখনই আসবে যখন বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা হবে। লাদাখে সীমান্তে কোনও রকম বদল মেনে নেবে না ভারত।

পূর্ব লাদাখে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রথম নয়। আগেও বহুবার হয়েছে। কিন্তু সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে বৈঠকের পরে তার সমাধানও করা গেছে। কিন্তু ১৫ জুন গালওয়ানের মুখোমুখি সংঘাতের পরে সীমান্ত পরিস্থিতি চরমে ওঠে। দফায় দফায় বৈঠকেও শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বরং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র জানাচ্ছে, উত্তর ও দক্ষিণ প্যাঙ্গং লেক ও তার সংলগ্ন পাহাড়ি খাঁজ থেকে লাল সেনা সরেছে ঠিকই, তবে অন্যদিকে গোগরা, হট স্প্রিং, দেপসাং ভ্যালিতে নতুন করে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। অস্ত্রসস্ত্রও মজুত হচ্ছে। নতুন করে অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করে ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় চিনের ফৌজ যে হামলা চালাতে পারে, সে সম্ভাবনাও প্রবল হয়েছে। কিছুদিন আগেই নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ করে সংঘর্ষে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিনের বিরুদ্ধে। বেজিং বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে দাবিও করেছে নয়াদিল্লি। সীমান্তে শান্তি ও সুস্থিতি এখনও ফেরেনি। এমন অবস্থায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপায় খুঁজতেই আলোচনার টেবিলে বসেছেন দুই দেশের বিদেশমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন-এর বৈঠকের ফাঁকে দুই বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর শান্তি রক্ষায় পাঁচটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়। সূত্রের খবর, বৈঠকে ভারত চিনকে বলে, ১৯৯৩ এবং ১৯৯৬ সালে দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল এখন লাদাখ সীমান্তে তা লঙ্ঘিত হচ্ছে। চিন যে ভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সেনা এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম মজুত করেছে, তা চুক্তির পরিপন্থী। তা অবিলম্বে সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে চিনকে। বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বাসের আবহ, আগ্রাসী মনোভাব না-নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক রীতি মেনে মতবিরোধ দূর করার উপরেই গোটা এলাকার শান্তি এবং নিরাপত্তা নির্ভর করছে।

You might also like