Latest News

দানব গ্রহাণুকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিল ‘ডার্ট’, পৃথিবীকে বাঁচাতে ব্রহ্মাস্ত্র বানিয়েছে নাসা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশাল চেহারা নিয়ে হোমড়াচোমড়া গ্রহাণু (Asteroid) প্রায়ই ছুটে আসে পৃথিবীর দিকে। ধাক্কা লাগবে কিনা সে নিয়ে চিন্তার ভাঁজ চওড়া নয়। কখনও বীর বিক্রমে ধেয়ে আসে আগুনে ধূমকেতু। মহাজাগতিক এইসব বস্তুদের থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতেই ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ বানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। এক অস্ত্রেই কুপোকাত হবে রাক্ষুসে গ্রহাণু। পৃথিবীর দিকে তেড়ে আসা যে কোনও প্রলয়ঙ্কর মহাজাগতিক বস্তুরই বিনাশ করতে পারবে নাসার অস্ত্র  ‘ডাবল অ্যাস্টারয়েড রিডাইরেকশান টেস্ট’, সংক্ষেপে ‘ডার্ট’।

মহাশূন্যের বিশাল কোনও গ্রহাণু থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসা আগুনের গোলা ঢুকে পড়ে পৃথিবী ও চাঁদের কক্ষপথে। দানব সেই গ্রহাণুর টুকরো উল্কাবৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে পৃথিবী আর চাঁদের বুকে। আছড়ে পড়ার আগে পৃথিবী আর চাঁদের সঙ্গে ঘাতপ্রতিঘাতও হয়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছেন, ডাইনোসরদের ধ্বংসের জন্য যে গ্রহাণুকে দায়ী করা হয় তার থেকেও বিশাল ও ভয়ঙ্কর এক গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর টক্কর হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৮০ কোটি বছর আগে। মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল পৃথিবীর। প্রলয়ঙ্কর সেই উল্কাপাতে প্রায় এক তৃতীয়াংশের বেশি প্রাণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল পৃথিবীতে। বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বেশ কিছু প্রজাতির প্রাণী। নন-অ্যাভিয়ান অর্থাৎ যারা উড়তে পারে না এমন ডাইনোসরের কিছু প্রজাতিও বিলুপ্ত হয়েছিল সেই উল্কাপাতের কারণে।

NASA to deflect asteroid in key test of planetary defence - CNA

প্রাগৈতিহাসিক সেই ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয় সে কারণেই এমন অস্ত্র বানিয়েছে নাসা (NASA)। এখন এই অস্ত্রের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হচ্ছে। নাসার ডার্ট টেস্ট মিশনে দেখা হচ্ছে দানব গ্রহাণুকে কত তাড়াতাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়। কিভাবে গতিপথ পরিবর্তন করা যায় পৃথিবীর দিকে চোখ রাঙিয়ে তেড়ে আসা মহাজাগতিক বস্তুদের।

নাসা জানিয়েছে ডাইমরফোস গ্রহাণুকে টার্গেট করা হয়েছিল। ৫৩০ ফুট চওড়া ডাইমরফোসের উপরে আছড়ে পড়বে ডার্ট। তার পর কক্ষপথ থেকে সামান্য সরিয়ে দেবে তাকে। এই ডাইমরফোস আবার প্রদক্ষিণ করছে তার থেকে বহু বড় গ্রহাণু ডিডাইমসকে (২৫০০ ফুট ব্যাস)। দু’টি গ্রহাণু একত্রে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। বলা হয়, ডিডাইমসের ‘মুনলেট’ (উপগ্রহের মতো) হল ডাইমরফোস।

এই দুই গ্রহাণু অবশ্য পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর নয়। সবটাই করা হচ্ছে পরীক্ষামূলক ভাবে। তবে এরা ‘নিয়ার আর্থ অবজেক্টস’ গোষ্ঠীর মধ্যে পড়ে। পৃথিবীর চারপাশে ৩ কোটি মাইলের মধ্যে কোনও মহাজাগতিক পদার্থ চলে এলেই তাকে এই গোষ্ঠীতে ফেলা হয়। নাসা জানিয়েছে, অস্ত্র পরীক্ষা করে ডাইমরফোসকে গ্রহাণু অন্য কক্ষপথে সরিয়ে দেওয়া গেছে। মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে এ এক যুগান্তকারী সাফল্য।

ভবিষ্যতে কোনও গ্রহাণু বা মহাজাগতিক পদার্থ পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, এই প্রযুক্তিতে তাকে সফল ভাবে প্রতিরোধ করা যাবে কিনা সেই পরীক্ষাই এখন করছে নাসা।

You might also like