Latest News

মেরিল্যান্ডের পুজোয় কলকাতার সাবেকিয়ানা, শিকড়ের টানে উদ্যোগী দুই বাঙালি পরিবার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঐতিহ্যের পুজো। এখানে বাগবাজারের ডাকের সাজ নেই। পায়ে হেঁটে গোটা উত্তর কলকাতা চষে ফেলার দমও নেই। তবে যেটা আছে সেটা হল শিকড়ের টান। নস্ট্যালজিয়াকে শিরায় শিরায় অনুভব করার শিহরণ। নিজের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার অদম্য প্রয়াস এবং অবশ্যই বুক ভরা আন্তরিকতা। আপন শহর কলকাতাকে মনে রেখেই গত বছর থেকে ধুমধাম করে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আয়োজন হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে। বাঙালি আভিজাত্যে, আচার-অনুষ্ঠান-রীতি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেরিল্যান্ডে দুর্গাপুজো করছে দুই বাঙালি পরিবার।

পিটসবার্গের বন্দ্যোপাধ্যায় ও সরকার পরিবার আত্মীয়তার সূত্রে বাঁধা। এই দুই পরিবারের উদ্যোগেই গত বছর থেকে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছে মেরিল্যান্ডে। বিদেশ-বিভুঁইয়ের পুজো মানেই সপ্তাহান্তের হুল্লোড়। কোথাও একই দিনে বোধন থেকে বিসর্জন, আবার কোথাও দু’দিনের মধ্যেই তড়িঘড়ি গোটা পুজো সেরে ফেলার প্রস্তুতি। তবে, সংক্ষিপ্ত হলেও আবেগ দিয়ে, ভালোবাসা দিয়েই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুজো। মেরিল্যান্ডের পুজো অবশ্য নিয়ম মেনে পাঁচদিনই হবে।

কলকাতার পুজোর থিম নিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ, মায়ের বোধন, পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধি পুজো সবই হবে রীতি মেনেই। একচালার সাবেকি প্রতিমা থেকে পুজোর বনেদিয়ানা—কোথাও গিয়ে মিলেমিশে যাবে মেরিল্যান্ড ও কলকাতা।

Durga Puja Two Bengali families organise Kolkata-themed Durga Puja in  Maryland - Telegraph India

‘করোনার সময় খুব অবসাদে ভুগেছি সকলে। বাড়ি ফেরা হয়নি। কলকাতার পুজোর কথা বার বার মনে পড়েছে। সকলে কেমন বিচ্ছিন্ন, একা হয়ে গিয়েছিলাম। দুর্গাপুজোই সেই আনন্দ ফিরিয়ে দিয়েছে। আবার সকলে এক হয়েছ’, সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন রাকা সরকার। তিনি জানান, পরিবার-আত্মীয় বাদে আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও ৩৫ জন বন্ধুও এসেছেন। সকলে কোভিড বিধি মেনেই পুজোর আচার পালন করেছেন।

কলকাতার হাওড়া ব্রিজ, দক্ষিণেশ্বর মন্দির, বেলুড় মঠ, শহিদ মিনার, রাজ ভবন প্রভৃতি জায়গার আদল দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। রাকার বাবা সৌমেন সরকার ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ মেডিক্যাল সেন্টারের অধ্যাপক। তিনি রাজভবনের আদলে মণ্ডপের গেট বানিয়েছেন। রাকার ননদও একজন ডাক্তার। তিনি ডোকরার সাজে একচালার প্রতিমা বানিয়েছেন। নিজেদের হাতেই সবটা পুজোর আয়োজন।

সরকার পরিবার জানাচ্ছে, এখানকার পুজোয় প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় বহুদিন আগেই থেকেই। প্রবাসী বাঙালিদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে জোগাড়ের দায়িত্ব সামলান অবাঙালিরাও। ভোগের থালাতেও তাই বাঙালি খানার রমরমা। তিন-চার দিন হেঁশেলে একদম তালাচাবি পড়ে যায়। বাঙালি স্বাদের খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনি-পাঁপড়, মিষ্টি দই থাকে নিরামিষের দিনে। নবমীতে অন্য আয়োজন, বাসন্তী পোলাও, ফিশ চপ, মটন কষা, চাটনি। শেষ পাতে ভোজনরসিক বাঙালিদের কথা মাথায় রেখে মিষ্টি দই।

দেশ থেকে বহুদূরে হলে কী হবে, এই পুজোয় আনন্দ আছো ষোলোআনা। শিকড়ের গন্ধ আছে প্রস্তুতির প্রতিটি পরতে পরতে। দেশে ফেরার টান আছে। আরতির ঘণ্টার সঙ্গে তাই সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার থেকেও ভেসে আসে শিউলির গন্ধ। সেখানে কলকাতার আর মেরিল্যান্ড মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like