Latest News

‘খারাপ রান্না’, মহিলাকে জ্বালিয়ে দিল, কফিনে পুরে মেয়েদের যৌনদাসী করতে পাচার তালিবানের!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলাদের মর্যাদা, অধিকার সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের প্রতি তালিবানের দৃষ্টিভঙ্গি যে একটুও বদলায়নি, তার  প্রমাণ মিলছে প্রতিদিন। গত রবিবার তালিবানের কাবুল দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানের ভবিষ্যত্ ঘিরে তীব্র অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা চলছে। তার মধ্যেই তালিবানের প্রকৃত স্বরূপ বেরিয়ে আসছে। আফগান মহিলাদের মারধর, খুন চলছে।  তালিবান কাবুলে পা রেখে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ইসলাম রীতিনিয়ম মেনে মহিলারা বাড়ির বাইরে কাজে যেতে, পড়াশোনা করতে পারবে। তাদের অধিকারের মর্যাদা দেওয়া হবে। কিন্তু তাকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে নিজেরাই।

নাজলা আয়োবি নামে এক দেশত্যাগী আফগান আইনজীবী স্কাই নিউজকে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের প্রচুর মহিলার সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের প্রতি তালিবানের দুর্ব্যবহার, নির্যাতনের অজস্র কাহিনি জেনেছেন।  উত্তর আফগানিস্তানে গত কয়েক সপ্তাহে মেয়েদের কফিনে পুরে যৌন ক্রীতদাসী হিসাবে ব্যবহারের জন্য পড়শি দেশগুলিতে পাচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাজলা। তালিবানের রোষ থেকে বাঁচতে তিনি নিজেই দেশ ছেড়ে আমেরিকায় পালিয়ে গিয়েছেন। নাজলা এমন খবরও পেয়েছেন যে, তালিবান জোর করে লোকের বাড়ি বাড়ি ঢুকে খাবার জোগাড় করছে, বলছে, রান্না করে দিতে হবে। এমনই এক বাড়িতে তালিবান জঙ্গিদের জন্য রান্না করা খাবার খেতে বাজে হয়েছে বলে এক মহিলাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাজলা এও বলেছেন, ওরা ঘরে ঘরে গিয়ে মেয়ে থাকলে তালিবান সদস্যদের সঙ্গে বিয়ে দিতে বাধ্য করছে। এমন নির্যাতনের মধ্যে তালিবান যে মেয়েদের কাজ করতে দেবে, এমন প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে কী করে, বুঝতে পারছি না।

নাজলা বর্তমানে মহিলাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করার প্রচার, অভিযানে তৈরি একটি সংগঠনের প্রধান। তিনি  জানিয়েছেন, তালিবান জমানায় জীবন ছিল একটা দুঃস্বপ্ন। মহিলাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতেই তালিবানি শাসন থেকে পালাতে হয় তাঁকে। তালিবান ঢোকার আগের দিন পর্যন্ত নাজলা ছিলেন ‘প্রভাবশালী জায়গায়’, কিন্তু পরদিনই সব খুইয়ে সমাজে ‘কোনও মূল্যই ছিল না তাঁর’। তাঁকে মহিলা বলে একবার প্রতিবেশীর চার বছরের ছেলেকে নিয়ে মুদি দোকানে যেতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন নাজলা।

একাধিক মহিলা সাংবাদিক জানিয়েছেন, তাঁরা চাইলেও তালিবান তাঁদের কাজে যোগ দিতে দিচ্ছে না। রেডিও টেলিভিশন আফগানিস্তানের অ্যাঙ্কর শবনম খান বলেছেন, ওরা বলে দিয়েছে, জমানা বদলেছে, তোমরা কাজ করতে পারবে না।

তবে মানবাধিকার কর্মী ফরিহা এসার রুখে দাঁড়িয়ে বলেছেন, শিক্ষা, কাজ, রাজনৈতিক, সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদানে আমাদের অধিকার কিছুতেই কেড়ে নিতে দেব  না।

 

You might also like