Latest News

যৌনরোগ সিফিলিস মারাত্মক আকার নিচ্ছে বিশ্বে, ব্রিটেন-আমেরিকায় কাজ বন্ধ করছেন যৌনকর্মীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় যৌনরোগ সিফিলিস (Syphilis) নিয়ে আতঙ্ক ছিল। এই রোগে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। বাংলায় সিফিলিসকে বলা হত গুপ্তরোগ। গবেষকরা বলছেন, গত দু’দশকে সিফিলিসের সংক্রমণ এত দ্রুত হারে ছড়াতে দেখা যায়নি। কিন্তু আচমকাই এই যৌনরোগ ভয়াল আকার নিয়ে ছড়াতে শুরু করেছে। বিশ্বের অন্তত ৩৩টি দেশে সিফিলিস রোগীর খোঁজ মিলেছে।

নেচার মাইক্রোবায়োলজি বিজ্ঞান পত্রিকায় এই গবেষণার খবর ছাপা হয়েছে। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকরা একটি সমীক্ষা চালিয়েছেন। তাতে দেখা গেছে, সিফিলিস (Syphilis) আবারও ভয়ঙ্কর আকার নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিম ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা সহ ৩৩টি দেশে সিফিলিস রোগীর জিনোম পরীক্ষা করে দেখা গেছে তার মধ্যে ট্রেপোনেমা প্যালিডাম ব্যাকটেরিয়ার স্ট্রেন রয়েছে।

Syphilis – Sex & U

সিফিলিস (Syphilis) কী?

সিফিলিস হল রক্তবাহিত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। ট্রেপোনেমা প্যালিডাম ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ ছড়ায়। কী কী ভাবে রোগ ছড়াতে পারে? যৌন সংস্পর্শ থেকে রোগ ছড়াতে পারে, তাছাড়া চুম্বন, ওরাল সেক্স, দেহরসের মাধ্যমে জীবাণু এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়াতে পারে।

গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় মার থেকে শিশুর মধ্যে রোগ ছড়াতে পারে।

Syphilis: Causes, Symptoms, Cure – The Amino Company

একই সূঁচ ব্য়বহার করলে সংক্রমিত রক্ত থেকে রোগ ছড়াতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিকের এক বা একাধিক ডোজের মাধ্যমে সিফিলিস নিরাময় করা যায়। যত তাড়াতাড়ি এটির চিকিৎসা করা হবে, স্বাস্থ্যগত জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তত কম হবে।

রোগের লক্ষণ কী কী?

১) পুরুষাঙ্গে ছোটো ছোটো ফুসকুড়ি হয়, ঘা হতে পারে। হিলাদের ক্ষেত্রে যোনিমুখে ঘা, জরায়ু মুখে ফুসকুড়ি ইত্যাদি দেখা যায়। ক্রমে ক্ষতস্থান শক্ত হয়ে ওঠে। 

২) আক্রান্তকে চুম্বন করলে মুখে-ঠোঁটে ঘা হয়।

৩) প্রাথমিক ক্ষত সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়। কিন্তু উপসর্গ না থাকলেও জীবাণু শরীরের ভিতরেই থেকে যায়। চিকিৎসা না করালে দ্বিতীয় পর্যায়ে সংক্রমণ বাড়ে ও নানারকম জটিলতা শুরু হয়ে যেতে পারে। রোগীর শরীর রুগ্ন এবং দুর্বল হতে থাকে। চর্মরোগ, শ্লেষ্মা, চোখ এবং স্নায়ুতে জীবাণু সংক্রমণ, জ্বর, গলায় ব্যথা, নিস্তেজ ভাব, হাত ও পায়ে ব্যাথা, রক্তাল্পতা, মাথা ব্যাথা, ওজন কমে যেতে পারে।

৪) যদি সংক্রমণ তৃতীয় পর্যায়ে চলে যায় তাহলে ত্বক, মাংস, হাড়, মস্তিষ্ক, মুখ, পাকস্থলী, অন্ত্র, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, অণ্ডকোষ ইত্যাদি আক্রান্ত হয়। ত্বক থেকে পুঁজ বের হতে থাকে। স্মৃতিলোপ পায়, যকৃৎ বড় হয়ে যায়, পেট ফুলে যায়।

 জিভে সাদা রঙের আস্তরণ এই রোগের অন্যতম লক্ষণ। সাধারণত অসুরক্ষিত যৌন মিলনের মধ্য দিয়ে এই রোগের ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে সুস্থ ব্যক্তির দেহে। সময় মতো চিকিৎসা না হলে এই রোগ মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই জিভে এই ধরনের কোনও সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে যেতে হবে চিকিৎসকের কাছে।

গবেষকদের দাবি, গত শতাব্দীর আট এবং নয়ের দশকে এইডস-এর যখন বাড়তে শুরু করে তখন থেকেই সিফিলিসের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে থাকে। কিন্তু ২০১০ সাল থেকে সিফিলিস সংক্রমণের হার প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।

You might also like