Latest News

মুক্তি চাই!’ ৭৪ দিন ধরে অনশনে মেক্সিকো সীমান্তে আটক দুই ভারতীয় যুবক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত বছরের জন্মদিন পর্যন্ত আর পৌঁছতে পারেনি গুরপ্রীত কৌর। অ্যারিজোনার মরুভূমিতে ৪২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড গরমে প্রচণ্ড জলকষ্টে ধুঁকতে ধুঁকতে মৃত্যু হয়েছিল তার। আমেরিকার মেক্সিকো সীমান্ত পেরোতে গিয়ে ধরা পড়েছিল গুরপ্রীত ও তার পরিবার। গুরপ্রীত বাঁচেনি, তবে গুরজন্ত ও অজয় বাঁচবেন কিনা সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। মুখে কুলুপ এঁটেছে মার্কিন প্রশাসনও। টেক্সাসের এল পাসোর শরণার্থী শিবির থেকে মুক্তির জন্য গত দু’মাস ধরে অনশন চালাচ্ছেন তাঁরা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই গুরজন্ত বলেছেন, “আমরা সন্ত্রাসবাদী নই। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি চাই।”

এক বছরেরও বেশি এল পাসোর একটি শরণার্থীর শিবিরে রয়েছেন ৩৩ বছরের অজয় কুমার ও ২৪ বছরের গুরজন্ত সিং। আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে তাঁদের আটক করে মার্কিন বর্ডার প্যাট্রল পুলিশ। গুরজন্তের দাবি, প্রথমে মনে করা হয়েছিল তারা সন্ত্রাসবাদী। পরে তাঁদের কাছে কোনও সন্দেহজনক জিনিসপত্র না পেয়ে ভুল ভাঙে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের। তবে জেরা করা থামেনি। টেক্সাসের এই শরণার্থী শিবিরে আটকে রেখে লাগাতার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। অজয় ও গুরুজন্ত দু’জনেই বলেছেন,  “প্রথমে বলা হয়েছিল আমাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি আমরা।”

গত ৭৪ দিন ধরে অনশনে দুই যুবক। শরীর ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালে বিছানায় নাকে নল দিয়েই গুরজন্ত বলেছেন, “এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি না পেলে আমরণ অনশন চালিয়ে যাবো। এই ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দিরা এমনিতেই মৃতপ্রায়। আমরা নানা রকম অত্যাচারের শিকার।”১৭ কেজি ওজন কমেছে গুরজন্তের। বলেছেন, “পঞ্জাবে আমার বোনকে অ্যাসিড ছুঁড়ে ঝলসে দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক অশান্তির বলি হয়েছিলেন আমার বাবা। আর আমি মার্কিন মুলুকে শরণার্থী শিবিরে বন্দি।”

গুরজন্ত ও অজয়ের আইনজীবী জেসিকা মাইলস জানিয়েছেন, এই বিষয়টা খুব তাড়াতাড়ি অভিবাসন বিচারকের সামনে পেশ করা হবে। নথিপত্র ও প্রমাণ দেখানো হবে। তাঁর দুই মক্কেলের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জেসিকার দাবি, অনশন ভাঙার জন্য হাসপাতালে জোর করে নাকে নল গুঁজে খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন নার্স। রাজি না হলে জোর করা হচ্ছে। এমন টিউব লাগানো হয়েছে যাতে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছেন দু’জনেই।

গত কয়েক বছরে ভারত থেকে মেক্সিকো সীমান্ত পার করে আমেরিকায় অনুপ্রবেশের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। গত বছর মার্কিন সীমান্ত থেকে অন্তত ৯ হাজার ভারতীয়কে আটক করা হয়েছে বলে দাবি। মেক্সিকো সীমান্তে মার্কিন বর্ডার প্যাট্রল পুলিশ এবং পিমা কাউন্টি অফিস অব দ্য মেডিক্যাল এগজামিনার (পিসিওএমই)-এর দাবি,  মেক্সিকো সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এদের মতদ দিচ্ছে পাচারকারীরা। প্রচুর অর্থ রোজগারের তাগিদে তারা অনুপ্রবেশকারীদের নামিয়ে দিয়ে যায় মরুভূমি লাগোয়া মার্কিন সীমান্তে। তাদের এও দাবি, হাইতি-সহ লাতিন আমেরিকায় কয়েকটি দেশ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অনুপ্রবেশকারীরা মেক্সিকো সীমান্তকে বেছে নিচ্ছে। ধৃত ভারতীয়দের মধ্যে ভুয়ো কাগজপত্র পেশ বা অন্য কারণে অভিযুক্ত অবৈধ অভিবাসনকারীরাও রয়েছেন। বস্তুত, অভিবাসন পরীক্ষায় সময় ধৃতদের মোট ৪০ শতাংশই ভারতীয় বলে দাবিও করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন নাগরিক অনাবাসী ভারতীয় বা গ্রিন কার্ডধারীদের একাংশ তাঁদের সক্রিয় ভাবে সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। ধৃতরা ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে জড়িত বলেও দাবি করেছে মার্কিন বর্ডার প্যাট্রল পুলিশ।

বস্তুত, যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোর মধ্যে প্রায় ৩২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। যার মধ্যে মেক্সিকোর ৬টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের চারটি প্রদেশ জুড়ে ১১০০ কিলোমিটার বেড়া রয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিদিন পাচার হয় মাদক-সহ নান নিষিদ্ধ জিনিস। একাধিক সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে করে পারাপার করে লক্ষাধিক মানুষ। মার্কিন সরকারের তথ্য বলছে, গত কয়েক মাসে মেক্সিকো সীমান্তে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার শরণার্থীকে আটক করেছে তারা।

পড়তে ভুলবেন না

You might also like