Latest News

বোয়িংয়ের ভারতীয় সুপারভাইজাররা বোকা, ডিজিসিএ মূর্খ, খোঁচা সংস্থার কর্মীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  বোয়িং নিয়ে তর্জা চলছেই। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স কতটা সুরক্ষিত সেই নিয়ে নানা রকম টিপ্পনি শুরু হয়েছে সংস্থার অন্দরেই। সম্প্রতি সংস্থার কর্মীদের কথা চালাচালিও সামনে এসেছে। যেখানে সংস্থার ডিজাইনার, সুপারভাইজারদেরই ‘জোকার’, ‘হনুমান’ বলে মন্তব্য করতে শোনা গেছে বোয়িং কর্মীদের। এবার বোয়িংয়ের ভারতীয় সুপারভাইজার ও অসামরিক বিমান পরিবহণের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-কেই বোকা, মূর্খ ইত্যাদি বলে খোঁচা দিয়েছেন সংস্থার কর্মীরা,যা নিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে বোয়িং।

সংস্থার দুই কর্মীর কথাবার্তা সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক এই বিমান পরিবহন সংস্থা। সেখানে একজনকে বলতে শোনা গেছে, “ভারতের ডিজিসিএ সবচেয়ে বেশি বোকা, আর এটা একেবারই সত্যি।” তাতে সায় দিতে শোনা গেছে অন্যজনকেও। এর আগে আরও দুই কর্মীর মেসেজ চালাচালি সামনে এনেছিল বোয়িং। সেখানে একজন লিখেছিল, “বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের ভরসা নেই। আমার নিজের পরিবারকে চাপতে দিই না, ” এর উত্তরে অন্যজন লিখেছিল,  “আমিও না!”

বস্তুত, গত মার্চ থেকেই বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের সমস্ত বিমান বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)। এমনকি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ সিরিজের যেকোনও বিমান  ভারতের আকাশে চলাচলের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ডিজিসিএ।

ভারতে জেট এয়ারওয়েজ এবং স্পাইসজেট— এই দুই সংস্থা ম্যাক্স বিমান চালায়। জেটের রয়েছে ৮টি বিমান, স্পাইসের ১৩টি। জেট আরও ২২৫টি এবং স্পাইসজেট ১৫৫টি ম্যাক্স সিরিজের বিমান কিনতে বোয়িংকে বরাত দিয়েছিল। তবে ডিজিসিএ-র নিষেধাজ্ঞার পরে সেই বিষয়টা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বোয়িং আগে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, তাদের ৭৩৭ ম্যাক্স সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু তারপরেই একের পর এক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বোয়িং। ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ভেঙে পড়ায় প্রাণ যায় ১৮৯ জনের। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ম্যাক্স বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। বিমান কর্মী ও যাত্রী মিলিয়ে মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়।  ইন্দোনেশিয়ায় একই ভাবে টেক অফের কয়েক মিনিটের মধ্যেই অন্য একটি ৭৩৭ ম্যাক্স ভেঙে পড়ার ঘটনায় যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে ডিজিসিএ। ভারতের পাশাপাশি, চিন, ইন্দোনেশিয়া, ব্রিটেন,  ফ্রান্স, জার্মানি, আর্জেন্টিনার মতো একাধিক দেশ বোয়িংয়ের ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

আরও পড়ুন: বোয়িংয়ের ডিজাইনাররা জোকার, সুপারভাইজার হনুমান, টিপ্পনি সংস্থার অন্দরেই

বোয়িং পাইলটের দক্ষতা নিয়েও কথা উঠেছে সংস্থার অন্দরে। বস্তুত, ডিজিসিএ বোয়িং পাইলটের দক্ষতা ও বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়ানের জন্য নির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন ঠিক করে দেয়। যেখানে বলা হয়, স্পাইসজেট এবং জেট এয়ারওয়েজকে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান চালাতে হলে পাইলটের সবচেয়ে কম হাজার ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি ৭৩৭ ম্যাক্সের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বেঁধে দেয় ডিজিসিএ। এই গাইডলাইন নিয়েই সম্প্রতি খোঁচা দিতে শুরু করেছেন সংস্থার কর্মীরা।

You might also like