Latest News

শিল্পমন্ত্রী হেফাজতে, শিল্প মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৃতীয় মেয়াদে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) শিল্পমন্ত্রী (Industry Minister) করা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু সরকারের অন্দরে অনেকের কাছেই স্পষ্ট ধারণা ছিল যে, পার্থর এই পদ আলঙ্কারিক। নামে শিল্পমন্ত্রী, কাজে নন। কারণ, শিল্পোন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান পদে রাজীব সিনহা ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পদে অমিত মিত্রকে রেখে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই শিল্পের বিষয়আশয় দেখবেন।

সেই শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখন ইডি হেফাজতে (ED Custody)। কিন্তু তাতে বিশেষ সমস্যা হল না। শিল্প মঞ্চে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শিল্পমন্ত্রী যে অনুষ্ঠানে নেই তাও বিশেষ মালুম হল না বুধবার।

বুধবার হিন্দমোটরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। টিটাগড় ওয়াগনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মমতা। সেখানেই তিনি বলেন, “আমরা সামাজিক প্রকল্পের কাজ অনেক করেছি। এবার আমাদের লক্ষ্য শিল্প নির্মাণ।”

হিন্দুস্তান মোটর কারখানা অনেকদিন হল বন্ধ। বিরাট জমি পড়ে রয়েছে। কারখানা যখন ছিল তখন উত্তরপাড়ার-সহ সংলগ্ন এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থাও ছিল পুষ্ট। হিন্দমোটর কারখানা বন্ধ হওয়ার পর থেকে তা ধুঁকছে।

ইডির চতুর্মুখী হানা! পার্থ-অর্পিতার সূত্রে কোথায় কোথায় তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় এজেন্সি

হিন্দমোটর কারখানার বিস্তীর্ণ এলাকার জমি পড়ে রয়েছে। তা নিয়ে এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই জমিকে যাতে বিকল্প কাজে ব্যবহার করা যায় সে ব্যাপারেও এদিন প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন জমিটা পড়ে রয়েছে জানি না। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে অনেকটা জমি দিয়ে দিয়েছিল। কাজ তো হয়নি, পড়ে রয়েছে। ৭০০ একর জমি পড়ে রয়েছে। উমেশ চৌধুরীকে (টিটাগড় ওয়াগনের ভাইস চেয়ারম্যান) ৩০ একর জমি কিনতে হয়েছে।”

হিন্দমোটর কারখানার পাশের জমি রিয়েল এস্টেটের জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে অন্য সংস্থাকে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমরা জমি দেব, আর আপনি বিক্রি করবেন! তাহলে তো দালালির কাজ হয়ে গেল।”

হিন্দমোটর কারখানায় যবে থেকে উৎপাদন কমছিল সেই সময় থেকেই একটা অংশ টিটাগড় ওয়াগনকে দেওয়া হয়েছিল। তারা এখানে রেলের কোচ নির্মাণ করে। পুণে মেট্রোর কোচও নির্মাণ করেছে টিটাগড় ওয়াগন। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কোচ নির্মাণেরও বরাত পেয়েছে তারা।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “বর্ধমান থেকে ফিরছিলাম। দেখলাম রাস্তার ধারে হুগলি শিল্পে ভরে গেছে। আমরা বাংলাকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি। আমরা শিল্প চাই, ওরা চায় না। আমরা শান্তি চাই, ওরা চায় না।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই কথা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। হুগলির সিপিএম নেতা তথা সিটুর জেলা সম্পাদক তীর্থঙ্কর রায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চয়ই বর্ধমান থেকে ফেরার সময়ে সিঙ্গুরের শ্মশানটাও দেখে এসেছেন!”

এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একটা বড় ইনস্টিটিউট চালাতে গেলে কারও কারও ভুল হতে পারে। ভুল কি কারও হয় না? যদি কেউ ভুল করে তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন হবে। পানিশমেন্ট হবে। মিডিয়া ট্রায়াল করে চোর বানিয়ে দিচ্ছে। তারাও অনেকে দালালি করে খায়। মিডিয়ার একাংশ ক্যাঙারুর রোল প্লে করছে।”

তবে শিল্পমন্ত্রীকে ছাড়া শিল্পমঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি অনেকেরই চোখ এড়ায়নি। অনেকেরই বক্তব্য, সামগ্রিক ভাবে বণিক মহলের কাছে রাজ্য সরকারের জন্য এই দৃষ্টান্ত খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। এরমধ্যেই জল্পনা দানা বাঁধছে, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে কি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ছেঁটে ফেলবেন মমতা?

You might also like