Latest News

‘ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে’: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় এলেই বাংলাদেশে একদল মানুষ প্রচার শুরু করে, ভারতের দালালরা এবার দেশ চালাবে (Indo-Bangladesh Relation)। শেখ হাসিনা (Seikh Hasina) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে কথা না বলে কোনও পদক্ষেপ করেন না, এমন কথাও মুখে মুখে ঘোরে সে দেশে। সেই প্রচারে ঘি ঢাললেন স্বয়ং সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন (AK Abdul Momen)।

চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, সেটি করতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছি। তাঁর কথায়, ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।’ প্রসঙ্গত, মাস দুই আগে ভারত সফরে এসেছিলেন মোমেন।

চট্টগ্রাম শহরের জেএম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের অনুষ্ঠানে মোমেন আরও বলেন, দুই দেশেরই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। এটি সম্ভব যদি শেখ হাসিনার সরকারকে সমর্থন দেয় ভারত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে সে দেশের বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, এই কথায় প্রমাণিত হল, বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারত প্রভাব খাটায়। হাসিনার আগের তিনবারের জয়কে সে দেশের বিরোধীরা গোড়া থেকেই ভারতের আশীর্বাদ বলে আসছে।

প্রসঙ্গত, আগামী বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের পরবর্তী নির্বাচন। তার আগে সে দেশের ঘরোয়া রাজনীতি তপ্ত হতে শুরু করেছে। গুম খুন, মানবাধিকার হরণ, বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তো আছেই, হালে জিনিসপত্রের দরদাম নিয়ে জনক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারমধ্যে পেট্রল, ডিজেল ও অকটেনের দাম একলাফে অনেকটা বাড়িয়েছে হাসিনা সরকার।

বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার খালি হতে থাকায় সম্প্রতি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডার থেকে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঋণের শর্ত হিসাবেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলের খবর। আইএমএফের ঋণদানের অন্যতম শর্তই হল ভর্তুকি হ্রাস।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের উপর নানা মহল থেকে চাপ বাড়ছে। মানবাধিকার হরণের অভিযোগ থাকায় সে দেশের বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্তার আমেরিকা সফরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাইডেন প্রশাসন। দু’দিন আগেই রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার শাখার প্রধান বাংলাদেশ ঘুরে গিয়েছেন। তিনি কী রিপোর্ট দেন সেই অপেক্ষায় হাসিনা সরকার।

সে দেশের সংবাদমাধ্যনের খবর, আন্তর্জাতিক মহলের চাপেই সম্প্রতি বিরোধীদের মিটিং-মিছিলে নিয়ম শিথিল করেছে সরকার। যদিও বিরোধীরা অসংঘঠিত। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি রীতিমতো নেতৃত্বহীনতার শিকার।

Image - ‘ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে’: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তা সত্ত্বেও হালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীদের কথাবার্তায় উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। হাসিনা নিজে দিন কয়েক আগে বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’ মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর কথাই সভা-সমাবেশে বলে চলেছেন। যদিও কে বা কারা ষড়যন্ত্র করছে তা স্পষ্ট করেননি হাসিনা। আওয়ামী লিগের নেতাদের অভিযোগ, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই হাসিনা সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়েও শোরগোল শুরু হয়েছে।

দু-দেশে বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারও এমন কিছু করা উচিত হবে না, ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে এমন কোনও উস্কানি দেওয়া ঠিক হবে না, যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশী দেশে কয়েকটি মসজিদ পোড়ানো হয়েছে। সেটি এ দেশে প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। এর কারণ হচ্ছে কিছু দুষ্ট লোক আছে, কিছু জঙ্গি লোক আছে, যারা এটার বাহানায় আরও অপকর্ম করবে। তিনি বলেন, ‘অনেকে আমাকে ভারতের দালাল বলে। কারণ অনেক কিছুই হয়, আমি স্ট্রং কোনো স্টেটমেন্ট দিই না।’

প্রসঙ্গত, বিজেপির বরখাস্ত মুখপাত্র নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে ইসলামের নবিকে অবমাননার অভিযোগে আরব দুনিয়া এবং পাকিস্তান সরব হলেও বাংলাদেশ টুঁ শব্দ করেনি। সে দেশের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ তখন বলেন, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

আসলে গত বছর দুর্গাপুজোয় বাংলাদেশের কুমিল্লার মণ্ডপে গোলমালকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু হিন্দু মন্দির ভাঙার ঘটনায় এপাড়ে বিজেপি পথে নামলেও নরেন্দ্র মোদীর সরকার মুখ খোলেনি। নূপুর শর্মার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীরবতাকে প্রতিদান হিসাবেই দেখা হচ্ছে। দু-দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেরও এখন ৫০ বছর পূর্তি চলছে। তাছাড়া, বাংলাদেশ সরকারকে আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে।

ভারতের উদ্দেশে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল নূপুর শর্মার নাম না করে বলেন, ‘কিছুদিন আগে একজন ভদ্রমহিলা একটি কথা বলেছিলেন, আমরা একটি কথাও বলিনি। বিভিন্ন দেশ কথা বলেছে। আমরা একটি কথাও বলিনি। এ ধরনের প্রটেকশনও আমরা আপনাদের দিয়ে যাচ্ছি। সেটা আপনাদের মঙ্গলের জন্য, আমাদের মঙ্গলের জন্য।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আছেন বলেই ভারতের যথেষ্ট মঙ্গল হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তিনি বলেন, ‘ভারতে সীমান্তে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে বছরে ২৮ লাখ মানুষ ভারতে বেড়াতে যায়। কয়েক লাখ ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করে।’ প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সীমান্তের হিংসা বন্ধের বিষয়টি কিছুদিন আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের মুখেও শোনা গিয়েছে।

সিবিআই-ইডি ছুঁতে পারে কেজরিওয়ালকেও, রাজধানীর রাজনীতিতে জোর জল্পনা

You might also like