Latest News

কোভিড-পূর্ব সময়ের চেয়ে বেশি পেট্রল-ডিজেল বিক্রি হয়েছে গত অক্টোবরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বছরের অক্টোবর মাসের তুলনায় সদ্য শেষ হওয়া অক্টোবর মাসে দেশে ডিজেলের ব্যবহার বেড়েছে ৬.৬ শতাংশ। গত মার্চ মাসে লকডাউন ঘোষণার পরে এই প্রথম বেড়েছে ডিজেলের বিক্রি। গত রবিবার সরকার এই তথ্য জানিয়েছে। কোভিড অতিমহামারীর ধাক্কা সামলে অর্থনীতি যে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে এই তথ্যে।

রাষ্ট্রীয় যে তিনটি সংস্থা ডিজেল খুচরো বিক্রি করে, তাদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, অক্টোবরে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৬১ লক্ষ ৭০ হাজার টন। প্রতি বছর দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি হয়, তার দুই পঞ্চমাংশ ডিজেল। গত সেপ্টেম্বরে ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছিল ২৭.৫ শতাংশ।

তেলের ব্যবহারে বিশ্বে ভারত তিন নম্বরে। এখানে ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুবিধা হবে তৈল শোধনাগারগুলির। করোনা সংকটে তারা এতদিন অন্য বছরের চেয়ে কম পরিমাণে তেল পরিশোধন করছিল।

গত অক্টোবরে পেট্রলের বিক্রিও কোভিড-পূর্ব স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। গত বছরের তুলনায় পেট্রল বিক্রি বেড়েছে চার শতাংশ। চলতি বছরে পেট্রল বিক্রি হয়েছে ২৪ লক্ষ টন।

কেন্দ্রীয় অর্থসচিব অজয়ভূষণ পাণ্ডে বলেছেন, কোভিড অতিমহামারীর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি। আগামী দিনে তার ধারাবাহিক বৃদ্ধি হতে চলেছে।

অর্থসচিব দাবি করেন, অক্টোবরে জিএসটি বাবদ সরকারের আয় হয়েছে ১ লক্ষ ৫ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। গতবছর অক্টোবর মাসের চেয়ে ওই আয় ১০ শতাংশ বেশি। গত সেপ্টেম্বরে জিএসটি বাবদ আদায় হয়েছিল ৯৫ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় জিএসটি আদায় এবার বেড়েছে চার শতাংশ। সেই সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। আমদানি ও রফতানিও বেড়েছে।

অর্থসচিব বলেন, “সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, আমরা কোভিড-পূর্ব পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছি। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ই-ওয়ে বিল সেপ্টেম্বরে বেড়েছে ১০ শতাংশ। অক্টোবরে বেড়েছে ২১ শতাংশ।”

অজয়ভূষণ পাণ্ডে দাবি করেন, আগামী পাঁচ মাস যদি বিকাশের এই হার অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২১ সালের মার্চের মধ্যে অর্থনীতি ‘ডিপ নেগেটিভ জোন’ থেকে ‘নিয়ার জিরো গ্রোথ জোন’-এ চলে আসবে। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, অর্থনীতির নেতিবাচক বিকাশ বন্ধ হয়ে যাবে। কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (আইএমএফ) থেকে বলা হয়েছে, চলতি আর্থিক বছরে ভারতের মোট জাতীয় আয় (জিডিপি) কমবে ১০.৩ শতাংশ। এর আগে জুন মাসে আইএমএফ বলেছিল, জিডিপি কমবে ৪.৫ শতাংশ। পরে দেখা যায়, ভারতের অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়তে চলেছে।

You might also like