Latest News

নারীশক্তিই ভারতের সর্বোচ্চ গুরুত্ব! দেশজুড়ে হাথরস-ক্ষোভের মধ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভাষণ স্মৃতি ইরানির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাথরসের নারকীয় গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে দেশ যখন ক্ষোভে-প্রতিবাদে উত্তাল, একের পর এক সামনে আসছে আরও নৃশংস সব নারী নির্যাতনের ঘটনা, গোটা দেশের নারী-নিরাপত্তা যখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে, ঠিক এমনই সময়ে রাষ্ট্রসংঘে নারী বিষয়ক চতুর্থ বিশ্ব সম্মেলনের ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে ভারতের তরফে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি দাবি করলেন, “ভারতে উন্নয়নের সমস্ত কর্মসূচির ক্ষেত্রে একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে লিঙ্গসাম্য এবং মহিলা ক্ষমতায়ন।”

অতি উচ্চস্তরের এই বিশ্ব-বৈঠক আয়োজিত হয়েছিল ভার্চুয়ালি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছিলেন এখানে। সেখানেই স্মৃতি ইরানি দাবি করেন, বর্তমানে নারীদের উন্নয়নের পথেই শুধু আটকে নেই ভারত, সেখান থেকে আরও এগিয়ে নারীদের নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে চলে এসেছে দেশ। বিশ্বের দরবারে এ কথা বলে প্রশংসিত হন তিনি।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ভারতে এখন যা পরিস্থিতি, যেভাবে মহিলাদের উপর নারকীয় নির্যাতনের কথা প্রতিদিন সামনে আসছে, সেখানে স্মৃতি ইরানির এই দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত!

স্মৃতি ইরানি এদিনের বৈঠকে আরও বলেন, “জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে লিঙ্গসাম্য নিশ্চিত করার দিকে এখন জোর দিয়েছে ভারত। অগ্রাধিকার দিয়েছে লিঙ্গভিত্তিক সমস্ত বৈষম্য ঘোচানোর। এটাই এখন সর্বোচ্চ নীতি ভারতের। কোভিড পরিস্থিতিতেও দেশের মহিলাদের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিয়েছে ভারত সরকার।”

প্রসঙ্গত এর আগেও রাষ্ট্রসংঘে তাঁর মন্ত্রিসভার দুই বড় পদে, প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও নির্মলা সীতারমনের থাকার কথা উল্লেখ করে ভারতের নারীদের নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে চলার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই কথাই যেন এদিনও প্রতিফলিত হয় স্মৃতির ভাষণে।

তিনি বলেন, “দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এখন আর শুধু নারীদের উন্নয়নের পথেই আটকে নেই ভারত, সেখান থেকে আরও এগিয়ে নারীদের নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে চলে এসেছে ভারত। ২০ কোটিরও বেশি মহিলাকে ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে যাতে তাঁরা সরকারের আর্থিক উন্নয়নের অংশ হতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের হেনস্থার বিচার থেকে শুরু করে গৃহহিংসার শিকার হওয়া নারীদের সুরক্ষা, শিশুদের যৌন নিগ্রহ থেকে রক্ষা করা– এই সমস্ত ক্ষেত্রেই কড়া আইন রয়েছে আমাদের। মেয়েদের চিকিৎসা-সহ মনস্তাত্ত্বিক, আইনি ও পুলিশি সহায়তা, আশ্রয় দেওয়া– মহিলাদের এই সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবাকে এক ছাদের তলায় এনেছে এই দেশ।”

স্বাভাবিক ভাবেই বিশ্বের দরবারে মন্ত্রীর এই কথাগুলি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, প্রশাসনের এতই কড়া সুরক্ষা বলয় যদি থাকবে, তাহলে কী করে তরুণী মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়, কেনই বা পরিবারের তরফে অভিযোগ ওঠে পুলিশ আগে নড়ে বসলে বাঁচানো যেত মেয়েটিকে! প্রশ্ন ওঠে আইন না মেনে কী করে পরিবারের থেকে নিহত মেয়েটির দেহ ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দিতে পারে পুলিশ!

বলাই বাহুল্য, এসব ঘটনার কোনও আঁচই পড়েনি স্মৃতি ইরানির বক্তৃতায়। তিনি বলেন, “আমাদের এবং আমাদের মেয়েদের জন্য আরও একটু সুন্দর কোভিড পরবর্তী নতুন পৃথিবী গড়ার সবরকম লড়াইয়ের জন্য ভারত প্রস্তুত।”

You might also like