Latest News

কাশ্মীরে যা হচ্ছে, তাতে ভারতের মুসলিমরা সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকবেন, হুঁশিয়ারি ইমরানের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কাশ্মীরে ভারত যা করছে, তাতে ২০ কোটি ভারতীয় মুসলিম মনে করবেন, এটা তাঁদের নিজেদের দেশ নয়। এই ভাবনা থেকে তাঁরা সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। শুক্রবার এই ভাষাতেই ভারতকে হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাঁর কথা, ভারতীয় সেনার নিষ্ঠুরতাই সন্ত্রাসবাদকে আরও চাঙ্গা করে তুলবে। পরে তিনি বলেন, নিষ্ঠুরতা যখন সব সীমা ছাড়ায়, তখন প্রত্যেকে ভাবে অত্যাচার সহ্য করার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।

কাশ্মীরিদের সঙ্গে ‘সংহতি’ জানানোর জন্য শুক্রবার পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাজধানী মুজফফরাবাদে সভা করেন ইমরান। সেখানেই তিনি এই বক্তব্য পেশ করেন।

কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারত যেভাবে সেখানকার মানুষকে বন্দি করে রেখেছে, আমি তাদের বলতে চাই, তোমরা মানুষকে সন্ত্রাসবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছ। কাশ্মীরে ভারত যা করছে, তাতে মুসলিমরা বুঝবেন সেদেশে তাঁদের কোনও জায়গা নেই। ভারত কাশ্মীরে যা করছে তাতে অন্যান্য মুসলিম দেশেও সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি হবে।

কিছুদিন আগে ইমরান সরকারেরই এক মন্ত্রী বলেছেন, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের কথায় কেউ বিশ্বাস করছে না। বরং ভারতকেই বিশ্বাস করছে আন্তর্জাতিক মহল। কিন্তু ইমরান খান নিজে শুক্রবার বলেন, কাশ্মীর ইস্যু খুব ভালোভাবেই আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরা গিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষে তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ভাষণ দেবেন। সেখানে তিনি কাশ্মীরিদের ‘হতাশ করবেন না’। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, চড়া গলায় কাশ্মীরে তথাকথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সওয়াল করবেন।

সেখানেই তিনি বলেন, কাশ্মীর এখন আন্তর্জাতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এমনকী ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।

এর পরেই তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে আমি রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় যোগ দিতে যাচ্ছি। আমি কাশ্মীরের মানুষকে হতাশ করব না। অতীতে কেউ কাশ্মীরিদের অধিকারের পক্ষে এভাবে দাঁড়ায়নি। কিন্তু আমি দাঁড়াব। ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জে ভাষণ দেবেন।

ইমরান নিজেকে কাশ্মীরিদের দূত বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, আমি ঠিক করেছি, আন্তর্জাতিক মহলে কাশ্মীরের দূত হব। আমি পাকিস্তানি, মুসলমান এবং মানুষ। কাশ্মীর ইস্যুটি প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকারের ইস্যু।

কাশ্মীরে অগস্টের গোড়ায় কিছুদিন যেভাবে ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল, তার সমালোচনা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৪০ দিন ধরে আমাদের ভাই-বোন ও সন্তানরা কার্ফুর মধ্যে আছেন।

যারা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পার হয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছে তাদের উদ্দেশে ইমরান বলেন, এখন এলওসি-র কাছে যাবেন না। আমাকে আগে রাষ্ট্রপুঞ্জে যেতে দিন। সারা বিশ্ব আগে কাশ্মীর সম্পর্কে জানুক।

You might also like