Latest News

ইন্দাসে হিউম পাইপে আটকে ঝুঁটিধর সজারু, ধন্দে বন দফতর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাস্তার নিচের নিকাশি পাইপে আটকে গেল একটি সজারু। বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের চারিগ্রাম এলাকার ঘটনা। বিরল প্রাণীটিকে দেখতে রীতিমতো ভিড় জমে যায়। পরে বন দফতরের লোকজন এসে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সেটিকে উদ্ধার করে খাঁচাবন্দি করে। এ তল্লাটে সজারুর দেখা মেলে না। তবে পূর্ণবয়স্ক সজারুটি সেখানে এল কোথা থেকে, তা নিয়ে এলাকাবাসীর পাশাপাশি ধন্দে বন দফতরও।

পথের নিচে দিয়ে জল যাওয়ার জন্য সচরাচর এই ধরনের পাইপের ব্যবহার হয়ে থাকে। সিমেন্টের তৈরি এই পাইপকে হিউম পাইপ বা আরসিসি (রিইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট) পাইপও বলে। সাধারণত এগুলি বর্ষার জল বেরনোর নর্দমা, পয়ঃপ্রণালি, রাস্তা, সেচ এবং রেলওয়ে কালভার্টের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেই পাইপের ভেতরে ছোট পরিসরে ঢুকে আটকে পড়েছিল ঝুঁটিধর সজারুটি। একে দেশি সজারু বা ভারতীয় সজারুও বলে। ইংরেজি নাম Indian crested porcupine। এমনিতে নিরীহ প্রাণী। কিন্তু বিপদ বুঝলে ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

এই ঝুঁটিধর সজারুরা বিশ্বের অন্যান্য সজারুর মতোই নিশাচর। ঘাসপাতা, ছোট ছোট গাছপালা খেয়ে জীবনধারণ করে। মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বাসস্থানের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলো এবং দিনের বেশিরভাগ সময় মাটির নিচে কাটায়। খাবার সংগ্রহের জন্য তীক্ষ্ম দাঁতের সাহায্যে এরা বিভিন্ন ধরনের গাছপালার পাশাপাশি ফলমূল, শস্য, গাছের শিকড় পর্যন্ত খেয়ে ফেলে। রাতই এদের বিচরণের জন্য পছন্দের সময়। তবে শীতের রাতে যদি চাঁদের আলো থাকে তবে এরা বেরয় না। বরং শীতকালে দিনের বেলা সূর্যের আলোয় তাদের ঘনঘন বেরতে দেখা যায়।

যাই হোক, ইন্দাসের গ্রামে পাইপের মধ্যে আটকে গিয়ে ছিল প্রাণীটি। প্রথমে অনেকেই বুঝতে পারেননি। ভাল করে দেখতেই বোঝা যায় সেটি একটি সজারু। পাইপ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিল সেটি। আটকে থাকা সজারুটিকে দেখতে উৎসাহী জনতার ভিড় জমে যায় সেখানে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন পুলিশ ও বন দফতরের লোকজন। তারপর বহু চেষ্টা করে সেটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান তাঁরা। বিস্মিত এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এদিকে তো সজারু দেখা যায় না। প্রাণীটি তাহলে কোথা থেকে এল। ধন্দে বন দফতরও।

You might also like