Latest News

চিনকে চাপে রাখতে ভারত, জাপান, আমেরিকার সঙ্গে নৌমহড়ায় নামতে পারে অস্ট্রেলিয়াও, কৌশলগত পদক্ষেপ নয়া দিল্লির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সংঘাতের আবহেই ভারত মহাসাগরে যৌথ নৌসেনা মহড়া করেছে ভারত ও জাপান। চিনকে চাপে রাখতে ভারতের সঙ্গে জাপান, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া এই চার শক্তির চতুর্দশীয় অক্ষ বা কোয়াডকে সামরিক চেহারা দেওয়ার লক্ষ্যে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছিল আগেই। সীমান্ত উত্তেজনার এই টানটান পরিস্থিতে এবার সেই লক্ষ্যেই এগোতে চলেছে ভারত। মালাবারে বার্ষিক নৌসেনা মহড়ায় আমেরিকা ও জাপানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াকেও আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে নয়া দিল্লি, নৌসেনা সূত্রে খবর এমনটাই।

এই বছরের শেষেই বঙ্গোপসাগরে মালাবার বার্ষিক নৌমহড়ায় অংশ নিতে চলেছে ভারত-জাপান-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া। নৌসেনার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই মালাবার এক্সারসাইজের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে নিমন্ত্রণ পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এই ব্যাপারে শুরু থেকেই আমেরিকায় সায় আছে বলে জানা গিয়েছে।

গালওয়ানে চিনা সেনার তৎপরতা বাড়ার পরেই ভারত মহাসাগরে জাপানের সঙ্গে যৌথ নৌমহড়া করে ভারত। যদিও জাপান মেরিটাইম সেল্ফ ডিফেন্স ফোর্স জানায়, যুদ্ধপ্রস্তুতি নয় বরং দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়া বাড়াতেই এই মহড়া। কৌশলগত বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের বিরুদ্ধে এই স্নায়ুযুদ্ধের পরিস্থিতিতে জাপানকে পাশে নিয়ে সামরিক মহড়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের যুদ্ধজাহাজ আইএনএস রানা ও আইএনএস কুলুশ এবং জাপানের যুদ্ধজাহাজ জেএস শিমায়ুকি এবং জেএস কাশিমা ওই মহড়ায় যোগ দিয়েছিল বলে খবর।

মালাবারে এই বার্ষিক নৌসেনা মহড়া তথা মালাবার এক্সারসাইজ আগে ছিল ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক নৌসেনা মহড়া। পরে জাপানও যোগ দেয় এই মহড়ায়। ২০১৭ সালে ভারত, জাপান ও আমেরিকা ত্রিপাক্ষিক নৌমহড়া হয় বঙ্গোপসাগরে। এই নৌসেনা মহড়ার পোশাকি নাম ছিল ‘মালাবার ২০১৭।’ ভারত মহাসাগর শুধু নয় চিনের নৌসেনার তৎপরতা লক্ষণীয় বঙ্গোপসাগরেও। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলযুদ্ধে চিনা ডুবোজাহাজের ক্ষমতা চিন্তার কারণ। চোরাগোপ্তা হামলা চালাতেই বেশি অভ্যস্ত তারা। এবছরও মালাবার এক্সারসাইজ হবে বঙ্গোপসাগরেই। সূত্রের খবর, ডুবোজাহাজের যুদ্ধকৌশল বিশেষভাবে অনুশীলন করা হতে পারে।

ভারত প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের একাধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছে। গালওয়ান সীমান্ত সংঘাতের আগেই ভারত মহাসাগরে ক্ষেপণান্ত্র প্রতিরোধী চিনা যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনার ব্যারি ও’ফ্যারেল বলেছিলেন, নৌ-সন্ত্রাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেজিং। আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতেই ভারত মহাসাগরে বিশেষ ব্যবসায়িক এলাকা (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ও আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি কয়েকটি চিনা জাহাজকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। বেজিং দাবি করেছিল, জলদস্যু দমনের জন্যই নামানো হয়েছিল ওই জাহাজগুলিকে। কিন্তু ভারতীয় নৌসেনার নজরদার বিমানে ধরা পড়ে চিনা জাহাজগুলিকে ঘিরে রেখেছে পিপল’স লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) যুদ্ধজাহাজ। ভারত মহাসাগরে ভারতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা বরাবরই নজরে রয়েছে বেজিংয়ের। এর আগে বহুবার ওই বিশেষ এলাকা ও আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে চিনের একাধিক রণতরীকে। এইসব রণতরীগুলির সঙ্গে বেশিরভাগ সময়েই থাকে ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ডক। কৌশলে নজর এড়িয়ে হানা দেয় চিনা সাবমেরিনও। গোয়েন্দাদের রিপোর্ট বলছে, ২০১৩ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ভারত মহাসাগরে আটটিরও বেশি ডুবোজাহাজ পাঠিয়েছে চিন। যার মধ্যে পরমাণু শক্তিচালিত আক্রমণকারী ডুবোজাহাজও ছিল।

You might also like